হুমায়ূন by আন্দালিব রাশদী

লেখকদের মধ্যে আমার অপছন্দের শীর্ষের স্থায়ী আসনটি হুমায়ূন আহমেদের। অপছন্দের আরও কেউ কেউ আছেন, কিন্তু তাঁদের নাম শুনলেই মেজাজ খারাপ হয় না।
হুমায়ূন আহমেদ নামটাই মেজাজ বিগড়ে দেয়; এতটাই বিগড়ে দেয় যে ৪৮ ঘণ্টা পরও তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে না।
আমার একটি বইয়ের জন্য বেশ ভালো অর্থমূল্যের একটি সাহিত্য পুরস্কার ম্যানেজ করার পর হুমায়ূন আহমেদের ওপর ক্রোধটা আরও বেড়ে যায়। আমার পুরস্কার প্রাপ্তির বিষয়টি লাল ফিতায় ছাপিয়ে তাতে দৈর্ঘ্যে-প্রস্থে বইটিকে বাঁধা হলো। আমার ছবির নিচে অভিনন্দন লিখে প্রকাশক একটি পোস্টার এবং কিছু প্রচারপত্র ছাপালেন। পোস্টার লাগল দোকানের দেয়ালে, ক্যাশবাক্স বরাবর। প্রচারপত্রের বড় অংশটাই আমার কাছে গছিয়ে দিয়ে বললেন, বন্ধুবান্ধবদের দেবেন, বলবেন যেন বই কিনতে আসে। কিনে বই পড়ার মজাই আলাদা। বইয়ের ওপর মালিকানা প্রতিষ্ঠিত থাকে।
আমার প্রকাশক বলেছেন, পুরস্কারপ্রাপ্ত গ্রন্থটির ৫০০ কপি ছেপেছেন, তার ২০০ কপি বাঁধাই করেছেন, মেলায় এনেছেন ২৫ কপি, এর মধ্যে আপাতত পাঁচ কপি আমার। পুরস্কারের জন্য আগেই পাঁচ কপি বই জমা দিতে হয়েছিল। ২০০ কপি শেষ হলে বাকি ৩০০ দ্বিতীয় মুদ্রণ হিসেবে চালিয়ে দেবেন। বলা অবশ্যই বাহুল্য, প্রকাশক পুরো কাজই করেছেন আমার টাকায়। পোস্টার ও প্রচারপত্র আমার টাকায় এবং লাল ফিতাও আমার টাকায়। টাকা দিতে আমার অনিচ্ছা তাঁকে মোটেও পীড়িত করেনি। তিনি খোলামেলাই বলেছেন, বিয়ে করবেন কিন্তু বউয়ের খরচ জোগাবেন না, বালবাচ্চার খোরাকি দেবেন না, এটা তো হয় না। বই বের করেছেন, লেখক হয়েছেন, পুরস্কার পেয়েছেন—এটা তো আর গোপন কিছু নয়, বিয়ের মতোই প্রকাশ্য। নামটাকে এখন টিকিয়ে রাখতে হলে আপনাকে খরচ করেই যেতে হবে। এটা বাজেটের প্রতিরক্ষা খাতের মতো প্রায় গোপনীয় একটা ব্যাপার। টাকা খরচ করে যাবেন, টাকার পরিমাণ বছর বছর বাড়তে থাকবে, বছরে একবার প্রতিরক্ষা মহড়া হবে।
তিনি বললেন, লেখক হয়েছেন, বুদ্ধিজীবী হিসেবে নামডাক হচ্ছে, পুরস্কার পেয়েছেন, উত্তরীয় পরেছেন, ভবিষ্যতে আরও পুরস্কার পাবেন। তখন নিজেকে রক্ষা করতে হবে না? সে জন্যই তো প্রতিরক্ষা বাজেট।
বুঝলেন শরিফ ভাই, হুমায়ূন স্যার হলে অবশ্য আলাদা কথা। পাঁচ লাখ টাকা হাতে নিয়ে দেড় মাস দখিন হাওয়া আর নুহাশপল্লীতে ঘুরোঘুরি করেছি, পাইনি। ১০ দিয়ে পাণ্ডুলিপি নিয়ে গেল হায়দার আলী। তাতেও পোষায়। আপনাদের তো বুদ্ধিভারাক্রান্ত উপন্যাস, বোঝেনই তো ভাই।
আমি ভাই, আর হুমায়ূন স্যার!
