ডিজিটাল পদ্ধতি অ্যানালগ ভোগান্তি

ভোগান্তি কমাতে রাজধানীর সরকারি স্কুলে অনলাইনে ভর্তি কার্যত্রুম শুরু হলেও ভোগান্তি কমেনি একটুও। বরং ডিজিটাল পদ্ধতিতে চলছে অ্যানালগ ভোগান্তি। ২রা ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া রাজধানীর ৩২টি সরকারি স্কুলে চালু হয়েছে অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরম পূরণ করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন অভিভাবকরা। বারবার চেষ্টা করেও সংশ্লিষ্ট সার্ভারে না ঢুকতে পেরে অনেকেই ফিরে গেছেন। গত তিন দিন চেষ্টা করেও অনেকেই অনলাইনে ফরম পূরণ করতে পারেনি। তাদের অভিযোগ, আগে স্কুলে লাইনে দাঁড়াতে হতো এখন কম্পিউটার দোকানে। বৃহস্পতিবার রাজধানী কয়েকটি স্কুলে গিয়ে ভোগান্তি চিত্র চোখে পড়েছে। বাধ্য হয়ে গতকাল শুত্রুবার অনেকেই অনলাইনে ভর্তির আবেদন করেছেন। অনলাইন জটিলতার কারণে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা জানান, আবেদনকারীর ছবি আপলোড ও বিকাশে ফরমের মূল্য পরিশোধে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ব্যর্থ হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছেন, এই পদ্ধতিতে প্রথমবার হওয়ায় কিছুটা সমস্যা হয়েছে। টেকনিক্যাল সমস্যা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামী ১২ই ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত----ওয়েব ঠিকানায় ভর্তির আবেদন করা যাবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানী আজিমপুর, নীলক্ষেত, পুরানা পল্টনসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেল, ভর্তির আবেদন করার এই সরকারি ওয়েবসাইটটি দিনভর ছিল ত্রুটিপূর্ণ। বারবার চেষ্টা করেও সার্ভারে ঢুকতে পারেনি। হঠাৎ করে ঢুকতে পারলেও কোন আবেদনপত্র পূরণ করার আগে আবার সার্ভার চলে যায়। দিনভর এই আসা-যাওয়ার খেলায় কম্পিউটারের দোকানদাররা ভর্তির আবেদন ফরম পূরণ করেনি। তবে কোন কোন এলাকায় পাঁচ-দশ মিনিটেও ফরম পূরণ করা গেছে বলে জানা গেছে। নীলক্ষেতে মেয়েকে আজিমপুর সরকারি স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ফরম পূরণ করতে এসেছেন ফাহিমা বেগম। তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে বলেন, বাসায় বারবার চেষ্টা করে ওয়েবসাইটে ঢুকতে পারেনি। বাধ্য হয়ে নীলক্ষেত্র এসেছি। এখানেও একই অবস্থা। ওয়েবসাইটে আবেদনকারীর ছবি আপলোড করতে পারছে না। আবার অনেকেই বিকাশে ফরমের মূল্য পরিশোধ করতে গিয়েও বিপাকে পড়ছেন। দোকানিরা জানান, সারা দিন সরকারি ওয়েবসাইটটি কিছুক্ষণ পরপর অকার্যকর হয়ে পড়ে। স্বাভাবিকভাবে ফরম পূরণ করা যাচ্ছে না। তাই ফরম পূরণের কাজ বাদ দিয়েছি।
তবে রাত ১০টার পর আবেদনপত্র গ্রহণ করে বলে জানান দোকানিরা। তখনও তো কাস্টমার থাকে না। যাদের ইমারজেন্সি তাদের বলে দেয় আপনাদের তথ্য ও ছবি আমাদের কাছে দিয়ে যান রাতে করে রাখবো। অনেকেই দিয়ে যায় আবার অনেকেই দেয় না। তবে এটা কেন হচ্ছে তার কোন ব্যাখ্যা দিতে পারেনি ওই দোকানিরা। কম্পিউটার অপারেটররা জানান, সরকারি ওয়েবসাইটে ইন্টারনেট গতি (ব্যান্ডউইথ) কম হওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। এজন্য অনলাইন ভর্তি শুরু হলেও ভোগান্তি পিছু ছাড়ছে না। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, একই সময় অনেকে এই সার্ভারে ঢুকার কারণে এটা অকার্যকর হয়ে যাচ্ছে। এটা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চালাচ্ছে মাউশি।
অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ ও জমা নেয়ার কাজটির তদারকির দায়িত্ব পালন করা করপোরেট সিস্টেম সলিউশনের প্রধান নির্বাহী সরদার আনিছ আহমেদ জানান, কিছু এলাকায় সমস্যা হচ্ছে শুনেছি। বিষয়টি দ্রুত সমধান করার চেষ্টা করছি। সবাই একসঙ্গে ঢুকতে চাচ্ছে এ জন্য বারবার সার্ভার ফেল করছে। তিনি জানান, গত দুইদিনে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা নাগাদ অনলাইনে আবেদনের সংখ্যা ১৬ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। আবেদন করার সঙ্গে সঙ্গে বিকাশেও টাকা পরিশোধ করে দিচ্ছেন আবেদনকারীরা। যদিও টেকনিক্যাল কারণে বিকাশের মাধ্যমে টাকা জমা হতে সময় লাগছে। তবে অভিভাবকরা পরিশোধ করার সঙ্গে সঙ্গেই অনলাইনে তা দেখা যাচ্ছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (মাধ্যমিক) একেএম মোস্তফা কামাল বলেন, অনলাইনে আবেদনের কিছু সমস্যা হচ্ছে শুনেছি। প্রথমবার পদ্ধতি চালু করার কারণে এমনটি হয়েছে। কারিগরি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বসে শিগগির সমস্যাগুলোর সমাধান করা হবে। গত বছর রাজধানীর ২৯টি সরকারি মাধ্যমিক স্কুলে ভর্তির জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রায় ৭০ হাজার আবেদন জমা পড়েছিল। এবার গুচ্ছ পদ্ধতিতে ঢাকা মহানগরের ৩২টি স্কুলে একযোগে ভর্তির আবেদন নেয়া হচ্ছে। প্রথম  শ্রেণীতে ভর্তির জন্য লটারি হবে ২৭শে ডিসেম্বর। প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হওয়া যাবে এমন বিদ্যালয় ১৪টি। দ্বিতীয় থেকে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত ভর্তির ক্ষেত্রে পরীক্ষা নেয়া হবে। ৩২টি বিদ্যালয়কে তিনটি গুচ্ছ করে যথাক্রমে ১৭, ১৮ ও ২০শে ডিসেম্বর পরীক্ষা নেয়া হবে। এসব বিদ্যালয়ে ভর্তি নেয়া হবে প্রায় ৮ হাজার আসনে।

1 comment:

  1. ডিজিটাল পদ্ধতিতে চলছে দেশ বললেই হয় না। ডিজিটাল বাংলাদেশ বলার আগে সব কিছু ডিজিটাল করতে হবে। সাদারন সার্ভার উন্নত করতে হিমশিম খেতে হয় এই কারনে আমাদের মত মানুষ কতটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

    ReplyDelete

Powered by Blogger.