বিজ্ঞান শিক্ষা পিছিয়ে যাচ্ছে

দেশে বিজ্ঞান শিক্ষা ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে বলে সহযোগী একটি ইংরেজী দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল বৈঠকে আলোচনায় উত্থাপিত তথ্য-উপাত্ত থেকে বিষয়টি জানা গেছে। সরেজমিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জরিপের আলোকে গোলটেবিল আলোচনায় উঠে এসেছে যে, ১৯৮৮ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৪১% ছিল বিজ্ঞানের ছাত্র।


২০১০ সালে তা নেমে এসেছে ২২ শতাংশে। জরিপে আরও উঠে এসেছে যে, এসএসসি স্তরে ৪ হাজার ৫০০ জনের মধ্যে ৩ হাজার ৬০০ জন বিজ্ঞান শিক্ষক শুধুমাত্র সাধারণ গণিত বিষয়টি পড়াচ্ছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রের উল্লেখ করে দৈনিকটি জানিয়েছে যে, গত আট বছরে মাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান শিক্ষার্থী কমেছে ৩১ শতাংশ। অপর এক দৈনিকের ১৩ নবেম্বর, ২০১০ সংখ্যায় প্রকাশিত একটি রিপোর্ট থেকে জানা যায় যে, বিজ্ঞানের বদলে শিক্ষার্থীরা ব্যাপকহারে বাণিজ্য শিক্ষার দিকে ঝুঁকছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই প্রাগ্রসর বিশ্ব প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে বিজ্ঞান শিক্ষার এই নিম্নমুখিতা ভাল লক্ষণ নয়। আজকের বিশ্ব জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিস্ময়কর অগ্রগতি সাধন করেছে। এর সঙ্গে খাপ খাওয়ানো এবং এই ধারা অব্যাহত রাখার জন্য বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার জরুরী। কিন্তু সেটি হচ্ছে না।
বিজ্ঞান শিক্ষার এই নিম্নমুখী অবস্থার কারণ অনুসন্ধান করতে গেলে দেখা যায়, একদিকে বিশ্বায়নের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার হওয়ায় ভাল কর্মসংস্থানের আশায় শিক্ষার্থীরা অধিক হারে বাণিজ্য বিষয়ে পড়ার জন্য আগ্রহী হচ্ছে, অন্যদিকে, ব্যয়বহুল টিউটরের কাছে প্রাইভেট পড়তে না পারার কারণে মধ্যবিত্ত এবং গ্রামের অনেক শিক্ষার্থী বিজ্ঞান বিষয় এড়িয়ে চলছে। তাছাড়া পর্যাপ্ত দক্ষ বিজ্ঞান শিক্ষকের অভাবও এ ক্ষেত্রে একটি বড় বিষয়। মাধ্যমিক পর্যায়ে অনেক বিদ্যালয়ে বিষয়ওয়ারি বিজ্ঞান শিক্ষক নেই। অনেক ক্ষেত্রেই পাটী গণিতের শিক্ষক বা অন্য বিষয়ের শিক্ষককে ভিন্ন বিষয়ে পাঠদান করতে হয়। বহু বিদ্যালয়ে নেই ভাল ল্যাবরেটরি, ডেমোনেস্ট্রেটর, আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি।
বিজ্ঞান শিক্ষা ক্ষেত্রে এই পশ্চাৎপদতা কাটাতে গত বছর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়। অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি এ বিষয়ে বিস্তারিত গাইডলাইন সংবলিত একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এই প্রতিবেদনের আলোকে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসারে ব্যাপক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বিজ্ঞান বিষয়ে অধিকসংখ্যক শিক্ষার্থীকে আকৃষ্ট করে তোলাসহ শিক্ষকের স্বল্পতা ও ল্যাবরেটরি সমস্যা নিরসনে ত্বরিত ব্যবস্থা নিতে হবে। আজকের এই বিশ্বায়নের যুগে শিক্ষার্থীরা ব্যবসায় শিক্ষার দিকে অবশ্যই ঝুঁকবে; কিন্তু বিজ্ঞান শিক্ষার ক্রমাবনতি কখনোই কাম্য হতে পারে না। দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিশেষ বিশেষ প্রণোদনার আওতায় বিজ্ঞান শিক্ষায় আগ্রহী করে তোলাসহ এই ক্ষেত্রে বিদ্যমান অন্যান্য সমস্যা নিরসন করতে পারলে এই শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের হার আরও বাড়বে বলে আশা করা যায়।

No comments

Powered by Blogger.