স্বরূপকাঠির ব্যাট কারখানা-অদম্য নিলুফারের পাশে থাকুন

উপযুক্ত সহায়তা পেলে এ দেশে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা বারবার তাদের অপার সম্ভাবনার প্রমাণ রেখেছেন। এ ধরনের উদ্যোগে পুঁজি কম লাগে, বেশি শ্রমিকেরও প্রয়োজন নেই। অনেক উদ্যোগ পারিবারিক শ্রমের ভিত্তিতেই পরিচালিত হয়ে থাকে। গ্রামাঞ্চলে এ ধরনের উদ্যোগ প্রসারে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হয়, কর্মসংস্থানের নতুন রাস্তাও খুলে যায়।


এ ধরনের উদ্যোগ এগিয়ে নিতে হলে যে ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা প্রয়োজন তা কি উদ্যোক্তারা আমাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সবক্ষেত্রে লাভ করেন? দেশের সেরা ক্ষুদ্র শিল্প-উদ্যোক্তা হিসেবে পুরস্কারপ্রাপ্ত স্বরূপকাঠির প্রথম ক্রিকেট ব্যাট নির্মাতা নিলুফার ইয়াসমিনের বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন করে পদে পদে বাধার প্রাচীর দেখতে পাওয়া যায়। শুক্রবার সমকালের লোকালয় পাতায় প্রকাশিত এ সম্পর্কিত রিপোর্ট থেকে জানা যায়, এনজিওর অধিক সুদ, প্রয়োজনীয় কাঠের অভাব, বিদ্যুৎ সমস্যা, ডিজেলের চড়া মূল্যের কারণে তার প্রতিষ্ঠানটি এক সময় বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ফের ছেলের নামে জিপিএস হিসেবে জমা রাখা কিছু অর্থ এবং স্বজনদের কাছে ধারদেনা করে ফের ক্রিকেট ব্যাটের হাতল তৈরির একটি কারখানা স্থাপন করেন তিনি। এভাবে অদম্য নিলুফার ইয়াসমিন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। এক সময় তার উদ্যোগে উদ্বুদ্ধ হয়ে উপজেলার অনেক গ্রামে ব্যাট তৈরির কারখানা গড়ে ওঠে। এতে এক হাজারের বেশি লোকের কর্মসংস্থান হয়। একজন নারীর দৃঢ় মনোবল নিঃসন্দেহে তাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে। কিন্তু একই সঙ্গে বলা দরকার যে, সরকারি ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পাশে না দাঁড়ালে বিপন্ন হয়ে পড়তে পারে এ ধরনের অনেক প্রতিষ্ঠান। উদ্যোক্তাদের জন্য সহজশর্ত ও কম সুদ-হারের ঋণের ব্যবস্থা করাও অপরিহার্য। প্রয়োজনে তাদের দক্ষ শ্রমশক্তি জোগাতে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। উৎপাদিত পণ্যের জন্য দেশি-বিদেশি বাজারের সন্ধান দিয়েও সহায়তা করতে পারে। নিলুফার ইয়াসমিনের মতো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা যাতে হতোদ্যম হয়ে না পড়েন, সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ এ ধরনের উদ্যোক্তারা আমাদের অর্থনীতির সঞ্জীবনী শক্তি জোগায়।
 

No comments

Powered by Blogger.