দিনাজপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশী নিহত- গুলিবিদ্ধ ৪ জন আটক

দিনাজপুর সীমান্তে সোমবার ভোরে বিএসএফএর গুলিতে এক বাংলাদেশী গরু ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। গুলিবর্ষণের ঘটনায় আহত ৪ বাংলাদেশীকে বিএসএফএর টহলদল ধরে নিয়ে গেছে। বিজিবি-বিএসএফএর কোম্পানি কমান্ডার পর্যায় পতাকা বৈঠকে নিহত ও আহতদের ফেরত চাওয়া হয়েছে।


সোমবার ভোর সাড়ে ৫টায় দিনাজপুরের বিরল উপজেলার এনায়েতপুর সীমান্তের মেইন পিলার-৩২১/৬ থেকে ১শ’ গজ ভারতীয় সীমানায় ১৪০ বিএসএফএর গুলিতে বিরল উপজেলার ধর্মজান গ্রামের লালমিয়ার পুত্র হোসেন আলী (৪০) ঘটনাস্থলে নিহত হয়। গরু ব্যবসায়ী নিহত হোসেনের লাশ বিএসএফএর টহলদল তাদের ক্যাম্পে নিয়ে যায়। এ সময় বিএসএফএর গুলিতে একই গ্রামের মানিক, মাইনুল, আব্দুল কাদের ও ইসলামপুর গ্রামের হামিদুর গুরুতর আহত হলে ৪ জনকেই বিএসএফ তাদের ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সকালে ভারতের উত্তর দিনাজপুর কুসুমন্দী থানার ১৪০ বিএসএফএর গোবরাবিল ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা এই গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটায় বলে এলাকাবাসী জানায়। এলাকাবাসী জানায়, ভারত থেকে গরু নিয়ে ফেরার পথে বিএসএফ সদস্যরা তাদের উপর ৪ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে।
এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে এনায়েতপুর বিওপির কোম্পানি কমান্ডার বজলুর রহমান জানান, সকালে এলাকাবাসীর কাছে ঘটনা জানতে পেরে বিএসএফকে একটি পত্র দেয়ার পর দুপুর দেড়টায় এনায়েতপুর বিজিবি ক্যাম্প ও গোবরাবিলা বিএসএফ ক্যাম্প কমান্ডারের মধ্যে ২০ মিনিটব্যাপী পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে গুলি বর্ষণের ঘটনায় বিজিবি কড়া প্রতিবাদ করে নিহত ও আটক ৪ বাংলাদেশীকে ফেরত দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। বৈঠকে বিএসএফ জানায়, আনুষ্ঠানিকতা শেষে লাশ ফেরত দেয়া হবে। আটক ৪ বাংলাদেশীকে ফেরতের ব্যাপারে উভয় বাহিনীর ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। দিনাজপুর-২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল ফজলে কাদির জানান, একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে আমি শুনেছি। তবে বাকি ৪ জনের ব্যাপারে কিছুই জানি না। নিহত হোসেন আলীর ছেলে সফিকুল ইসলাম জানান, আগে থেকেই তার বাবার সঙ্গে এলাকার চোরাকারবারিদের বিরোধ ছিল। তারাই তাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে বিএসএফ সদস্যদের দ্বারা অথবা নিজেরা পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে।

No comments

Powered by Blogger.