ইতিহাস- বাঙালির বৌদ্ধিক ঐতিহ্য by আবুল কাসেম ফজলুল হক

নচলিস্নশ বছর আগে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্তিম সময়ে, বিশেষ করে ১৪ই ডিসেম্বরে, আক্রমণকারী পাকিস্তানী বাহিনীর আত্মসমর্পণের আগে শহিদ হয়েছিলেন প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীরা। আক্রমণের সূচনালগ্নে, ২৫ মার্চ দিবাগত রাতেও আক্রমণকারীরা হত্যা করেছিল অনেক বুদ্ধিজীবীকে। গোবিন্দ্রচন্দ্র দেব, সন্তোষ ভট্টাচার্য, মুনীর চৌধুরী, মোফাজ্জাল হায়দার চৌধুরী,
আনোয়ার পাশা, জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা, রাশিদুল হাসান, গিয়াসউদ্দিন আহমদ, ডা. মোহাম্মদ মুর্তজা, ডা. আলীম চৌধুরী, সিরাজউদ্দিন হোসেন, শহীদুলস্নাহ কায়সার, আনম গোলাম মোস্তফা, নিজাম উদ্দিন আহমদ , আয়ুর্বেদ শাস্ত্রী যোগেশচন্দ্র ঘোষ, চট্টগ্রামের নূতন চন্দ্র সিংহ, টাঙ্গাইলের আর পি সাহা প্রমুখ অনেক বুদ্ধিজীবীকে শত্রুরা তাদের নিজ গৃহে কিংবা গৃহ থেকে তুলে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে হত্যা করেছিল। চিন্তাবিদ, শিক্ষক, সাংবাদিক, ডাক্তার, ইনজিনিয়ার ও লেখকদের হত্যা করে জাতির শত্রুরা জাতিকে মেধাশূন্য করে ফেলতে চেয়েছিল। যুদ্ধের অন্তিম পর্যায়ে বিশেষ করে পরাজিত নাশকতার ক্ষোভ নিয়ে এ কাজ করেছিল তৎকালীন রাজাকার বাহিনী, আলবদর, আলশামস প্রভৃতি শাখার নরঘাতকেরা। হত্যাকারীরা ছিল এদেশেরই সন্তান, যুদ্ধকালে রাজাকার বাহিনীতে যোগ দিয়ে তারা পরিণত হয়েছিল নরপিশাচে। আজ যুদ্ধোত্তর চলিস্নশতম বছরে পা দিয়ে আমরা চাই_সে দিনের অভিজ্ঞতা _ ইতিহাসের শিক্ষা_আমাদের অগ্রগতির সহায় হোক। অনেককিছু আমাদের ভাবার আছে, অনেককিছু করার আছে। আমাদের সকল কর্তব্য সুসম্পন্ন হোক_এটাই কাম্য। উনচলিস্নশ বছর পার হল, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনও সম্পন্ন হল না। আমরা চাই যুদ্ধাপরাধীদের সুষ্ঠু বিচার দুই-এক বছরের মধ্যেই শেষ হোক। আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি একাত্তরের শহিদ বুদ্ধিজীবীদের _সেসঙ্গে সারা দেশের সকল শহিদকে।
শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসে বাঙালির বৌদ্ধিক ঐতিহ্য স্মরণ করা এবং উন্নত নতুন ভবিষ্যৎ সৃষ্টি করার কথা চিন্তা করা আমাদের বিশেষ কর্তব্য। কেবল অতীতচারিতা নয়, নতুন ভবিষ্যৎ সৃষ্টির প্রয়োজনে অতীতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো দরকার। আমাদের রয়েছে প্রায় দেড় হাজার বছরের লিখিত ইতিহাস। এই ইতিহাসে আমরা কী পাই? আজকের দৃশ্য যতই বেদনাদায়ক হোক, ইতিহাসে কিছু উজ্জ্বল অধ্যায় আমরা পাই যা উন্নত নতুন ভবিষ্যৎ সৃষ্টির কাজে আমাদের অনুপ্রাণিত করে।
