মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল বন্ধ হবে কবে?- আরও একটি সড়ক দুর্ঘটনা

দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলো যে একেকটা মৃত্যুফাঁদ হয়ে উঠেছে, এ আর নতুন খবর নয়। নতুন খবর হচ্ছে, এসব সড়ক-মহাসড়কে যেসব মোটরযান চলাচল করে, সেগুলোর নম্বরপ্লেট পরিবর্তনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে।


এ দুয়ের মধ্যে দৃশ্যত কোনো সম্পর্ক নেই: পরিবর্তিত নম্বরপ্লেটের মোটরযান দুর্ঘটনায় পড়ে মানুষের প্রাণহানি-অঙ্গহানির কারণ হবে না—এই নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না।
প্রসঙ্গ দুটো একসঙ্গে এল এ কারণে যে সংবাদমাধ্যমে যেদিন শ্রেণীভেদে মোটরযানের ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট উদ্বোধনের খবর ছাপা হলো, সেদিনই এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন দেশের একজন কৃতী শ্যুটার, তাঁর তিন বছর বয়সী ফুটফুটে মেয়ে আর তরুণী গৃহপরিচারিকা। নিহত ফিরোজ হোসেন (পাখি) সাফ গেমস সার্ক শ্যুটিংয়ে বাংলাদেশের জন্য তিন-তিনবার ছিনিয়ে এনেছিলেন স্বর্ণপদক; তিনি জাতীয় শ্যুটিং ফেডারেশনের কোচ ছিলেন, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শ্যুটিং অ্যাসোসিয়েশনের প্রশিক্ষক। তাঁর স্ত্রী লাভলী চৌধুরীও গুরুতর আহত হয়েছেন একই দুর্ঘটনায়; তিনিও একজন শ্যুটিং প্রশিক্ষক।
ঈদের ছুটি শেষে ব্যক্তিগত গাড়িতে করে তাঁরা পাবনা থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন; বিপরীতমুখী এক ট্রাকের ধাক্কায় হূদয়বিদারক এই দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। এমন দুর্ঘটনা, অর্থাৎ প্রাইভেট কার বা মাইক্রোবাসের মতো ছোট মোটরযানগুলো মহাসড়কে চলার সময় ট্রাক ও বাসের মতো বড় মোটরযানের সঙ্গে সম্মুখ-সংঘর্ষের মতো দুর্ঘটনায় এর আগেও অনেক মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। সড়ক দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে, কিন্তু এ ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা যে ভুলপথে বেপরোয়া যান চালানোর কারণে বেশি ঘটছে, সেটাই সবচেয়ে দুঃখের বিষয়। বিশেষত, মহাসড়কে চলাচলকারী ট্রাক ও বাসের অনেক চালক নির্দিষ্ট লেন ধরে যান না চালিয়ে সড়কের মাঝ বরাবর চালান। বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণ এটাই।
মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিলের অবসান ঘটানোর দাবিতে লেখালেখি, টক শো, মৌন মিছিল, মানববন্ধন ইত্যাদি কর্মসূচি পালন করা হয়। কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করলে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাস পেতে পারে, বিশেষজ্ঞরা সেসব নিয়েও আলোচনা কম করেননি। কিন্তু কিছুতেই পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে না। কারণ, এ বিষয়ে কথা বলায় যত উৎসাহ লক্ষ করা যায়, কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বেলায় ততটা নয়। যানবাহনের জন্য রেট্রোরিফ্লেকটিভ নম্বরপ্লেট প্রবর্তন উপলক্ষে বক্তৃতাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ট্রাফিক আইন মেনে চলার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু ট্রাফিক আইন মেনে চলা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যাঁদের, সেই ট্রাফিক পুলিশেরও অনেক কিছু করার আছে। যথেষ্ট কঠোরতার সঙ্গে ট্রাফিক আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা হয়নি বলে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করার প্রবণতা কমছে না।
সাড়ম্বরে গাড়ির নম্বরপ্লেট পরিবর্তনের উদ্যোগে সরকারের যে উৎসাহ লক্ষ করা যাচ্ছে, সড়ক দুর্ঘটনা রোধের জন্য জাতীয়-ভিত্তিতে তেমন একটা অভিযান কি শুরু করা যায় না?

No comments

Powered by Blogger.