সুন্দরবন রক্ষা করুন by মোঃ সোহরাব হোসেন বিটুল ও মোঃ শাহ আহমাদুল হাসান রাজু

বর্তমানে সুন্দরবন হুমকির মুখে। প্রতিনিয়ত ধ্বংস করা হচ্ছে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে এর জীববৈচিত্র্য। তাই বনবিদ্যার শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা মনে করি, সুন্দরবনকে পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্য নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পক্ষে প্রচারণার পাশাপাশি সুন্দরবনকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ব্যাপক প্রচারণা চালানো এবং সুব্যবস্থা নেওয়া উচিত।


কারণ সুন্দরবনকে পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্য নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পক্ষে যতটা প্রচারণা চালানো হচ্ছে, ততটা পদক্ষেপ সরকারের পক্ষ থেকে সুন্দরবনকে রক্ষা করতে নেওয়া হচ্ছে না। সুন্দরবনে একদিনে ছয় রকমের বেশি পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। খুব ভোরের দিকে একরকম, সকালে আরেক রকম, দুপুরে অন্য রকম, সন্ধ্যায় ও রাতে আরেক রকম এবং জোয়ারের সময় ও ভাটার সময় ভিন্ন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের জন্য এটি আশীর্বাদস্বরূপ। কিন্তু এ সুন্দরবনের দিকে সতর্ক দৃষ্টি না রাখলে ভবিষ্যতে তা আমাদের জন্য অভিশাপের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
সুন্দরবন একটি গতিশীল ও সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের আধার। সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে প্রায় ৪০০-এর মতো নদী, খাল ও বিল প্রবাহিত হয়েছে, যা বনের মধ্যে জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে। নদী বা খালগুলো সুন্দরবনকে অসংখ্য ক্ষুদ্র ও বৃহৎ অংশে বিভক্ত করেছে। পরিতাপের বিষয় হলো, সুন্দরবনের জাতীয় সম্পদ আজ ধ্বংস হচ্ছে কতিপয় অসাধু, অবিবেচক এবং চতুষ্পদ জন্তুর মতো বিবেকহীন মানুষের যোগসাজশে। যে বনের সঙ্গে একটি দেশের, একটি জাতির অস্তিত্বের সম্পর্ক রয়েছে তা চোখের সামনে ধ্বংস হতে দেওয়া যায় না। বর্তমানে বিভিন্ন পত্রিকার দিকে নজর দিলে দেখা যায়, প্রতিনিয়ত এ বন থেকে বিভিন্ন রকম গাছ কেটে পাচার করা হচ্ছে। এ ছাড়াও হরিণ শিকার, বাঘ হত্যা, এমনকি কীটনাশক দিয়ে মাছ নিধন করা হচ্ছে অবাধে। কিন্তু এ ব্যাপারে সরকার, সরকারের পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বন কর্মকর্তারা সবসময় উদাসীন মনোভাব পোষণ করেন। এভাবে আর কত দিন চলতে পারে?
সুন্দরবন একটি জটিল 'ইকোসিস্টেম' তথা বাস্তুতন্ত্রের মাধ্যমে গতিশীল। এর যে কোনো একটি উপাদানের ক্ষতি কিংবা ধ্বংস সাধন করার অর্থ হচ্ছে সব 'ইকোসিস্টেমের' ক্ষতিসাধন করা। বিষ দিয়ে মাছ নিধনের ফলে অনেক জলজ প্রাণী যেমন সরীসৃপ, কাঁকড়া জাতীয় প্রাণী (আর্থপ্রোডা) ও বিভিন্ন ধরনের জলজ কীটপতঙ্গ মারা যাচ্ছে এবং বিনষ্ট হচ্ছে এদের আবাসস্থল। অন্যদিকে জলজ প্রাণীর ওপর নির্ভরশীল বিভিন্ন প্রজাতির পাখি খাদ্যের অভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। আবার কীটনাশকযুক্ত নদীর পানি জোয়ারের কারণে বনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। যার ফলে ঘাস, লতা-পাতা, ফলমূল না জন্মানোর কারণে তৃণভোজী প্রাণী হরিণের স্বাভাবিক প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট হচ্ছে। স্বাভাবিক সংখ্যার হরিণ না থাকলে হরিণের ওপর নির্ভরশীল বাঘের সংখ্যা কমে যাবে। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, জীববৈচিত্র্যের কী পরিমাণ ক্ষতিসাধিত হচ্ছে। বর্তমানে সুন্দরবনে ১৫টি সক্রিয় বনদস্যু বাহিনী রয়েছে। যারা সুন্দরবনের ধ্বংসের জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। এ বনদস্যুদের কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। সুন্দরবনের আরেকটি মূল্যবান সম্পদ হলো রয়েল বেঙ্গল টাইগার, যা বর্তমানে পৃথিবী বিখ্যাত। বিগত বছরের বাঘশুমারি অনুযায়ী বাঘের সংখ্যা ৪৪০টি। এ সংখ্যা বর্তমানে স্বাভাবিক থাকলেও অদূর ভবিষ্যতে তা হুমকির সম্মুখীন হবে। যে কোনে ধরনের বন্যপ্রাণী হত্যা কিংবা শিকার বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে বন্যপ্রাণী আইন সংস্কার করতে হবে।
হ শিক্ষার্থী, ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপিল্গন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
 

No comments

Powered by Blogger.