বাঙালির জ্ঞানচর্চায়, চিন্তাধারার ও বুদ্ধিবৃত্তির ক্রমবিকাশের ইতিহাস অনুসন্ধান করলে দেখা যায়, বাঙালি শুধু ইউরোপের প্রতিধ্বনি মাত্র নয়; আর্যাবর্ত-ব্রহ্মাবর্তের, মক্কা-মদিনায়, কিংবা মস্কো-পিকিঙের প্রতিধ্বনিও বাঙালি নয়। বাঙালির স্বকীয় সত্তা আছে, স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য আছে, উজ্জ্বল চিন্তা আছে, মহান কর্ম আছে, অনন্য ইতিহাস আছে, অনন্ত সম্ভাবনা আছে। যুগে যুগে বাইরের নানা প্রভাবকে আত্মস্থ করে বাঙালির এই স্বকীয়তা, স্বাতন্ত্র্য, অনন্যতা ও সম্ভাবনা বিকশিত হয়েছে। ইতিহাসের গতিধারায় সাময়িক বিপথগামিতাও দেখা দিয়েছে। বাঙালির আত্মবিকাশের ধারায় মিলন-বিরোধ ও দ্বন্দ্ব-সংঘাত আছে, বিকার ও প্রতিকারের প্রয়াস আছে, অধঃপতন ও নবউত্থান আছে, স্বল্পস্থায়ী ও দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়ক্ষতি আছে, পরাজয় আছে, পরাধীনতা আছে, সর্বোপরি আছে সাধনা, সংগ্রাম ও অপরাজেয় মনোবল। বাঙালি বাইর থেকে গ্রহণ করেছে, কিন্তু অপরের মধ্যে বিলীন হয়নি_ নিজেকে বিকিয়ে দেয়নি। বাহ্যশক্তির সঙ্গে বাঙালির আত্মশক্তির যেমন দ্বন্দ্ব আছে, তেমনি তার আত্মশক্তির গভীরেও আছে দ্বন্দ্ব। অন্তর্দ্বন্দ্বের সঙ্গে আন্তঃদ্বন্দ্বের সম্পর্ক আছে। সর্বোপরি, সকল অনুভূতি ও চিন্তাই পরিবেশের সঙ্গে মানুষের সংস্পর্শ থেকে উদ্ভূত। বাঙালির মননবৈশিষ্ট্য ও চিন্তাধারার স্বরূপ বুঝতে হলে এই সবক'টি বিষয়কেই একসঙ্গে বিবেচনার মধ্যে গ্রহণ করতে হবে।
আমাদের ইতিহাসে মনন-মনীষার উজ্জ্বল সময় আমরা প্রথম পাই শীলভদ্র-দীপঙ্করের কালে। পাল -সাম্রাজ্যে এবং তার বাইরেও এই অঞ্চলে বৌদ্ধ ধর্মকে অবলম্বন করে বাঙালি-মানসে এক অসাধারণ বৌদ্ধিক জাগরণ দেখা দিয়েছিল। বাঙালি পণ্ডিতদের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা ভারতবর্ষে ও তার চারপাশে বহু বহু দূর পর্যন্ত। ব্রাহ্মণ্যবাদী সেন রাজাদের কালে বাঙালির জ্ঞানচর্চার ধারা ক্ষীণ হয়ে পড়ে। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক দিয়েও সেটা ছিল অবক্ষয়ের কাল। সেন রাজারা প্রায় সকলেই ছিলেন কাব্যানুরাগী, তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় সংস্কৃত কাব্য বিকশিতও হয়েছিল। তবে ধোয়ী, গোবর্ধন আচার্য, উমাপতি ধর, জয়বেদ গোস্বামী সকলকেই আত্মাহুতি দিতে হয়েছিল রাজসভার ও ভূপতিদের আদিরসের ক্ষুধা মেটাতে। লক্ষণ সেনের কালে জ্যোতিষ শাস্ত্রের চর্চা ও ব্যবহার বেড়ে গিয়েছিল এবং মানুষ হয়ে পড়েছিল অদৃষ্টবাদী। আর উচ্চশ্রেণীর লোকদের ভোগমত্ততা সমাজে নিদারুণ অবক্ষয়ের সৃষ্টি করেছিল। সেনদের অব্যবহিত পরে এয়োদশ-চতুর্দশ শতাব্দীতে তুর্কি শাসকদের আমলেও অবক্ষয়ের ধারা অব্যাহত ছিল। ইতিহাসে দেখা যায়, সেন ও তুর্কি আমলে বাঙালির জ্ঞানচর্চার ও সুস্থ-সমৃদ্ধ মনোজীবনের পরিচয় নেই, যা পাল আমলে পূর্ণ মাত্রায় ছিল।
