সাংবাদিক দম্পতি হত্যা-ভিসেরা পরীক্ষায় বিষক্রিয়ার আলামত মেলেনি by কাজী আনিছ

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনির রাসায়নিক (ভিসেরা) পরীক্ষায় বিষক্রিয়ার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র থেকে জানা গেছে। জানতে চাইলে সিআইডির প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক দিলীপ কুমার বলেন, চলতি মাসের মাঝামাঝি রাসায়নিক পরীক্ষাগার থেকে ভিসেরার প্রতিবেদন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে পাঠানো হয়েছে।


সাংবাদিক দম্পতির ভিসেরার নমুনা সংগ্রহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজের একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ প্রথম আলোকে বলেন, সাগর-রুনিকে হত্যার আগে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না—এ প্রশ্নটিসহ আরও কয়েকটি বিষয় র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভিসেরা পরীক্ষায় বিষক্রিয়ার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।
র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার এম সোহায়েল বলেন, ঢাকা মেডিকেলে ভিসেরা প্রতিবেদন পৌঁছার খবর তাঁরা পেয়েছেন। তবে র‌্যাবের কাছে এখনো প্রতিবেদন আসেনি।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি সকালে পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে সাংবাদিক দম্পতির ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই দিনই ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে দুজনেরই ময়নাতদন্ত হয়। ১৩ ফেব্রুয়ারি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দেওয়া হয়। মামলার তদন্ত শুরু করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। কিন্তু তদন্তে কোনো অগ্রগতি না থাকায় ২৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে এ-সংক্রান্ত একটি রিট হয়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ এপ্রিল আদালতে হাজির হয়ে ডিবির কর্মকর্তারা তদন্তে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেন। পরে আদালত মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব র‌্যাবকে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
র‌্যাব তদন্তের শুরুতে আগের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করতে গিয়ে দেখেন, ময়নাতদন্তের সময় ভিসেরা সংরক্ষণ করা হয়নি। ভিসেরা পরীক্ষার জন্য লাশ উত্তোলন করতে আদালতে আবেদন করে র‌্যাব। আদালতের নির্দেশে গত ২৬ এপ্রিল আজিমপুর কবরস্থান থেকে সাগর-রুনির লাশ তুলে ভিসেরা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তা পরীক্ষার জন্য মহাখালীতে সিআইডির রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়।

No comments

Powered by Blogger.