চট্টগ্রামে স্কুলে ভর্তির ফল ফেইসবুকে ফাঁস


চট্টগ্রামের নামি একটি সরকারি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হওয়ার আগেই তা ফেইসবুকে ফাঁস হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে এ ঘটনায় দুটি কোচিং সেন্টারের দুই মালিক, দুইজন স্কুল শিক্ষক এবং দুই স্কুল কর্মচারী জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। 

চট্টগ্রামের সরকারি কলেজিয়েট স্কুলের ভর্তি পরীক্ষার ফল ফাঁসের এ ঘটনায় নগরীর সদরঘাট থানায় একটি মামলা হলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

সোমবার চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ওই ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল ২১ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট এবং পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রকাশ করা হয়। কিন্তু তার ঘণ্টাখানেক আগেই সে ফল ফাঁস হয়ে যায় ফেইসবুকে।

জেলা প্রশাসন বলছে, কলেজিয়েট স্কুলে ফলাফল প্রক্রিয়াকরণের পর জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরের জন্য কেন্দ্র থেকে কাগজপত্র নিয়ে আসা হয়।

“এরপর ওই কেন্দ্রের কম্পিউটারে রক্ষিত সফট কপি প্রিন্ট করে শিক্ষক-কর্মচারী ও কয়েকজন অভিভাবকের সহায়তায় বাবলা স্যার কোচিং সেন্টারের পরিচালক বাবলা দে-কে সরবরাহ করা হয়। এছাড়া মামুন কোচিং সেন্টারের পরিচালক মো. মামুনের সহায়তায় বাবলা দে ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন।”

ফেইসবুকে প্রকাশিত ফলাফল এবং পরে সরকারিভাবে প্রকাশিত ফলাফল একই বলে জানানো হয় জেলা প্রশাসনের বিবৃতিতে।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. হাবিবুর রহমান  বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে শিক্ষক ও কোচিং সেন্টারের মালিকদের পারষ্পরিক যোগসাজোশে ফলাফল ফাঁসের প্রমাণ আমরা পেয়েছি।”

এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শিক্ষা বিভাগের উচ্চমান সহকারী সজল কান্তি মজুমদার বাদী হয়ে রোববার একটি মামলা দায়ের করেন।

কলেজিয়েট স্কুলের সহকারী শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন ও আনিছ ফারুক, উচ্চমান সহকারী ফারুক আহমেদ ও কম্পিউটার অপারেটর রিদুয়ানুল হক এবং দুই কোচিং সেন্টারের মালিক বাবলা দে ও মো. মামুনকে আসামি করা হয়েছে ওই মামলায়।

কম্পিউটার অপারেটর রিদুয়ানুল হককে ইতোমধ্যে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান জানান।

তিনি বলেন, “ভর্তি পরীক্ষা সুচারুভাবে সম্পন্ন করার জন্য নিশ্ছিদ্র ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তারপরও তারা এ কাজ করেছে। আমরা কাউকে ছাড় দেব না।”

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদরঘাট থানার এসআই মো. আওরঙ্গজেব বলেন, “আমরা তদন্ত করছি। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”

No comments

Powered by Blogger.