তুর্কি আমলের পরবর্তী দুইশ' বছরে পাঠান সুলতানদের কাল। বাঙালির মনোজীবন তখন সমৃদ্ধ। এই সসৃদ্ধির পরিচয় আছে চৈতন্যদেবের শিক্ষায় চৈতন্যপরবর্তী বৈষ্ণব সাহিত্যে, মঙ্গলকাব্যে, অনুবাদ সাহিত্যে। বৈষ্ণব পদাবলিতে যেমন সরল মনের বিরল সমৃদ্ধির পরিচয় আছে, তেমনি বৈষ্ণব তত্ত্বগ্রন্থে বা চৈতন্য জীবনীতে আছে গভীর তত্ত্ব-জিজ্ঞাসার ও তত্ত্ব-অনুশীলনের পরিচয়। মধ্যযুগের ইউরোপীয় স্কলাস্টিক দর্শনের সঙ্গে তুলনায় মধ্যযুগের বাংলায় বৈষ্ণব দর্শন নিষ্প্রভ নয়-বরং উজ্জ্বলতর।
পালপরবর্তী সেন ও তুর্কি শাসকদের কালে যেমন, পাঠান সুলতানদের পরবর্তী মোগল শাসনামলেও তেমনি, বাঙালির জ্ঞানচর্চার ধারাকে সঙ্কীর্ণ হয়ে পড়তে দেখা যায়, এবং সেন ও তুর্কি আমলের মতোই অষ্টাদশ শতাব্দীতেও পুনরায় সমাজে চিন্তাগত নিষ্ক্রিয়তার ও অবক্ষয়ের পরিচয় প্রকট হয়ে ওঠে। ভারতচন্দ্রের অসাধারণ প্রতিভা কৃষ্ণচন্দ্রের রাজসভায় অবনমিত হয়েছে, তার কাব্য প্রসঙ্গে অশস্নীলতার অভিযোগ মুছে যাবে বলে মনে হয় না। রাজপ্রাসাদের কণ্ঠে পরম আত্মনিবেদনের, আশ্রয়-সন্ধানের অবলম্বন খুঁজে হাতড়ে বেড়ানোর আর্ত সুর ধ্বনিত হয়েছে। কবিওয়ালাদের রুচির নিদারুণ নিম্নগামিতা আঠারো শতকের শেষ তিন দশক ও উনিশ শতকের প্রথম তিন দশকব্যাপী প্রতিপত্তি বিস্তার করেছিল। ওই কালের দোভাষী পুঁথিতে প্রমাণ আছে যে, শায়েরদের চেতনাও ছিল অধঃপতিত।
সেন রাজত্বের অবক্ষয়ের কালে বখতিয়ার খিলজি বিনাযুদ্ধে নবদ্বীপ ও লক্ষণাবতী দখল করেন। কিছু কাল তিনি গৌড়ে রাজত্ব করেন। আর তুর্কিদের রাজত্ব দেড়শ' বছর স্থায়ী হয়। আঠারো শতকের নবাবী শাসনের অবক্ষয়কালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বিনাযুদ্ধে বাংলা-বিহার উড়িষ্যার শাসন ক্ষমতা নিয়ে নেয়। মনোজীবনের অবক্ষয় বৈষয়িক জীবনেও বিপর্যয় সৃষ্টি করে। অপরদিকে বৈষয়িক জীবনের বিপর্যয়ে মনোজীবনে বিপর্যয় দেখা দিলেও ইচ্ছাশক্তি, চিন্তাশক্তি ও শ্রমশক্তিকে কার্যকর ও পুনর্গঠিত করে বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়।
ব্রিটিশ শাসিত বাংলার রেনেসাঁসের কথা সকলেরই জানা। যারা এই রেনেসাঁসকে অস্বীকার করেন_এক শ্রেণীর মার্কসবাদী আর আধুনিকতাবাদী ও উত্তরাধুনিকতাবাদীরা_তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও ইতিহাস বিচার ভুল। এই রেনেসাঁসের ধারাবাহিকতায়ই দেখা দেয় গণজাগরণ ও জনগণের সংগ্রাম। তারই মধ্য দিয়ে অবসান ঘটে ব্রিটিশ শাসনের ও জমিদারি ব্যবস্থার, প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অল্পদিনের