পোশাক শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইএফসি ৫ কোটি ডলার দিচ্ছে

বাংলাদেশের গার্মেন্ট শ্রমিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় এগিয়ে এসেছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের অঙ্গ সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি)। এজন্য তারা স্থানীয় ব্যাংকগুলোকে ৫ কোটি ডলার অর্থ দেবে এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে গড়ে তুলবে অংশীদারিত্ব। বাংলাদেশী ব্যাংকগুলোকে দীর্ঘ মেয়াদে বিপুল অংকের অর্থ দেয়ার ঘটনা এটাই আইএফসির জন্য প্রথম। অনলাইন সিআইএর-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশের তৈরী পোশাক শিল্পে ৪০ লাখেরও বেশি শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। এর বেশির ভাগই নারী। প্রায় সাড়ে ৪ হাজার পোশাক কারখানায় কাজ করছেন তারা। এ খাত থেকে দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের মোট আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশই আসে। বিদেশী ক্রেতাদের কাছে মানদণ্ডে কারখানার নিরাপত্তার মান উন্নীত করার মতো প্রয়োজনীয় মূলধন নেই অনেক কারখানার। তবে তাদের মধ্যে শ্রমিকদের নিরাপত্তার মান উন্নীত করার ইচ্ছা আছে। আইএফসি এক্ষেত্রে যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সে অনুযায়ী, তারা বাংলাদেশী পাঁচটি ব্যাংককে এক কোটি ডলার করে অর্থ সহায়তা দেবে। অংশগ্রহণকারী ওই ব্যাংকগুলো পোশাক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ক অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য গার্মেন্ট কারখানাগুলোকে অধিক হারে ঋণ দেয়ার ক্ষমতা অর্জন করবে। এরই মধ্যে এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড। আগামী সপ্তাহগুলোতে বাংলাদেশের আরও ৪টি ব্যাংক এ কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে। এর আগে আইএফসি পৃথকভাবে পারস্পরিক সহযোগিতার ব্যাপারে কয়েকটি চুক্তি সম্পাদন করেছে। অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটি (অ্যালায়েন্স) এবং অ্যাকর্ড অন ফায়ার সেফটি অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি’র (স্টিচিং বাংলাদেশ অ্যাকর্ড ফাউন্ডেশন) সঙ্গে আলাদাভাবে এ চুক্তি হয়েছে। এ দুটি সংগঠন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কয়েক ডজন পোশাক ক্রয়কারী ব্র্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করে। সংগঠন দুটি বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোতে অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও অগ্নি নিরাপত্তা উন্নত করার উদ্যোগের পাশাপাশি নজরদারির ব্যবস্থা বাড়াতে সহযোগিতা করবে। আইএফসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়োং কাই বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্পে শ্রমিকদের নিরাপত্তা বাড়াতে বিস্তৃত পরিসরে, নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা প্রয়োজন। তিনি বলেন, এ ইস্যুতে ব্যাংকসমূহ, আন্তর্জাতিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো এবং পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। কারণ, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও দীর্ঘ মেয়াদে টিকিয়ে রাখার জন্য এটা আবশ্যক। শ্রমিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে অ্যালায়েন্স ও অ্যাকর্ড প্রত্যেকে আড়াই লাখ ডলার করে অর্থ সহযোগিতা দিচ্ছে। আইএফসির সঙ্গে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স উভয় সংগঠনই এক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে কারখানার পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানোর জন্য প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তারা অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও অগ্নি নিরাপত্তার সংশোধিত কর্মপরিকল্পনা বুঝতে পেরেছে। সংশোধিত কর্ম পরিকল্পনার মাধ্যমে তারা কারখানাগুলো অগ্রগতি তদারকি করছে। অ্যাকর্ডের নির্বাহী পরিচালক রব ওয়েইস বলেন, অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটির লক্ষ্য হচ্ছে, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পখাতকে নিরাপদ ও টেকসই করা। সে লক্ষ্যে এ সংগঠনের সঙ্গে স্বাক্ষরকারী কোম্পানিগুলো এরই গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় অর্থ বিনিয়োগ করেছে। কারখানাগুলোকে সংস্কারের ক্ষেত্রে অ্যাকর্ডে আইএফসির অর্থায়ন কর্মপরিকল্পনা একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তিনি বলেন, পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি মানের কারখানায় সহযোগিতার উদ্দেশ্যে আইএফসির সঙ্গে কাজ করতে পারাটা অ্যাকর্ডের জন্য আনন্দের। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, এই কর্ম পরিকল্পনা বিশ্বের অন্যান্য দেশেও নেয়া হবে।

No comments

Powered by Blogger.