নৌকাবাইচে নারী-'পাল উড়াইয়া দে'

এটা ঠিক যে, বাইচে অংশগ্রহণ করা নৌকায় পাল থাকে না; বৈঠা ও দাঁড়েরই আধিপত্য সেখানে। কিন্তু বরিশালের উজিরপুরে সন্ধ্যা নদীতে শনিবার অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় চেতনার আগুনে রাঙা এক অদৃশ্য পাল উড়িয়েছেন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার একদল নারী। পুরুষের পাশাপশি তারাও দাঁড় ও বৈঠা নিয়ে নদীতে নেমেছেন।


রোববার সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যাচ্ছে, ঐতিহ্যবাহী ওই নৌকাবাইচে এবারই প্রথম নারী প্রতিযোগী দল অংশ নিয়েছে। শরৎ ও হেমন্তকালে নদীমাতৃক বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে যেসব নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়, সেখানেও কি এর আগে নারীরা অংশ নিয়েছেন? বোধকরি বিরল। আমরা জানি, নৌকাবাইচে পেশির জোর খাটিয়ে নদীর বুকে বৈঠার ঘা দিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। এই নারীরা হয়তো সে ক্ষেত্রে পুরুষদের তুলনায় খানিকটা পিছিয়ে ছিলেন; প্রথম কিংবা দ্বিতীয় পুরস্কার মেলেনি। কিন্তু তাদের বৈঠার আঘাতে দেশের মূলধারার ক্রীড়াক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণের বিষয়টি অনেকখানি এগিয়ে গেল। বাইচে অংশগ্রহণকারী নারী দল এবং তাদের সুযোগ প্রদানকারী আয়োজকদের আমরা অভিবাদন জানাই। সন্ধ্যা নদীর ওই নৌকাবাইচে তারা এক নতুন প্রভাতের সূচনা করেছেন। আমরা আশা করি, আগামী বছর সেখানে একাধিক নৌকা নিয়ে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হবেন নারীরা। এই প্রত্যাশাও এখন সঙ্গত যে, উজিরপুরের উদাহরণ সামনে রেখে দেশের অন্যান্য স্থানের নারীরাও নৌকাবাইচে অংশ নিতে উৎসাহিত হবেন। আমরা এমন স্বপ্নও কি দেখতে পারি না যে, অলিম্পিক বাইচ বা রোয়িং ইভেন্টেও একদিন বাংলাদেশের নারীরা অংশ নেবেন? একই সঙ্গে নারীর জন্য আলাদা নৌকাবাইচের আয়োজন করা যায় কি-না, সংশ্লিষ্টদের ভেবে দেখতে বলব আমরা। বিশ্বব্যাপীই কিন্তু প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে এ ধরনের বিভাজন অনুসৃত। তাতে করে প্রথম-দ্বিতীয় পুরস্কার নারীর হাতে ওঠা নিশ্চিত হয়। নারীর ক্ষমতায়নে আগ্রহী সরকারও এ ব্যাপারে উদ্যোগী হতে পারে। কর্তৃপক্ষীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে অনেক প্রতিবন্ধকতা এড়ানো সহজ হবে। আর আমাদের নারীরা পাল উড়িয়ে, নাও ছেড়ে সামাজিক নানা বৈষম্যের মাঝ দরিয়া পাড়ি দেওয়ার উৎসাহ পাবেন।

No comments

Powered by Blogger.