আমিও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছি, আমিও পিএইচডি, তবু আমি ভাই আর তিনি স্যার। কী চমৎকার প্রতিরক্ষা বাজেটের সবক দিয়ে গেলেন আমার প্রকাশক। নাম টিকিয়ে রাখার জন্য আমাকে কেবল খরচই করে যেতে হবে আর তিনি কেবল অস্ত্র আর গোলাবারুদ বেচেই যাবেন, আমাকেও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনতে হবে তাঁর কাছ থেকেই।
আমি একা নই, প্রায় ২০ জন, সঠিক হিসাবে আমরা ১৮ জন তাঁকে অপছন্দ করি, তাঁর হাত থেকেই বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে রক্ষা করতে চাই—আমরা প্রাথমিকভাবে হুমায়ূন আহমেদ ফ্যান ক্লাবের বিপরীতে হুমায়ূন আহমেদ হেইটার্স ক্লাব গঠনের সিদ্ধান্ত নিই—উই হেইট হিম, আমরা তাঁকে ঘেন্না করি।
আমাদের বয়োজ্যেষ্ঠ সুকুমার মিত্র বললেন, তাতে তাঁর বই বিক্রি আরও বেড়ে যাবে, কারণ, ঈর্ষার কারণে মিডিয়া, বিশেষ করে প্রিন্ট মিডিয়ার সাহিত্য সম্পাদকেরা আমাদের ভালো কভারেজ দেবেন। তাতে লোকটির নাম আরও প্রচারিত হবে, যারা কখনো তাঁর বই পড়েনি, তারাও পড়ার জন্য একটা-দুটো করে কিনতে শুরু করবে।
হুমায়ূন আহমেদের কারণে সংসারে সংকট বাড়তে থাকে। আমার স্ত্রী কোয়েল তপ্ত অপরাহে দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে হুমায়ূন আহমেদের অটোগ্রাফ নিয়ে বাসায় ফেরে। বইয়ের নাম হলুদ হিমু কালো র‌্যাব। অথচ কোয়েল কী চমৎকার রবীন্দ্রসংগীত গায়। ধ্রুপদ সুরের সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ক, তাহলে হুমায়ূন আহমেদ কেন?
আমি বলি, কোয়েল, তোমার রুচি!
কোয়েল বলে, তুমিও নিশ্চয় ভালোই লেখো, কিন্তু আজ পর্যন্ত কাউকে তোমার কথা বলতে শুনতে পেলাম না যে?
কী করে শুনবে যাদের সঙ্গে তোমার ওঠাবসা, তারা আমার বই পড়ে কিছু বুঝলে তো?
তোমার বই বদরুন্নেসা কলেজের আমার এক কলিগকে দিয়েছিলাম, পরদিনই ফেরত দিয়ে বলল, তার বিদেশি ভাবির রান্না করা বিস্বাদ খাবার নাকি ডেকে ডেকে একজন কানা ভিক্ষুককে দেওয়া হতো। এক-দুনলা মুখে পুরে বাকিটা ফিরিয়ে দিয়ে বলত, বেগম সাহেব, ফ্রিজে রেখে দেন। যেদিন কোনো খাবারই পাব না, নিজেই এসে বলব, আর কিছু না থাকলে ওই খাবারটা দেন।
তার মানে?
