অন্য দুনিয়া প্রতীকের জগৎ

চিত্রকর্মে আঁকা থাকে কত শত জিনিস। শিল্পী ও শিল্পসমালোচকদের মতে, একটি চিত্রকর্মের প্রতিটি উপাদানেরই আছে ভিন্ন ভিন্ন মানে। একেকটি উপাদান একেক বিষয়ের ইঙ্গিত বহন করে।
এবার তেমনই দুটি জিনিসের ব্যাখ্যা দেখুন—

পিঁপড়া
অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের প্রতীক পিঁপড়া। ভারতীয় পুরাণে এই পতঙ্গটি যাবতীয় জীবিত প্রাণীর মধ্যে নশ্বরতার প্রতীক। দূরদর্শী ও পরিণামদর্শী হিসেবেও উঠে এসেছে অনেক শিল্পীর কল্পনায়। সংখ্যাধিক্যের কারণে অসুবিধাজনক হিসেবেও দেখা গেছে অনেক ক্ষেত্রে। দলবদ্ধ মানুষ বোঝাতেও পিঁপড়াকে এঁকেছেন অনেকে। হঠাৎ করে পিঁপড়ার সংখ্যা বৃদ্ধি মানে যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠা।

দেবদূত
অনেকেই বিশ্বাস করেন, মানুষের চেয়েও উন্নত এবং আধ্যাত্মিক ক্ষমতাসম্পন্ন কিছু সৃষ্টি আছে পৃথিবীতে। বলা হয়, সৃষ্টিকর্তার বার্তাবাহক তারা। স্বর্গ এবং পৃথিবীর সমন্বয়কারী। চিত্রকর্মে দেবদূতের উপস্থিতি এসবই প্রকাশ করে মূলত। জ্বলন্ত তলোয়ার, তূর্য, রাজদণ্ড, বাদ্য-উপকরণ, লিলি ফুল ইত্যাদির মধ্য দিয়ে দেবদূতের প্রকাশ করা হয়। গোথিক আর্টে দেবদূতদের প্রকাশ করা হয়েছে নিরাপত্তাদানকারী ও মহত্তম রূপে।

গাধা
বিনয়, ধৈর্য এবং বোকামির মতো মানবিক গুণাবলির প্রকাশ গাধা। একগুঁয়ে, নাছোড়বান্দা এবং কখনো কখনো দারিদ্র্যের প্রতীকও এই চারপেয়ে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে শয়তানের প্রতীক হিসেবেও গাধাকে দেখা যায়। স্বপ্নে গাধা দেখা মানে মৃত্যুর বার্তাবাহক কিংবা ধ্বংসের নিশানা।
ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান ডটকম অবলম্বনে মাহফুজ রহমান

No comments

Powered by Blogger.