রূপালী ব্যাংকেও বড় কেলেঙ্কারি by আবুল কাশেম

সোনালী ব্যাংকে হলমার্ক কেলেঙ্কারি নিয়ে যখন তোলপাড় চলছে, তখন আরেক বড় অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনা ধরা পড়েছে দুর্বলতম রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক রূপালী ব্যাংকেও। মেসার্স বেনিটেক্স লিমিটেড, মাদার টেক্সটাইল মিলস ও মাদারীপুর স্পিনিং মিলস নামে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে অবৈধভাবে হাজার কোটি টাকারও বেশি ঋণসুবিধা দিয়েছে ব্যাংকটির একটি শাখা।


এর মধ্যে ৮০১ কোটি টাকা আদায়ের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলে আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তেই ধরা পড়েছে চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির এই ঘটনা।
জানা গেছে, নিয়মবহির্ভূতভাবে স্থানীয় বিলে স্বীকৃতি দেওয়া, একই হিসাবে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক হিসেবে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন করা, স্বীকৃত বিলের মূল্য মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও নতুন করে ব্যাক টু ব্যাক এলসি খোলার অনুমতি দেওয়াসহ নানাভাবে এই বিপুল অঙ্কের অর্থ লুটপাটে সহায়তা করেছে রূপালী ব্যাংকের ঢাকার লোকাল অফিস। এসব অনিয়মের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যাংকের চারজন কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করে তাঁদের শাস্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শকদল রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের লোকাল অফিস, ঢাকা কার্যালয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে প্রমাণ পেয়েছে- বেনিটেক্স, মাদার টেক্সটাইল মিলস ও মাদারীপুর স্পিনিং মিলসকে অনিয়মের মাধ্যমে বিতরণ করা ঋণের ৮০১ কোটি টাকা অপরিশোধিত রয়েছে। এই ঋণ শ্রেণীকৃত হলে ব্যাংকটি বিপুল পরিমাণ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে ব্যর্থ হবে। এসব গ্রাহক অর্থ পরিশোধ না করলেও নিয়মবহির্ভূতভাবে তাদের নতুন করে নানা ধরনের আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এমনকি কম সুদে ব্লকড হিসেবে রেখে দেওয়া হয়েছে গ্রাহকদের মোটা অঙ্কের ঋণ।
এসব অনিয়মের পেছনে ওই শাখার (লোকাল অফিস) মহাব্যবস্থাপক (জিএম) এস এম আতিকুর রহমান, সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মো. শহীদুল্লাহ এবং সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (এসপিও) এম এ গফুর ও শেখ ফরিদুল ইসলামকে দায়ী করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাঁদের মধ্য থেকে এস এম আতিকুর রহমানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত আর অন্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক শাস্তি নিশ্চিত করতে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম ফরিদ উদ্দিনকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এস এম মনিরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, রূপালী ব্যাংকের ঢাকার লোকাল অফিস পরিদর্শন করে মেসার্স বেনিটেক্স লিমিটেড, মাদার টেক্সটাইল মিলস ও মাদারীপুর স্পিনিং মিলসের ঋণে বড় ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেছে। এর সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করাসহ প্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানিয়েছে।
নিয়মবহির্ভূতভাবে দেওয়া ৮০১ কোটি টাকা আদায় করা সম্ভব হবে কি না- প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ জন্য রূপালী ব্যাংক প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।
রূপালী ব্যাংক থেকে বলা হয়েছে, গত বিএনপির আমলে কয়েকটি কম্পানিকে সুদমুক্ত 'ব্লক লোন'-এর সুবিধা দেওয়ায় এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আহমদ আল কবির বলেন, 'বর্তমান সরকারের আমলে বা বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হাত দিয়ে এ ধরনের একটি ঘটনাও ঘটেনি। বরং অতীতের পুঞ্জীভূত সমস্যা সমাধানে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। ঋণ পরিশোধে চাপ সৃষ্টির জন্য ইতিমধ্যে দুটি বড় ঋণকে আমরা শ্রেণীকৃত করেছি।'
ড. আহমদ আল কবির জানান, সমস্যার সূত্রপাত হয় ২০০৩/০৪ সাল থেকে, যখন ব্লক লোন চালুর মাধ্যমে কতগুলো কম্পানিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া শুরু হয়। তখন অনেক কম্পানিকে শূন্য সুদের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল ২০ থেকে ৩০ বছরের জন্য, যা ২০২১ এমনকি ২০৩১ পর্যন্ত কার্যকর। স্বাভাবিক নিয়মে ১০০ কোটি টাকা ঋণ নিলে ৩০ বছরে তা সুদসহ তিন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু ব্লক লোন সুবিধা পাওয়া কম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে এ সুদ যোগ হয়নি। ওই সময়ে নেওয়া অনেক ঋণ 'ফান্ডেড' হয়ে গেছে ২০০৬ সালের আগেই।
