কঠোর হাতে দমন করুন- জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাস

জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সহযোগী ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির কয়েক দিন ধরে দেশব্যাপী যে কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, তা সন্ত্রাসী তৎপরতা ও নাশকতার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।


এ ধরনের কাজ যে ঘটতে পারে, সে ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবগত ছিল বলেই আমরা জেনেছি। এর পরও কেন দেশব্যাপী শিবিরের এই তাণ্ডব ঠেকানো গেল না বা যাচ্ছে না, সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ। গত মঙ্গলবার ফার্মগেট থেকে শুরু করে কারওয়ান বাজার এলাকায় শিবিরের কর্মীরা একই ধরনের তাণ্ডব চালালেন এবং পুলিশ এ সময় অনেকটাই নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করল ও শিবিরের কর্মীদের হাতে মার খেল!
প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, শিবিরের কর্মীরা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আকস্মিকভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছেন, পুলিশকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টাও হয়েছে। আইনমন্ত্রীর গাড়িবহরও তাঁদের হামলার শিকার হয়েছে। জয়পুরহাট ও খুলনায় হরতাল পালিত হয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক দেশে রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর সভা-সমাবেশ করার অধিকার নিশ্চয় থাকবে। সে অনুযায়ী পূর্বঘোষণা দিয়ে সভা-সমাবেশ করার অধিকার জামায়াতে ইসলামী বা ইসলামী ছাত্রশিবিরেরও রয়েছে। মঙ্গলবার ফার্মগেট থেকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের যে মিছিলটি সার্ক ফোয়ারার দিকে আসছিল, সেই মিছিল থেকে গাড়ি ভাঙচুর বা পরবর্তী সময়ে পুলিশের ওপর হামলা চালানোর কোনো কারণই ছিল না।
জামায়াত-শিবির গোষ্ঠী হঠাৎ কেন এ ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানো শুরু করেছে, তার কারণটি স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের যে প্রক্রিয়া চলছে, তার রায় ঘোষণার সময় এগিয়ে আসায় এ ধরনের ধ্বংসাত্মক অবস্থান নিয়েছে দলটি। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তাদের বোঝা উচিত, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দিয়ে আইনি প্রক্রিয়াকে ঠেকানোর চেষ্টা চরম হঠকারিতা ছাড়া কিছু নয়। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অবলম্বন করে এই বিচার-প্রক্রিয়া চলছে এবং বিচারের মান বজায় রাখার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন মতামত ও পরামর্শও নেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, এ দেশের জনগণ একাত্তরে তাদের ওপর পরিচালিত হত্যাযজ্ঞ ও বর্বরতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার চায়। বর্তমান সরকারের এটা অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকারও।
জামায়াত ও শিবিরের এ ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতা কঠোর হাতে দমন করার কোনো বিকল্প নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এ ক্ষেত্রে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারেননি। রাজনীতির নাম করে এ ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতা চলতে দেওয়া যায় না। জনজীবনের নিরাপত্তা তো বটেই, এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তার স্বার্থেও তাদের শক্ত হাতে দমন করতে হবে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এদের মোকাবিলায় দলীয় কর্মীদের মাঠে নামার যে পরামর্শ দিয়েছেন, তা যথার্থ নয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের পক্ষে ও জামায়াত-শিবিরের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টির রাজনৈতিক চেষ্টা সরকারি দল করতে পারে, কিন্তু সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য ঠেকানোর কাজটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেই করতে হবে।

No comments

Powered by Blogger.