৩৩তম বিসিএস-পরীক্ষার কার্যক্রম তিন সপ্তাহের জন্য স্থগিত

৩৩তম বিসিএস পরীক্ষার কার্যক্রম তিন সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে অনলাইনে আবেদন করা এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি কেন বেআইনি হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। বিচারপতি ফরিদ আহাম্মদ ও বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন।


এক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান, মন্ত্রিপরিষদের সচিব, পিএসসির সচিব, পিএসসির সদস্যবৃন্দ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও টেলিটকের চেয়ারম্যানকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
গত ২৯ ফেব্রুয়ারি জারি করা ৩৩তম বিসিএস নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণে বঞ্চিত ২০ জন পরীক্ষার্থী গত রোববার রিট আবেদন করেন। গতকাল আবেদনের ওপর শুনানি হয়। আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ কে এম ফয়েজ। তাঁকে সহায়তা করেন আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান ও শাহানা পারভীন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস।
আইনজীবী ফয়েজ প্রথম আলোকে বলেন, আদালত ৩৩তম বিসিএস পরীক্ষার সব কার্যক্রম তিন সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন। ফলে ৩৩তম বিসিএস পরীক্ষার পরবর্তী সব কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ প্রথম আলোকে বলেন, আদালত ওই বিজ্ঞাপনের কার্যকারিতা তিন সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন। ফলে ৩৩তম বিসিএসের পরীক্ষা-সংক্রান্ত পরবর্তী কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। শুনানির বিষয়ে এ কে এম ফায়েজ বলেন, রিট আবেদনকারীরা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য যথাসময়ে আবেদন করেছেন। কিন্তু মুঠোফোন কোম্পানি টেলিটকের সার্ভারের সমস্যার কারণে তাঁরা প্রবেশপত্র পাননি। এ বিষয়ে তাঁরা পিএসসির চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করলেও কোনো প্রতিকার পাননি। আইনের দৃষ্টিতে অনলাইনে ফরম পূরণের এই আবেদন সবাইকে সমান সুযোগ দেয় না। এটা সংবিধানের ২৯ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। কারণ, সংবিধানের ওই অনুচ্ছেদে সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়ার কথা বলা রয়েছে।
৩৩তম বিসিএস থেকে প্রথমবারের মতো অনলাইনে আবেদনপত্র গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। গত ৮ মার্চ সকাল ১০টা থেকে ৩৩তম বিসিএসের আবেদনপত্র জমাদান শুরু হয় এবং ৭ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত চলে। তবে শেষের কয়েক দিন সমস্যার কারণে সাড়ে ১১ হাজার প্রার্থী শেষ পর্যন্ত আবেদন-প্রক্রিয়া শেষ করতে পারেননি। ৩৩তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা আগামী ১ জুন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। পিএসসির তথ্যানুযায়ী, ৩৩তম বিসিএসে এক লাখ ৮৩ হাজার ৬২৭ প্রার্থী অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করেছেন।

No comments

Powered by Blogger.