'এ সমস্যা আমাদের সৃষ্টি নয়। বরং আমরা এটি সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছি'- বললেন, রূপালী ব্যাংক চেয়ারম্যান। সাম্প্রতিক সময়ে নানামুখী প্রচারণায় ব্যাংক খাত সম্পর্কে জনমনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে- যা দেশের শিল্পায়ন, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা ড. আহমদ আল কবিরের।
নিয়মবহির্ভূতভাবে দেওয়া অর্থ আদায় করা সম্ভব হবে কি না, জানতে চাইলে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফরিদ উদ্দিন এই প্রতিবেদককে সরাসরি কোনো জবাব না দিয়ে বলেন, 'এটা মোটেই হলমার্কের মতো ঘটনা নয়। মাদার টেক্সটাইল, মাদারীপুর স্পিনিং মিল ও বেনিটেক্স প্রতিষ্ঠান তিনটি এলসি খুলে পণ্য আনলেও তা বিক্রি করে ব্যাংকে অর্থ জমা না দেওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আর প্রধান কার্যালয় থেকে শাখাগুলোকে যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা ভঙ্গ করে শাখার কর্মকর্তারা অতিরিক্ত এলসি (ঋণপত্র) নিয়েছেন। তা ছাড়া ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান তিনটি নানা অসুবিধার কারণে দীর্ঘদিনেও তা পরিশোধ করতে পারেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী তিন কম্পানির মোট ৮০১ কোটি টাকার মধ্যে ৩০০ কোটি টাকার মতো শ্রেণীকৃত (খেলাপি) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।' ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, 'আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ মোতাবেক দোষী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যাংকের নিজস্ব আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।'
মাদার টেক্সটাইল মিলসের প্রধান কার্যালয় ঢাকার মতিঝিলের সেনাকল্যাণ ভবনে। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির টেলিফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে একজন কর্মকর্তা এ বিষয়ে কোনো কিছু বলতে রাজি হননি। তাঁর কাছে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ফোন নম্বর চাইলে তাও দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।
মাদারীপুর স্পিনিং মিলের ওয়েবসাইটে ঢুকে দেখা যায়, সেখানে কে পি সাহা ও ফরহাদ মিয়া নামে দুই কর্মকর্তার মোবাইল ফোন নম্বর রয়েছে। যোগাযোগের চেষ্টা করলে দুটি নম্বরই বন্ধ পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটিতে ফোন করলেও কেউ ধরেননি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মেসার্স বেনিটেক্স লিমিটেডকে একই হিসাব ব্যবহার করে রপ্তানিকারক ও আমদানিকারক হিসেবে ২১ লাখ ৪৮ হাজার ৪০৪ ডলার লেনদেন করার সুযোগ দিয়েছে রূপালী ব্যাংকের লোকাল অফিস শাখা। প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনা ও ব্যাংকিং রীতিনীতি লঙ্ঘন করে প্রতারণার মাধ্যমে এ কাজ করা হয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এর মাধ্যমে রূপালী ব্যাংককে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে। বেনিটেক্সের স্থানীয় বিলে স্বীকৃতি দেওয়ার পর কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১৯ মাস পার হলেও বিলমূল্য পরিশোধ করা হয়নি। এভাবে গত ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত একই শাখা থেকে বেনিটেক্স নামের প্রতিষ্ঠানটির ১৩৭টি বিলের বিপরীতে ৪৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা অপরিশোধিত রয়েছে।
মেসার্স বেনিটেক্স লিমিটেডের আগের নাম হারভেস্ট রীচ লিমিটেড। ২০১০ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির প্রচুর সংখ্যক বিলে স্বীকৃতিদানের পর বিলের মূল্য পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক বারবার তাগাদা দিয়েও সব টাকা উদ্ধার করতে পারেনি। ফোর্সড লোন সৃষ্টি করে ২৭ কোটি টাকা সমন্বয় করা হলেও এখনো বাকি রয়েছে ১৫ কোটি টাকা। তা সত্ত্বেও নানা অনিয়মের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে শতাধিক স্থানীয় ব্যাক টু ব্যাক এলসি খোলা হয়েছে। গত বছরের ১৭ আগস্ট ছয় লাখ ৯৬ হাজার ডলার মূল্যের বিবি এলসি খোলার অনুমোদন দেওয়া হলেও প্রতিষ্ঠানটির এলসির সীমা তার আগে ১৪ ফেব্রুয়ারিই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৪ ফেব্রুয়ারি মেয়াদোত্তীর্ণের সময় এর এলসি লিমিট ছিল ৫৩ কোটি টাকা। অথচ প্রতিষ্ঠানটিকে এলসি সুবিধা দেওয়া হয়েছে ৭৩ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, 'ব্যাক টু ব্যাক এলসি মূল্য পরিশোধ না করা এবং যার জন্য ব্যাংককে ফোর্সড লোন সৃষ্টি করে স্বীকৃত বিলের মূল্য পরিশোধ করতে হয়েছে, এলসি সীমা উত্তীর্ণ, এলসি সীমার মেয়াদ উত্তীর্ণ ও শতাধিক স্বীকৃত বিলের মূল্য মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও গ্রাহককে নতুন করে ব্যাক টু ব্যাক এলসি খোলার অনুমতি দেওয়ার সঙ্গে রূপালী ব্যাংকের ওই শাখার এসপিও এম এ গফুর, এজিএম মো. শহীদুল্লাহ ও শাখার তখনকার ডিজিএম ও বর্তমানে জিএম এস এম আতিকুর রহমান জড়িত।'
