মুজিবনগর সরকার-মুক্তিযুদ্ধের সেন্টার অব গ্রাভিটি by আবুল হাসান চৌধুরী

এসব কিছুই ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকার গঠনের ফল। বাংলাদেশ সরকারকে কোনো দেশই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি জানায়নি, কিন্তু রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন মুজিবনগর সরকারই যে বাংলাদেশের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সমর্থনপুষ্ট, সেটা নিয়ে কোনো সংশয় ছিল না।


বিশ্ববাসী নিশ্চিত বুঝে যায়, বাংলাদেশের সেন্টার অব গ্রাভিটি মুজিবনগরেই। এখান থেকে পরিচালিত সরকারের প্রতি জনসমর্থন ও আনুগত্যে বিন্দুমাত্র ঘাটতি ছিল না

স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের (২৬ মার্চ) পর বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ তারিখ। এ অনন্য অনুষ্ঠান আরও তিনদিন আগে_ ১৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু খবরটি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা সমস্যা সৃষ্টি হয় এবং শপথ গ্রহণের স্থান ও তারিখ কিছুটা পেছানো হয়।
যাদের একাত্তরের সেই সময়ের প্রেক্ষাপট জানা নেই, তারা ওপরের বর্ণনায় বিশেষ কিছু পাবে না। যে কোনো দেশে সাধারণ নির্বাচনের পর গঠিত সরকার রাজধানীতে শপথ গ্রহণ করে এবং সে জন্য স্থানও নির্দিষ্ট করা আছে। ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শপথ অনুষ্ঠান হয়েছিল বঙ্গভবনে। শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী। এরপর থেকে রাষ্ট্রপতির এ কার্যালয়েই রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান হয়ে আসছে। কিন্তু একাত্তরের ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকার শপথ গ্রহণ করে মেহেরপুরের প্রত্যন্ত একটি আমবাগানে, যার নাম দেওয়া হয় 'মুজিবনগর'। স্বাধীন বাংলাদেশের এ সরকারে বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি ও অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এ সরকারকে গার্ড অব অনার প্রদানের জন্য নিয়মিত সেনাবাহিনী তখনও গড়ে ওঠেনি; কিন্তু পাকিস্তান সরকারের ওপর থেকে আনুগত্য প্রত্যাহার করে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ করা পুলিশ-আনসারদের 'চৌকস দল' এ গৌরবের দায়িত্ব পালনের জন্য খুঁজে পেতে কোনো সমস্যা হয়নি। ব্যক্তিগতভাবে আমি সে সময়ে লন্ডনে পড়াশোনা করছি। ২৫ মার্চ পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী ঢাকা ও অন্যান্য স্থানে গণহত্যা শুরু করে। ১ মার্চ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ অধিবেশন স্থগিত ঘোষণার মুহূর্ত থেকেই 'পূর্ব পাকিস্তান কার্যত পরিণত হয়ে যায় স্বাধীন বাংলাদেশে'। স্বাধীনতার স্লোগান দিয়ে রাজপথে নেমে আসে সর্বস্তরের মানুষ। আমার পিতা বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী সে সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগদানের জন্য তিনি জেনেভায় অবস্থান করছিলেন। ২৬ মার্চ তিনি জেনেভা থেকে লন্ডন চলে আসেন। আগের রাতে ঢাকা ও অন্যান্য স্থানে শুরু হওয়া গণহত্যার খবর পেয়ে ব্রিটেনে অবস্থানরত বাঙালিদের মধ্যে ক্ষোভ-উৎকণ্ঠা প্রচণ্ড। এখানে অবস্থিত বাঙালি পরিবারগুলো স্বজনদের খবর জানতে উদগ্রীব ছিল। কারও বোন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে, কারও বাবা সচিবালয়ে চাকরি করছে। কারও ভাই ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয়। কারও মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা ক্যান্টনমেন্টে অবস্থান করছেন। তারা কে কেমন আছে, বেঁচে আছে তো? সবার জন্য দুশ্চিন্তা। একই সঙ্গে এখানে পেঁৗছেছিল বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার খবর। ২৬ মার্চ ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ড নামে লন্ডনের একটি সান্ধ্য দৈনিকের শিরোনাম ছিল :'রেজিস্ট_ শেখ মুজিবুর রহমান'। এতে বলা হয়, পাকিস্তানের সৈন্যরা অঘোষিত যুদ্ধ শুরু করেছে। বাঙালিদের হত্যা করছে। শেখ মুজিবুর রহমান আহ্বান জানিয়েছেন সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে।