আমি অবশ্য নাদিরাকে বলিনি তুমি আমার, মানে রাইটার আমার হাজব্যান্ড। তাহলে হয়তো আরও বেশি খোঁচা দিত।
আমি রাগ সামলাতে না পেরে জিজ্ঞেস করি, ওই যাচ্ছেতাই লিখিয়ে হুমায়ূন আহমেদ তোমার হাজব্যান্ড হলে ভালো হতো?
কোয়েলের সঙ্গে আমার সংসারটা শেষ পর্যন্ত ভাঙেনি। স্বীকার করেছে, এই বয়সে হুমায়ূনের অটোগ্রাফের জন্য রোদে দাঁড়িয়ে থাকা ঠিক হয়নি, ভবিষ্যতে আর কখনো যাবে না।
যে বার মেলায় হুমায়ূন আহমেদের বই অবলীলায় ১১ হাজার বিক্রি হলো, লেখক কপির পাঁচটিসহ প্রকাশকের স্টক থেকে আমার কমল ১৩টি বই—আনলাকি থার্টিন। লেখক হিসেবে ফোরটি পার্সেন্ট কমিশনে কোয়েলকে কিনে দিয়েছি দুটি বই, আমার বড় মেয়ে মাশা তার বন্ধুকে (বয়ফ্রেন্ড!) দিয়ে কিনিয়েছে একটি, আমার ক্লাসমেট পুলিশের ডিআইজি মামুনের স্ত্রীকে মেলায় পেয়ে বললাম, ভাবি, আমার বই বেরিয়েছে।
তাই নাকি, তাই নাকি, দেখি কোথায়—বলতে বলতে আমাকে অনুসরণ করে দোকান পর্যন্ত এলেন এবং ভেতরের সেকেন্ড ফ্ল্যাপে আমার ছবিটা দেখে বললেন, বেশ ইয়াং লাগছে শরিফ ভাই। যাকগে, বাসায় বই পাঠিয়ে দেবেন। এখান থেকে কিনলে হাতের টাকা কম পড়ে যাবে, বোঝেনই তো, হুমায়ূন আহমেদের ১১টা বই দুই সেট কিনতে হবে—এক সেট যাবে টরন্টোতে মামুনের কাজিন মামনুলের বাসায়, এক সেট দেব আইজি ভাইয়ের ওয়াইফকে। ভাবির টেস্ট আছে, সাবান-সোডা এসব উপহার নেন না।
আমি তিতকুটে কণ্ঠে জিজ্ঞেস করি, আপনি ওসবের এক সেট নেবেন না?
তিনি বললেন, বই রাখতে গেলে আমার শো-পিস রাখার স্পেস কমে যাবে, তা ছাড়া টেক্সট বইয়ের বাইরে কোনো বই আমি জীবনেও পড়িনি। এসব প্রয়োজনীয় হলে তো পাঠ্যই হতো। থাক ভাই, আপনি লেখক মানুষ, হুমায়ূন আহমেদের নিন্দা আপনি সহ্য করতে পারবেন না। আমার বড় বোনের ছেলে তানভীর হুমায়ূন আহমেদের বই রাখার জন্য আলমারি কিনে ড্রইং রুমের শোকেস পাঠিয়ে দিয়েছে করিডরে। আমার বোনের তো কষ্টের শেষ নেই। মিলান, ইস্তাম্বুল, ব্যাংকক আর দিল্লি থেকে নিজের হাতে বেছে বেছে এসব কিনেছে, এখন চোখ মুছে আর বলে, তার ছেলে নাকি হিমু হয়ে গেছে।
হিমু?
