আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করাটাই সবচেয়ে দরকারি-সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে দুর্ভাবনা

সড়ক দুর্ঘটনা এ মুহূর্তের সবচেয়ে বড় দুর্ভাবনা বলে মেনে নিয়েছেন যোগাযোগমন্ত্রী। সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে এমন বোধোদয় গুরুত্বপূর্ণ, তাতে সন্দেহ নেই। তবে পরিস্থিতি যেখানে এসে দাঁড়িয়েছে, তাতে বিষয়টি এখন আর ভাবনা বা দুর্ভাবনার মধ্যে ফেলে রাখার নেই। কিছু বাস্তব পদক্ষেপ দরকারি হয়ে পড়েছে।


সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের এক সভায় সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টির কাজ করেন এমন লোকজনসহ সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে অনেক প্রস্তাব এসেছে, নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আসলে মূল সমস্যটি হচ্ছে বাস্তবায়নে। সড়ক দুর্ঘটনার একটি প্রধান দিক চালকদের সঙ্গে সম্পর্কিত। গাড়ি চালাতে আইন অনুযায়ী লাইসেন্স লাগলেও, আমাদের দেশে এটা ছাড়াও যে কেউই গাড়ি চালাতে পারেন। আইন এখানে অকার্যকর। যোগাযোগমন্ত্রী নিজে ৬০ জন গাড়িচালকের লাইসেন্স পরীক্ষা করে ১০ জনের ভুয়া লাইসেন্স পেয়েছেন।
পরিস্থিতি এমন শোচনীয় হয়েছে, সব ধরনের গাড়ির চালকের মধ্যেই আইন ও নিয়ম না মেনে চলার প্রবণতা বেড়েছে। এ দেশে গাড়ির গতিসীমা লঙ্ঘন করলে কেউ শাস্তি পায় না, সিগন্যাল না মানলে বা উল্টোপথে গাড়ি চালালেও কোনো চালককে জরিমানা দিতে হয় না। চলতে পারে ফিটনেস ছাড়া গাড়ি। আর আধুনিক যোগাযোগের জন্য রাস্তা-সড়ক যেমন হওয়া উচিত, সমস্যা রয়েছে সেখানেও। সমস্যাগুলো এক দিনে হয়নি, অব্যাহতভাবে আইন না মানা, আইন কার্যকর করার উদ্যোগ না নেওয়া, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যথাযথ পরিকল্পনার অভাব পরিস্থিতিকে এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। এ নিয়ে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ভাবনা আজ দুর্ভাবনায় পরিণত হয়েছে।
সভায় বর্তমান মোটরযান আইন পরিবর্তন এবং তা বাংলা ভাষায় প্রকাশ করার কথা বলা হয়েছে। আইনের পরিবর্তন ও যুগোপযোগী করা নিশ্চয়ই প্রয়োজনীয়। কিন্তু নতুন আইন দিয়ে কী হবে, যদি তা বাস্তবায়ন বা কার্যকর করা না যায়! আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার ব্যাপারে সরকার যদি উদ্যোগী না হয়, তবে কোনো কিছুতেই কাজ হবে বলে মনে হয় না। সরকারকে মনোযোগটা এদিকেই দিতে হবে।

No comments

Powered by Blogger.