কৃষক স্বার্থের রক্ষক নাই’?-আলুচাষিরা বিপাকে

শতবর্ষেরও আগে সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বঙ্গদেশের কৃষক গ্রন্থে লিখেছিলেন, ‘কৃষক স্বার্থের রক্ষক নাই’। পঞ্চগড়ের আলুচাষিরা এই কথা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। বোম্বে এগ্রো লিমিটেড নামের একটি কোম্পানির চুক্তিভঙ্গের কারণে হতাশ আলুচাষিরা রাস্তায় বস্তা বস্তা আলু ফেলে প্রতিবাদ করেছেন।


১৩ টাকা কেজি দামে আলু কেনার চুক্তি করেও প্রতিষ্ঠানটি কথা রাখছে না। উৎপাদিত ফসল কৃষকের পরম আদরের ধন। সেই ধন বিসর্জন দেওয়া আত্মঘাতের সমান। কিন্তু প্রতারিত বোধ করে সেই কঠিন কাজটাই তাঁরা করেছেন। শতবর্ষ পেরিয়েও বঙ্কিমচন্দ্রের সেই কথা যেন আবারও প্রমাণিত হলো।
গত শনিবারের প্রথম আলোর সংবাদটি টনক নড়ার মতো। বোম্বে এগ্রো লিমিটেড কৃষকদের কাছ থেকে ১৩ টাকা দরে প্রতি কেজি আলু কেনার জন্য মৌসুমের আগেই চুক্তি করে। তারা কৃষকদের ৪০ টাকা কেজি দরে বীজও সরবরাহ করে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ীই কৃষকেরা মার্কেন্টাইল ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আবাদে নামেন। শর্ত ছিল, কোম্পানি কৃষকদের প্রযুক্তি ও উপকরণ-সহায়তাও দেবে। কিন্তু ফসল বিক্রি করার সময় প্রতিষ্ঠানটি ওজর তোলে, উৎপাদিত আলুতে ড্রাই ম্যাটার কম থাকায় তারা চুক্তি মানবে না। তাদের নির্ধারিত নতুন দাম কেজিপ্রতি আট টাকা। অথচ কৃষকদের দাবি, ড্রাই ম্যাটার ১৫-১৬ ভাগ—এত অল্প ব্যবধান ধর্তব্য হওয়ার কথা নয়।
চুক্তির অনুলিপিও কোম্পানিটি কৃষকদের দেয়নি। আলুতে ড্রাই ম্যাটারের অনুপাতও তারা একচেটিয়াভাবে নির্ধারণ করছে। তা ছাড়া বীজ তারা দিয়েছে, আবাদের প্রযুক্তি ও উপকরণও তাদেরই দেওয়ার কথা। এখন সেখানে যদি অনুপাতে কোনো কম-বেশি হয়, তার দায় একা কেন কৃষক নেবেন? আর মাত্র দুই ভাগ ড্রাই ম্যাটার কম হওয়ার জন্যই কি ১৩ টাকা কেজির আলু আট টাকা হয়ে যাবে? সবাই স্বীকার করবেন, কৃষক খুব কম ক্ষেত্রেই ফসলের ন্যায্য দাম পান। কৃষি উপকরণ কেনার সময় তাঁরা একবার ঠকেন, আবার ঠকেন ফসল বিক্রির সময়। এই সমস্যা সমাধানে সরকারের কৃষি বিভাগের ভূমিকা প্রয়োজন।
আমরা আশা করব, পঞ্চগড়ের আলুচাষিদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার হস্তক্ষেপ করবে এবং কৃষকদের ফসলের ন্যায্য দাম এবং তাঁদের ঋণ মেটানোর মানবিক উপায়ের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব নেবে। না হলে প্রমাণিত হবে, ‘সত্যিই কৃষক স্বার্থের রক্ষক নাই’।

No comments

Powered by Blogger.