আবার মাদার টেক্সটাইল মিলসকে দেওয়া রূপালী ব্যাংকের বিভিন্ন ঋণসুবিধার স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩২৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর বিপরীতে ব্যাংকের কাছে জামানত রয়েছে ১৮৪ কোটি পাঁচ লাখ টাকা (প্রকল্প ভূমি, ভবন ও যন্ত্রপাতি)। ২০০৯ সালের ১১ জুন ফোর্সড লোন সৃষ্টি করে ডেফার্ড দায় পরিশোধ করা হলেও ফোর্সড লোন হিসাবে ওই তারিখের পর আর কোনো টাকা জমা করেনি। ফলে ঋণ আদায়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ। এ ক্ষেত্রে ফোর্সড লোনের স্থিতি ১৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ক্ষতিজনক মানে শ্রেণীকরণ, তিনটি ব্লকড হিসাব ও দুটি সেগ্রিগেশন হিসাবে কোনো আদায় না থাকায় এবং পর্যাপ্ত জামানত না থাকায় প্রায় ২৪৫ কোটি টাকা আদায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, মাদার টেক্সটাইলের ৫১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা মূল্যের ৫৪টি ডেফার্ড বিলের মূল্য অপরিশোধিত অবস্থায় রয়েছে। এর আগেও প্রতিষ্ঠানটি ডেফার্ড ঋণপত্রের মূল্য যথাসময়ে পরিশোধ করেনি। মাদার টেক্সটাইল মিলকে দেওয়া বিভিন্ন ঋণ সুবিধার স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৫৯৪ কোটি টাকা। এ ছাড়া নন-ফান্ডেড সুবিধা রয়েছে প্রায় ৪৩ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ব্যাংকের কাছে জামানত রয়েছে মাত্র ১৬৭ কোটি টাকা মূল্যের ১৩৬৪ শতাংশ প্রকল্প ভূমি, ভবন ও যন্ত্রপাতি। ২০০৮ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ফোর্সড লোন সৃষ্টি করে ডেফার্ড ঋণপত্রের দায় পরিশোধ করা হলেও ২০০৯ সালের ১৭ নভেম্বরের পর আর কোনো টাকা জমা হয়নি। তাই ওই বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায়ের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদার টেক্সটাইলের নামে চারটি ব্লকড হিসাবে গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত স্থিতি ছিল ২১৭ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা লঙ্ঘন করে ২০১৩ সালের জুনের মধ্যে ৩৪ কোটি টাকা পরিশোধের শর্তে এসব হিসাব পুনঃ তফসিল করে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া এই চারটি ব্লকড হিসাবের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০৩০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এতেও বিস্মিত হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদার টেক্সটাইল মিলের অনুকূলে অনুমোদিত কোনো লিম ঋণসীমা না থাকা সত্ত্বেও রূপালী ব্যাংকের লোকাল শাখার মহাব্যবস্থাপক এস এম আতিকুর রহমান নিজস্ব ক্ষমতার বাইরে একের পর এক লিম ঋণ সুবিধা দিয়েছেন, যা আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। এর পরও মাদার টেক্সটাইলকে ৯১ কোটি ৮৯ লাখ টাকার স্থানীয় ডেফার্ড এলসি খোলার অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রায় ৫২ কোটি টাকার স্বীকৃত বিলের সময় উত্তীর্ণ হলেও শাখা তা পরিশোধ করতে পারছে না। মাদার টেক্সটাইলকে অনৈতিকভাবে সুবিধা দিয়ে ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতি করার পেছনে ওই শাখার এসপিও শেখ ফরিদুল ইসলাম, এজিএম মো. শহীদুল্লাহ, জিএম আতিকুর রহমানকে দায়ী করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
রূপালী ব্যাংকের লোকাল অফিস নিয়ম ভঙ্গ করে সুবিধা দিয়েছে মাদারীপুর স্পিনিং মিলকেও। এ শাখায় প্রতিষ্ঠানটির নামে তিনটি ব্লকড হিসাব রয়েছে। গত ৩ এপ্রিল পর্যন্ত এসব হিসাবে স্থিতির পরিমাণ ১৪২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির দুটি সেগ্রিগেশন হিসাবে স্থিতির পরিমাণ ৩৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির ৫০ কোটি ৩৩ লাখ টাকা মূল্যের ২৯টি ডেফার্ড বিলের মূল্য ছয় মাস ধরে অপরিশোধিত থাকা সত্ত্বেও গত ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত আরো ৩৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকার স্বীকৃত বিল রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, গ্রাহকের অতীত রেকর্ড থেকে মনে হচ্ছে, এই বিলের পরিণতিও একই রকম (অপরিশোধিত) হবে।

No comments

Powered by Blogger.