বঙ্গবন্ধুর এ আহ্বানে সবাই অনুপ্রাণিত হয়। তারা সংগঠিত হতে শুরু করে। ১৩ এপ্রিল ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশেষভাবে আবু সাঈদ চৌধুরীকে অনুরোধ করেন, তার সঙ্গে কথা না বলে তিনি যেন কোনো ঘোষণা না দেন। কারণ তাদের সঙ্গে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে এবং এ কারণে চাপ আসছে। ১৪ এপ্রিল এক বিবৃতি দিয়ে আবু সাঈদ চৌধুরী পাকিস্তানের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, তার প্রিয় ছাত্রছাত্রীদের যে দেশের সেনাবাহিনী নির্বিচারে হত্যা করছে, সেখানে তিনি ফিরতে পারেন না। বিবিসি ও অন্যান্য গণমাধ্যমে প্রচারিত এ ঘোষণায় স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়া কোটি কোটি বাঙালি উজ্জীবিত হয়। এর চারদিন আগে ১০ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকার গঠন করা হয়। এ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের পক্ষে আবু সাঈদ চৌধুরীকে ফোন করেন ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম। তিনি তাকে বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের অনুরোধ জানান এবং তা সানন্দে গ্রহণ করা হয়। তবে ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণের আগে বাংলাদেশ সরকার গঠন বিষয়ে বিশ্ববাসী তেমন জানত না।
বাংলাদেশ সরকার গঠনের যে প্রেক্ষাপট ছিল, তা এখনও অনেকে স্মরণ করতে পারেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগ পাকিস্তানে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মর্যাদা লাভ করে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকচক্র তাদের হাতে ক্ষমতা তুলে না দিয়ে ২৫ মার্চ শুরু করে গণহত্যা, ঢাকা শহর পরিণত হয় বধ্যভূমিতে। বঙ্গবন্ধুকে ২৫ মার্চ মধ্যরাতে গ্রেফতার করা হয়। জারি হয় কারফিউ। প্রায় গোটা ঢাকা শহর জ্বলছিল। ২৭ মার্চ সকালে ৫-৬ ঘণ্টার জন্য কারফিউ শিথিল হলে প্রচণ্ড ঝুঁকি নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় চলে যান তাজউদ্দীন আহমদ। সঙ্গী ছিলেন ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম। সেখানে তারা পেঁৗছান ৩০ মার্চ। ১ মার্চের পর দেশব্যাপী জনগণের প্রতিবাদী আন্দোলন সংগঠিত করতে বাংলাদেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়া জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ সদস্যবৃন্দ এবং আওয়ামী লীগের নেতারাও বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার প্রেক্ষাপটে একত্রিত হন। এক চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজেদের মধ্যে অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে তারা যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হন। এর পেছনে প্রেরণা ছিল একটাই_ স্বাধীন দেশ থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে বিতাড়িত করতে হবে। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র আমাদের জানায়, ১০ এপ্রিল সরকার গঠনের পর ১৪ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গায় শপথের দিন নির্ধারিত ছিল। কিন্তু সেটা প্রকাশ হয়ে পড়ায় পাকিস্তানি বিমান বাহিনী সেখানে ব্যাপক বোমা হামলা চালালে অনুষ্ঠান মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় স্থানান্তরিত হয়। এর আয়োজন করা হয় ১৭ এপ্রিল। এত তাড়াতাড়ি একটি পূর্ণাঙ্গ সরকার গঠন করা হবে, সেটা অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের কাছেই অভাবনীয় ছিল। ষাট ও সত্তরের দশকে ঔপনিবেশিক শাসন থেকে জাতীয় স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামরত অনেক দেশে 'প্রবাসী সরকার' কিংবা 'অস্থায়ী সরকার' গঠনের রেওয়াজ ছিল। কিন্তু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের নেতৃত্ব গঠন করে
বাংলাদেশ সরকার। সে সময়ের প্রতিটি সরকারি দলিলে দেখা যাবে আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিপকস্ফতা ও বিচক্ষণতার ছাপ। একই সঙ্গে মুজিবনগরে প্রকাশ করা হয় স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র, যা বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরলতম ঘটনার একটি। এ ধরনের সরকার গঠন করার সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য বিভিন্ন রণাঙ্গনের দায়িত্ব অর্পণ করা হয় সেক্টর কমান্ডারদের ওপর। ফলে দ্রুতই সমন্বিতভাবে যুদ্ধ পরিচালনা হতে শুরু করে। বিশ্ববাসী জেনে যায়, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সরকার গঠন করায় কখনোই তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ এবং বাংলাদেশ সরকারের নেতৃবৃন্দ বারবার একটি বিষয়ে জোর দিয়েছেন_ বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র এবং এখন আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে এ দেশ থেকে হানাদার পাকিস্তানি সৈন্যদের বিতাড়িত করা। আবু সাঈদ চৌধুরী বলতেন, 'ইনভেডিং আর্মি' তাড়াতে হবে। সবকিছু পরিচালিত হতে থাকে বঙ্গবন্ধুর নামে এবং বাংলাদেশের জনগণের কাছে সেটাই ছিল গ্রহণযোগ্য। তারা স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত হয়েই ছিল এবং বঙ্গবন্ধু ও তার সহকর্মীরা অত্যন্ত কঠিন সময়ে খুব দ্রুততার সঙ্গে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পেরেছিলেন। জিয়াউর রহমান যে চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে 'বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতা ঘোষণা করছি' বলেন, তার কারণ বুঝতে তাই সমস্যা হয় না। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বিশ্বের গণমাধ্যমগুলো বঙ্গবন্ধুকেই একক নেতা হিসেবে চিহ্নিত করে। তিনিই ছিলেন প্রতিরোধের প্রতীক।
