সুস্থ মা ও শিশুই সুস্থ জাতি গড়ে তুলতে পারে-মাতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ চার মাস থেকে বাড়িয়ে ছয় মাস করার যে ঘোষণা দিয়েছেন, তাকে সবাই স্বাগত জানাবে। এ ঘোষণা নারীসমাজের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ বলেই ধারণা করি। প্রথমে মাতৃত্বকালীন ছুটি ছিল তিন মাস। অনেক দেনদরবারের পর তা চার মাস করা হয়েছিল।


কিন্তু সে সময়টি যে যথেষ্ট নয়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পৃথিবীর বহু দেশে মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস দেওয়া হয়। সেই বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা মা ও নবজাতকের জন্য কিছুটা হলেও সুসংবাদ বয়ে আনবে। যত দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা কার্যকর হবে, ততই মঙ্গল। সুস্থ মা ও শিশুই একটি সুস্থ জাতি গড়ে তুলতে পারে।
তবে মনে রাখা প্রয়োজন, যেসব মা সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন, কেবল তাঁরাই এ সুযোগ পাবেন। যাঁরা গৃহ বা অনানুষ্ঠানিক কাজকর্মে নিয়োজিত, তাঁদের জীবনে কোনো ছুটি নেই। অতএব আমাদের সামাজিক বাস্তবতায় সুস্থ মা ও নবজাতকের জন্য ছুটিই একমাত্র সমাধান নয়। একজন মায়ের সুস্থ থাকা এবং নবজাতকের পরিচর্যার জন্য যেমন সুষম খাদ্য প্রয়োজন, তেমনই প্রয়োজন নিবিড় পরিচর্যা ও স্বাস্থ্যসেবা। দেশের অধিকাংশ মা ও শিশু সে সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে, গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ খুবই সীমিত। বাংলাদেশে শিশুমৃত্যুর হার হাজারে ৫৪ ও প্রসূতি মৃত্যুহার ৩ দশমিক ৮ শতাংশ, যা উন্নত দেশগুলোতে চিন্তাও করা যায় না।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় ২০২১ সাল নাগাদ শিশুমৃত্যুর হার হাজারে ১৫ এবং প্রসূতিমৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫-এ নামিয়ে আনার কথা বলেছেন। এ ঘোষণা আমাদের আশাবাদী করে তুললেও বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় আছে। স্বাস্থ্যনীতি ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে। এক সরকার এসে পূর্ববর্তী সরকারের কর্মসূচি পাল্টে দেওয়ার ঘটনাও কম নয়। আগের আওয়ামী লীগ সরকার তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করেছিল। বিএনপি সরকার এসে বিকল্প ব্যবস্থা না করেই তা বাতিল করে দিলে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে। কোনো প্রকল্পে দুর্নীতি-অনিয়ম হলে তা দূর করতে হবে। তাই বলে মাথাব্যথার কারণে মাথা কেটে ফেলার কোনো যুক্তি নেই। আবার প্রকল্প বাস্তবায়নেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী ১৩ হাজার নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের যে ঘোষণা দিয়েছেন, দেশবাসী দ্রুতই তার বাস্তবায়ন দেখতে চাইবে। তবে এ ক্ষেত্রেও দলীয়করণ ও আত্মীয়করণে পথ পরিহার করে দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে লোক নিয়োগ করা হবে, সেটাই প্রত্যাশিত।

No comments

Powered by Blogger.