মধ্যেই আমরা বিচু্যত হয়ে পড়েছি রেনেসাঁস ও গণজাগরণের ধারা থেকে। চিন্তার ক্ষেত্রে প্রাধান্য বিস্তার করেছে আধুনিকতাবাদ, উত্তরাধুনিকতাবাদ, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পুঁজিবাদী বিশ্বায়ন, আর এরই মধ্যে পুনরুজ্জীবিত হয়েছে পুরাতন ধর্মীয় চিন্তাধারা-রেনেসাঁস ও গণজাগরণের মধ্য দিয়ে যার অবসান ঘটানো হয়েছিল।
রামমোহন, ডিরোজিও, ডেভিড হেয়ার, দেবেন্দ্র নাথ, অক্ষয় কুমার, বিদ্যাসাগর, মধুসূদন, বঙ্কিমচন্দ্র, জগদীশ বসু, প্রফুলস্ন রায়, ত্রিবেদী, প্রশান্ত মহলানবিশ, সত্যেন বসু, আশুতোষ মুখোপধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, মীর মশাররফ, বিয়াজ উদ্দিন, মাশহাদী, রোকেয়া, এস ওয়াজেদ আলী, মোহাম্মদ লুতফর রহমান, মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী, কাজী নজরুল ইসলাম, জসীম উদদীন, মোহাম্মদ বরকতুলস্নাহ, আবুল হুসেন, কাজী আব্দুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, মোতাহার হোসেন চৌধুরী, আব্দুল ফজল প্রমুখ মনীষীর চিন্তা-চেতনার মধ্য দিয়ে অভিব্যক্ত হয়েছিল আধুনিক যুগের বাঙালির রেনেসাঁস। আর রেনেসাঁসের ধারাতেই সৃষ্টি হয়েছিল গণজারগরণ ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব। সুখেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিপিনচন্দ্র পাল, চিত্তরঞ্চন দাশ, সুভাষচন্দ্র বসু, একে ফজলুল হক, মওলানা ভাসানী, শেখ মুজিবুর রহমান আত্মপ্রকাশ করেছিলেন গণনেতা হিসেবে।
সেই উজ্জ্বল ঐতিহাসিক যুগের পর স্বাধীন বাংলাদেশে উনচলিস্নশ বছর ধরে আমরা আছি এক চরম বিপর্যয় ও নিদারুণ বিভ্রান্তির মধ্যে। আমরা বিচু্যত হয়ে পড়েছি ব্রিটিশ শাসিত বাঙলার ও পাকিস্তানকালের উজ্জ্বল বৌদ্ধিক ঐতিহ্য থেকে। রাজনীতিতে এবং রাষ্ট্রচিন্তার ক্ষেত্রে বিরাজ করছে ভয়াবহ নৈরাজ্য। আমার মনে হয়, রাজনৈতিক দিক দিয়ে বাংলাদেশ আজ সম্পূর্ণ বিপথগামী। কোন্ ধারাটি ঠিক পথে আছে? (১) এনজিও ও সিভিল সোসাইটির (বুদ্ধিজীবীদের এনজিও) ধারা? (২) আওয়ামী লীগ জোটের ধারা? (৩) বিএনপি জোটের ধারা? (৪) বামপন্থীদের ধারা? আমি আমার উপলব্ধি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ব্যক্ত করে বলতে চাই: প্রতিটি ধারাই বিপথগামী, গোটা বাংলাদেশ আজ বিপথগামী। আরো তিন দশক আগে থেকেই চলছে এই বিপথগামিতা। আরো তিন দশক আগে থেকেই চলছে এই বিপথগামিতা । পথের সন্ধানে বিক্ষিপ্ত চিন্তা আছে; কিন্তু পারস্পারিক সংযোগ ও সংশেস্নষণের অভাবে কোনোটাই দানা বেঁধে উঠছে না এবং চিন্তা চিন্তাধারায় উন্নীত হচ্ছে না। মানুষের মধ্যে সর্বাঙ্গিন, সার্বিক, সমূহ দুর্দশায় উপলব্ধি নেই, নেই সম্ভাবনার উপলব্ধিও!