১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের আগে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি বিশ্বের কোনো সরকার স্বীকৃতি দেয়নি। কিন্তু তাতে বৈধতার সমস্যা কখনও দেখা দেয়নি। লন্ডনের একটা ঘটনা বলছি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশ ছাড়াও নানা সূত্রে অর্থ জমা হচ্ছিল। এ অর্থ জমা হতো সেখানের ব্যাংকে। পাকিস্তানি হাইকমিশন এ ব্যাপারে আপত্তি জানায়। সে সময়ে ব্রিটেনের কমন্স সভার সদস্য জন স্টোন হাউস একটি ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে বাংলাদেশের পক্ষে অ্যাকাউন্ট চালু করার ব্যবস্থা করেন। এ অর্থে কেবল বাংলাদেশ সরকারের কার্যক্রমই পরিচালনা করা হয়নি, মুক্তিযোদ্ধাদের সামরিক প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র্পসজ্জিতও করা হয়।
আরেকটি ঘটনা বলাও অপ্রাসঙ্গিক হবে না। পাকিস্তানের একটি জাহাজ থেকে কয়েকজন বাঙালি নাবিক পালিয়ে ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন। পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ তাদের পাকিস্তানে পাঠানোর জন্য চাপ দিতে থাকলেও বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিদের তৎপরতার কারণে এ অপচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং তাদের ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া হয়। ব্রিটেনে সে সময়ে শিক্ষার জন্য অনেক বাঙালি ছাত্রছাত্রী অবস্থান করছিল। তারা এসেছিল পাকিস্তান সরকারের আবেদনে বৃত্তি নিয়ে। কিন্তু একাত্তরে অবস্থান নেয় বাংলাদেশের পক্ষে। এরপরও ব্রিটিশ সরকার তাদের বৃত্তি অব্যাহত রাখে।
একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বিশ্ব ছিল দুই শিবিরে বিভক্ত। সোভিয়েত ইউনিয়নসহ অনেক সমাজতান্ত্রিক দেশ বাংলাদেশের পক্ষ নেয়। কিন্তু চীন বিরোধিতা করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনে সে সময়ে ছিল রক্ষণশীল সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের রিচার্ড নিক্সন সরকার পাকিস্তানের পক্ষ নেয়। কিন্তু তাদের সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের অনেক সদস্য বাংলাদেশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যার তীব্র নিন্দা জানায়। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়_ পাকিস্তানকে কোনো সামরিক ও অর্থনৈতিক সাহায্য দেওয়া হবে না। সিনেটর টেড কেনেডি ভারতের শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেন। সিনেটর স্যাক্সবি বলিষ্ঠ অবস্থান গ্রহণ করেন বাংলাদেশের পক্ষে। এ ধরনের রাজনৈতিক ও নৈতিক সমর্থনের মূলে ছিল মুজিবনগর সরকার গঠন এবং অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তাদের সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা। দুই মেরুতে ভাগ হয়ে থাকা বিশ্বের প্রতিটি কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন আদায়ের অন্য কোনো ব্যাখ্যা হতে পারে না। বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল সে সময়ে জাতিসংঘে তৎপরতা চালিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট ও কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসেছে। লন্ডন-নিউইয়র্ক-দিলি্ল-প্যারিসে বাংলাদেশের পক্ষে বড় বড় মিছিল হয়েছে। প্রকাশ্যে অনুষ্ঠান করে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে।
এসব কিছুই ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকার গঠনের ফল। বাংলাদেশ সরকারকে কোনো দেশই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি জানায়নি, কিন্তু রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন মুজিবনগর সরকারই যে বাংলাদেশের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সমর্থনপুষ্ট, সেটা নিয়ে কোনো সংশয় ছিল না। বিশ্ববাসী নিশ্চিত বুঝে যায়, বাংলাদেশের সেন্টার অব গ্রাভিটি মুজিবনগরেই। এখান থেকে পরিচালিত সরকারের প্রতি জনসমর্থন ও আনুগত্যে বিন্দুমাত্র ঘাটতি ছিল না।

আবুল হাসান চৌধুরী :সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

No comments

Powered by Blogger.