ডমেনেখের রেকর্ড গড়ার ম্যাচও

ফরাসি ডিফেন্ডার এরিক আবিদাল নিজ দলের সামর্থ্যটা ভালো করেই জানেন। উরুগুয়ের বিপক্ষে নিষ্প্রভ ফুটবল খেলে ড্র করা ফ্রান্সের ভবিষ্যৎ নিয়ে সে কারণেই নিরুদ্বিগ্ন তিনি। ‘২০০৬ সালেও একই অবস্থা হয়েছিল আমাদের। সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেও শেষ পর্যন্ত ফাইনালে পৌঁছেছিলাম। এবারও প্রথম ম্যাচে উরুগুয়ের সঙ্গে ড্র করেছি। এ নিয়ে তাই চিন্তার কিছু নেই’—বলেছেন আবিদাল।
কিন্তু ফ্রান্স দলও কি একই রকম নির্ভার থাকতে পারছে? পারছে না। দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে আজ মেক্সিকোর বিপক্ষে জয় চাই। মেক্সিকোও প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ড্র করেছে (১-১)। সামনে ফ্রান্সের মতো পরাশক্তি, কিন্তু মেক্সিকোর অধিনায়ক জেরার্দো তোরাদোর কথায় সেই সমীহ কোথায়? ‘ফ্রান্স নামের ওজনে বড় হতে পারে। কিন্তু নাম তো আর মাঠে নেমে খেলবে না। খেলবে তো খেলোয়াড়েরাই।’ ঠিকই বলেছেন। দলের নামই যদি সব হতো, তাহলে চীনের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচে ফ্রান্স হারে না (০-১), ১-১ গোলে ড্র করে না তিউনিশিয়ার সঙ্গে। জিদানের সেই ফ্রান্স যেন কোথায় হারিয়ে গেছে!
আজ একটা পরিসংখ্যান ফ্রান্সের জন্য অনুপ্রেরণা হলেও হতে পারে—এর আগে দুই দলের ছয়টি ম্যাচ খেলেছে, মেক্সিকোর কাছে কখনো হারেনি তারা, জিতেছে ৫ ম্যাচ। তবে ফ্রান্স যেন নিজেদের ছায়া হয়ে আছে কিছুদিন ধরে। উরুগুয়ের বিপক্ষে ফ্রান্সকে দেখে হতাশ জিনেদিন জিদান তো বলেই দিয়েছেন, ‘এই ফ্রান্স তাঁর পছন্দ নয়।’ আজ জিজু যেখানেই থাকুন, ‘পছন্দের ফ্রান্সকেই’ খুঁজে ফিরবেন।
সর্বশেষ খবর—মালুদাকে ফেরানো হচ্ছে একাদশে। কোচের সঙ্গে ঝামেলা বাধায় প্রথম ম্যাচে তাঁকে প্রথম একাদশের বাইরে রাখা হয়েছিল বলে অনেকের ধারণা। দলের অন্যতম সেরা এই খেলোয়াড় সেসব ভুলে বলছেন, ‘আপনাকে জিততে হবে। একবার যখন আপনি জিতবেন, পৃথিবীর সবকিছুই সুন্দর লাগবে। সবাই আপনার বন্ধু হবে এবং আপনার দিকে হাসিমুখে তাকাবে।’
দলকে কাঙ্ক্ষিত জয় উপহার দিতে মুখিয়ে আছেন থিয়েরি অঁরি। দলের খোঁড়ানো দেখে অঁরির কি আর ভালো লাগে! আজ তাঁর ওপর দায়িত্বটা তাই একটু বেশিই থাকছে। সাইডলাইন নয়, আজ সম্ভবত প্রথম একাদশেই থাকছেন এই স্ট্রাইকার।
আজ জিতলে মিশেল হিদালগোকে পেছনে ফেলে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ডটা (৪২ জয়) হয়ে যাবে ডমেনেখের। নিজের পছন্দের ছক ৪-২-৩-১-এ ফিরে ফ্রান্স কোচ চাইছেন সেই জয়টা তুলতে।

ফ্রান্স-মেক্সিকো
নিকোলাস আনেলকা
৬৪ ম্যাচে ১৪ গোল, জাতীয় দলে এক যুগের ক্যারিয়ারে আনেলকার রেকর্ডটা দেখলে হয়তো লজ্জা পাবেন তিনি নিজেও। সব আক্ষেপ ঘুচিয়ে দিতে পারেন এই বিশ্বকাপে, যদি টেনে নিয়ে যেতে পারেন ফ্রান্সকে। প্রথম ম্যাচে লক্ষ্যচ্যুত হয়েছিল তাঁর তিনটি হেড, আনেলকা আজ পারবেন গোলমুখ খুলতে?

জিওভানি ডস সান্টোস
হঠাৎ করে দেখলে মনে হবে রোনালদিনহো! চেহারা, শরীর, চুলের সাদৃশ্য তো আছেই, আছে খেলার ধরনেও। সেই একই রকম ছটফটে, ভালোবাসেন বলের কারুকাজ করতে। প্রথম ম্যাচেই ডস সান্টোস দেখিয়েছেন কেন তাঁকে বিশ্বের অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল ফুটবলার ভাবা হয়। নিজেকে চেনাতে চাইবেন আজও।

No comments

Powered by Blogger.