বিজ্ঞান-প্রযুক্তির এই উন্নতির যুগে সবকিছুকেই পুনর্গঠিত করা আমাদের দরকার। দরকার নতুন সৃষ্টি ও প্রগতি। কিন্তু যে অবস্থা বিরাজ করছে তাতে চলছে গতানুগতির পুনরাবৃত্তি। এ অবস্থায় যুগান্তরের সূচনাপর্বে আমাদের দরকার নতুন রেনেসাঁসের প্রত্যয়। রামমোহান-ডিরোজিও-বিদ্যাসাগার-বঙ্কিম- রবীন্দ্রনাথসৃষ্ট রেনেসাঁসের পুনরাবৃত্তি নয়, বেগম রোকেয়া- মোহাম্মদ লুতফর রহমান- কাজী নজরুল ইসলাম-আবুল হুসেন-কাজী আব্দুল ওদুদ-মোতাহের হোসেন চৌধুরীর রেনেসাঁসেরও পুনরাবৃত্তি বা পুনরুজ্জীবন নয়। আমাদের দরকার নবযুগের নতুন রেনেসাঁস। বর্তমান সময়ের দাবিতে নতুন রেনেসাঁস। আজকের জনপ্রিয় অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার আর ভাবমূর্তি পূজার অবসান ঘটিয়ে বিজ্ঞানসম্মত সৃষ্টিশীল জীবন-জগৎ দৃষ্টি গড়ে তোলার রেনেসাঁস। গণতন্ত্রের নামে, সমাজতন্ত্রের নামে, আধুনিকতাবাদ ও উত্তরাধুনিকতাবাদের নামে, বিশ্বায়নের নামে কায়েম করা হয়েছে অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার। ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাস ও ধর্মীয় কুসংস্কারের চেয়ে এ সবের নামে প্রচলিত কুসংস্কার আজ অনেক বেশি বিপর্যয়কর রূপ নিয়ে কায়েম আছে। আজকের রেনেসাঁসকে এসব কুসংস্কারেরই মোকাবিলা করতে হবে জ্ঞানবল ও চরিত্রবল নিয়ে। প্রতিভাবান, চরিত্রবল প্রয়াসীদের কাজ করতে হবে এক কেন্দ্র হয়ে। সংশেস্নষণমূলক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নিজের জাতির জন্য এবং গোটা মানব জাতির জন্য সৃষ্টি করতে হবে আদর্শ। নতুন রেনেসাঁস প্রয়াসীদের আদর্শ সন্ধান করতে হবে।
=============================
৭২-এর সংবিধানের আলোকে কি রূপকল্প বদল করা উচিত নয়?  জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ :নতুন যুগের বার্তাবাহক  প্রশাসনে জনগণের আস্থা অর্জন জরুরি  পরিবেশ সুরক্ষায় তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা  রাত যায় দিন আসে  শিক্ষা ছাড়া অর্থনৈতিক মুক্তি অসম্ভব  ভালবাসা নিভিয়ে দেয় হিংসার আগুন  মহান মুক্তিযুদ্ধঃ প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি  রহস্যের পর্দা সরিয়ে দ্যুতিময় এমিলি ডিকিনসন  বেগম রোকেয়াঃ নারী জাগরণের বিস্ময়কর প্রতিভা  শিক্ষারমান ও সমকালীন প্রেক্ষাপট  বিজয় দিবসঃ অর্জন ও সম্ভাবনা  একটি ট্রেন জার্নির ছবি ও মাইকেলের জীবন দর্শন  ডক্টর ইউনূসকে নিয়ে বিতর্ক  উচ্চশিক্ষায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাবনা  বাংলাদেশ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন  ক্ষুদ্রঋণ ও বাংলাদেশের দারিদ্র্য  শেয়ারবাজারে লঙ্কাকাণ্ড  মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার  শক্ত ভিত ছাড়া উঁচু ভবন হয় না  ট্রেন টু বেনাপোল  বনের নাম দুধপুকুরিয়া  নথি প্রকাশ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার অ্যাসাঞ্জের  ছিটমহলবাসীর নাগরিক অধিকার  শিক্ষা আসলে কোনটা  জীবন ব্যাকরণঃ হিরালি  ন্যাটো ও রাশিয়ার সমঝোতা ইরানের ওপর কি প্রভাব ফেলবে  জার্নি বাই ট্রেন  পারিষদদলে বলেঃ  চরাঞ্চলের ভূমি ব্যবস্থাপনা  সচেতন হলে শিশু প্রতিবন্ধী হয় না  স্মৃতির জানালায় বিজয়ের মাস  বিচারপতিদের সামনে যখন ‘ঘুষ’  কয়লানীতিঃ প্রথম থেকে দশম খসড়ার পূর্বাপর  শ্বাপদসংকুল পথ  মুক্তিযুদ্ধে গ্রাম  ১২ বছর আগে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে  চট্টগ্রাম ইপিজেডে সংঘর্ষে নিহত ৪  ড. ইউনূস : প্রতিটি বাংলাদেশির গৌরব  জলাভূমিবাসীদের দুনিয়ায় আবার..  আসুন, আমরা গর্বিত নাগরিক হই  স্মৃতির শহীদ মির্জা লেন


দৈনিক ইত্তেফাক এর সৌজন্যে
লেখকঃ আবুল কাসেম ফজলুল হক
সমাজ চিন্তক ও রাজনৈতিক বিশেস্নষক


এই আলোচনা'টি পড়া হয়েছে...
free counters

No comments

Powered by Blogger.