আরে, হিমু মানে পাগল। মাথায় গন্ডগোল ঘটেছে।
আমার দুজন পরিচিত সাংবাদিকের একজন বলেছে, রিভিও করিয়ে দেবে, সে নিয়েছে দুই কপি, আর কাভারের ছবি ছেপে দেওয়ার নাম করে একজন নিয়েছে এক কপি। আমার নিউটোরিয়াল গ্রুপের ছাত্রী মাহিন খান কিনেছে এক কপি, অটোগ্রাফও নিয়েছে।
আমার আর একটি বই কে কিনল, এত দিনেও তাকে শনাক্ত করতে পারিনি। অবশ্য আমার সব পাঠক ও ভক্তকেই যে আমার চিনতে হবে, এটার তো তেমন বাধ্যবাধকতা নেই।
মাহিন খান না বললেও পারত, হয়তো আমাকে খুশি করার জন্যই বলে ফেলল, স্যার, হুমায়ূন আহমেদের সাতটা কিনেছি।
তারপর আমার বইয়ের পাতা উল্টে বলল, স্যার, আর তিন বছর প্র্যাকটিস করলে আপনিও হুমায়ূন আহমেদের মতো লিখতে পারবেন।
তিন বছর লাগবে?
মাহিন বলল, স্যার, আপনি জিনিয়াস। অন্য কারও ১০ বছরেও হতো না। আপনার তিন বছরেই হয়ে যাবে। তা ছাড়া আপনিও নাকি পলিমার কেমিস্ট্রি পড়েছেন। আপনিও তো আমেরিকায় পিএইচডি করেছেন।

দুই
হুমায়ূন আহমেদ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। আমার তিন মেয়ে মাশা, শাশা এবং আশা ঘরের দরজা বন্ধ করে কাঁদছে। কোয়েল বলল, সারা দিন কেউ কিছু খায়নি।
মাশা বলেছে, দেশে কি মরার মতো লেখকের কোনো অভাব ছিল? হুমায়ূন আহমেদ কেন?
শাশা বলেছে, হুমায়ূন আহমেদের যদি কিছু হয়, তাহলে সে আত্মহত্যা করবে।
আশা বলেছে, প্রশ্নই আসে না, হুমায়ূন আহমেদ মরতে পারেন না।
খোকন কোথায়? আমাদের একমাত্র ছেলে খোকন।
হলদে পাঞ্জাবি পরে খালি পায়ে বেরিয়ে গেছে। বলে গেছে, বাবা যদ্দিন বেঁচে আছে, আর ফিরবে না। বড্ড বাড়াবাড়ি, তাই না?
আসলেই বাড়াবাড়ি। কী ছাইপাশ তিনি লিখেছেন!
আমি বলি, কোয়েল, তুমি শাশার দিকে নজর রেখো। ওরটা কিন্তু আত্মহত্যারই বয়স। নিজে মরবেন তো মরেন, ওখান থেকে অন্যদের মরার প্ররোচনা দিচ্ছেন কেন?
রাতে যখন বেডরুমে শুতে আসি, অস্পষ্ট যেটুকু দেখি তাতে মনে হয় কোয়েল বালিশের নিচে কিছু একটা লুকাচ্ছে।
প্রেমপত্র নয়তো? আমাদের প্রফেসর খালেদ ইমামের স্ত্রী কেবল এমএসসি পাস করা শাহরিয়ারের সঙ্গে ভেগে গেছে।
সতর্ক আমাকেও হতে হবে।
কোয়েল যখন গভীর ঘুমে, আমি সতর্ক হাতে তার বালিশের নিচ থেকে লুকানো জিনিসটা বের করে আনি।
সন্তর্পণে বাথরুমের আলোয় সুইচ অন করি। দেখি, হুমায়ূন আহমেদের অটোগ্রাফ দেওয়া সেই বইটা।
আমি অটোগ্রাফ দেওয়া পাতাটা ছিঁড়ে আট টুকরা করে কোয়েলের গায়ে ছুড়ে মেরেছিলাম।
আমি বইয়ের পাতা উল্টাই। কোয়েল ছেঁড়া টুকরাগুলো বইয়ের ভেতর রেখে দিয়েছে।
অপ্রয়োজনেই কমোডে বসি। দু মিনিট পর ফ্লাশ টেনে নিঃশব্দে বিছানায় আসি। বইটা আগের জায়গায় ঢুকিয়ে রেখে যখন হাতটা টেনে আনি, ভেজা গলায় কোয়েল জিজ্ঞেস করে, তুমি কি ছেঁড়া পাতাটা কমোডে ফেলে ফ্লাশ করলে?
