অচল ঢাকাকে সচল করবে কে?- বিশৃঙ্খল যান চলাচলব্যবস্থা

একটি শহরে যান চলাচলব্যবস্থা বলতে যা বোঝায়, তার কিছুই এখন কার্যকর নেই রাজধানী ঢাকায়। পুরো ব্যবস্থাটি একেবারেই ভেঙে পড়েছে। কিন্তু এখনো এমন কোনো টেকসই উদ্যোগ চোখে পড়ছে না, যাতে সামনে এই পরিস্থিতির উন্নতি হবে—এমন আশা নিয়ে নগরবাসী দিন গুনতে পারে।


সরকারের চলমান উদ্যোগের মধ্যে আছে বড় তিনটি উড়ালসড়ক। এতে এলাকাভিত্তিক পরিস্থিতির কিছু উন্নতির আশা থাকলেও পুরো ঢাকার বিবেচনায় এগুলো সুফল দেবে না। একটি উদাহরণ দেওয়া যাক; কুড়িল ও মিরপুর-বনানী উড়ালসড়ক দুটি নির্মিত হলে ওই অঞ্চলে যানজট কিছুটা কমবে। বিভিন্ন মোড়ে সিগন্যাল বা বনানী রেলক্রসিংয়ের কারণে যানবাহন আটকে থাকার বিষয়টি কমবে। ফলে সেখান থেকে দ্রুত গাড়িগুলো ঢাকার দিকে ঢুকতে পারবে। বিপদটা সেখানেই। এখনই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে যে জট লেগে থাকে, এয়ারপোর্ট সড়ক ধরে গাড়িগুলো যখন বাধাহীনভাবে আসবে, তা যে ভয়াবহ জটের সৃষ্টি করবে, তা বুঝতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার নেই। অতএব, একটি সমন্বিত ও সামগ্রিক পরিকল্পনা ছাড়া পরিস্থিতির উন্নতি অসম্ভব।
প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার ব্যস্ত আছে বড় বড় প্রকল্প নিয়ে। তবে বড় প্রকল্পগুলোর মধ্যেও যেগুলোর অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত ছিল, তা হয়নি। যেমন মেট্রোরেল বা বাস র্যা পিড ট্রানজিটের (বিআরটি) মতো প্রকল্প। অথচ গণপরিবহনের ক্ষেত্রে কার্যকর এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে অনেক সুফল পাওয়া যেত। ২০ বছর মেয়াদি এক পরিবহন পরিকল্পনায় ঢাকার পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে সংযোগ বাড়ানোর জন্য অন্তত ৫০টি সড়ক বানানোর কথা বলা হয়েছিল। এর কিছুই হয়নি। অপ্রতুল জমির এই শহরে প্রতিদিনই নতুন নতুন অবকাঠামো গড়ে উঠছে। এ ক্ষেত্রে যত দেরি হবে, এ ধরনের সংযোগ সড়ক নির্মাণ ততই কঠিন হয়ে পড়বে।
যানবাহন যে হারে বাড়ছে, সে তুলনায় সড়ক বাড়ছে না। ফলে যানবাহনের বাড়তি চাপও রয়েছে। কিন্তু একটি শহরে যান চলাচলে নিয়মশৃঙ্খলা বলে যে একটি ব্যাপার আছে, তার কিছুই এখন আর অবশিষ্ট নেই এখানে। ট্রাফিক বিভাগের লোকবলের সমস্যার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। কিন্তু যাঁরা চোখ-কান খোলা রেখে ঢাকা শহরে চলাচল করেন, তাঁরা দেখবেন যে ট্রাফিক পুলিশের সামনেই উল্টো পথে সব ধরনের যানবাহন চলছে। সিগন্যালের যেখানে যানবাহন থামার কথা, তা কেউ মানছে না, বাস বা গণপরিবহন স্টপেজ না মেনে যেখানে-সেখানে থামছে, চালক মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে গাড়ি চালাচ্ছেন, ট্রাফিক পুলিশ কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছে না বা নিতে পারছে না। আর মোটরসাইকেলের জন্য কোনো আইন নেই, এমনটি বোধ হয় ট্রাফিক পুলিশের লোকজন মেনেই নিয়েছেন!
ঢাকার যানজট নিয়ে এত আলোচনা, প্রতিদিন এই শহরের কোটি অধিবাসীর এত দুর্ভোগ, এর পরও কি টনক নড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি?

No comments

Powered by Blogger.