আমার মুখ থেকে আর কোনো শব্দ সরল না। কোয়েল ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে শুরু করল। যত বুকফাটা কান্নাই হোক, ফোঁপানো একসময় থেমে আসে। কোয়েল নিশ্চয় ঘুমিয়ে পড়েছে। কোনটা কোয়েলের ঘুমিয়ে পড়া আর কোনটা জেগে থাকা, আমি বুঝতে পারি না। বইটা যখন টেনে নিই, আমি তো ঘুমন্তই ভেবেছিলাম।
নিউইয়র্কের বেলভিউ হাসপাতাল থেকে হুমায়ূন আহমেদ যদি না-ই ফেরেন, তো কী এসে যায়? আমাদের, বুদ্ধিজীবীদের কিছুই এসে যায় না। মানুষটি একাই আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। আমরাও তাঁর হাত থেকে বাঁচতে চাই। আমাদের দু-চারটা বই যা-ও বিক্রি হতো, হুমায়ূনের বই আমাদের বই বাজার থেকে সরিয়ে দিয়েছে। আমার মেয়েদের বুকশেলফের ওপরের দুটি তাকের পুরোটাই তাঁর বইয়ে ঠাসা। কোয়েলের কোনো বুকশেলফ নেই, কিন্তু তার বুকে হুমায়ূনের নিঃশ্বাস। আমার ঘুম ভাঙে অদ্ভুত এক মৃত্যুপুরীতে। মাশা, শাশা, আশা—কেউ পরি, কেউ মিলি, কেউ তিতলি হয়ে আমাকে ভেংচি কেটে যাচ্ছে।
পরোটা ডিম আর আলু-পেঁপে মেশানো ভাজি নিয়ে কোয়েল যখন নাশতার টেবিলে, আমি না তাকিয়ে নাশতা সেরে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তই নিয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎ চোখাচোখি হওয়ার পর কোয়েলের চোখে কৃতজ্ঞতার ঝলকানি দেখতে পেলাম। আমি যে অটোগ্রাফের ছেঁড়া টুকরাগুলো যেমন ছিল তেমন রেখেছি, কমোডে ফ্লাশ করিনি, কৃতজ্ঞতা সে জন্যই।
শোকের মহানগরে নিজেকে খুব বেমানান লাগতে থাকে।

তিন
টেলিভিশনের পর্দায় শুধু হুমায়ূন আহমেদ আর শোকার্ত মানুষের মিছিল দেখতে দেখতে আমি যখন ক্লান্ত, তাঁর লাশ এনে রাখা হয় শহীদ মিনারে। আমি অবাক হয়ে দেখি আমি যাদের হুমায়ূন হেইটার্স ক্লাবের উপদেষ্টা ভাবতাম, তারাই লাশের পাহারাদার।
হঠাৎ আমার মন ভালো হয়ে গেল। প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়লে চলবে না। আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে চলে যাই। কনুই দিয়ে ঠেলে লাশের পাশে প্রথম কাতারে আমার মাথাটা ঠেলে দিই। ভারী গলায় ধারা বর্ণনা আমার কানেও আসে: পাশে দাঁড়িয়ে আছেন...এবং...এবং বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবী শরিফুল ইসলাম।
আমি নিজেকে আবার আশ্বস্ত করি—বাবার এ ছবি দেখলে খোকন অবশ্যই বাড়ি ফিরে আসবে, মাশা আত্মহত্যার কথা ভুলে যাবে; কোয়েল আমার স্ত্রী আরও নিশ্চিত হবে, এতকাল একজন নিখাদ ভণ্ডের সঙ্গেই সংসার করে আসছে।

No comments

Powered by Blogger.