বুড়িগঙ্গায় তিন সত্মরে ৩ বর্জ্য, ওপরের তিন ফুট শুধুই পলিথিন

বুড়িগঙ্গার তলদেশের আবর্জনা অপসারণকালে তিন সত্মরে তিন ধরনের বর্জ্য পাওয়া যাচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রথম সত্মরে ১ থেকে ৩ ফুট পর্যনত্ম পাওয়া যাচ্ছে পলিথিন বর্জ্য। ৩ ফুট থেকে ৫ ফুট গভীর পর্যনত্ম পাওয়া যাচ্ছে পচা কাঠ, পচা গার্মেন্টস সামগ্রী ও খড়কুটো। ৫ ফুট গভীর থেকে সাড়ে ৬ ফুট পর্যনত্ম রয়েছে পচামাটি ও স্থানভেদে বালু।


বুড়িগঙ্গার উত্তরপারে ১ থেকে ৩ ফুটের মধ্যে প্রায় ৭০ ভাগই রয়েছে পলিথিন। তবে দৰিণপারে কেরানীগঞ্জের দিকে পলিথিনের পরিমাণ রয়েছে কম। এখানে পলিথিন মিলছে মাত্র ২০ ভাগ। আর মাঝনদীতে পলিথিনের পরিমাণ প্রায় ১০ ভাগ। উত্তরপারে বাকল্যান্ড বাঁধের নিচে মিলেছে বাদামতলী ফলের আড়তের বর্জ্য। বিনা স্মৃতি গোসলঘাটে পলিথিন পচা ফলের আবর্জনা এবং ওয়াইজঘাটের নিচে বিভিন্ন রকমের ময়লার সত্মূপ। দৰিণ পাশে পাওয়া যাচ্ছে কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন গার্মেন্টস কারখানার টুকরো কাপড় ও এলাকার বাসিন্দাদের ব্যবহৃত আবর্জনা।
তবে সরকার নদীর তলদেশ আবর্জনা অপসারণের উদ্যোগ নিলেও নদীর তীরে ময়লা ফেলা বন্ধ হচ্ছে না। এলাকাবাসীর অনেকে অভিযোগ করে বলেছেন, সরকার একদিকে নদী থেকে ময়লা পরিষ্কার করছে অন্যদিকে নদী তীরে ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা পুনরায় বর্জ্য ফেলছে নদীতে। এ অভিযোগ স্বয়ং বর্জ্য অপসারণকারীদেরও। তাঁরা বলেন, ৩ দিন আমরা বর্জ্য অপসারণ করছি কিনুত্ম উভয় তীরের লোকজনের এসব আবর্জনা নদীতে ফেলা বন্ধ করছে না। কিনত্মু দেখার কেউ নেই। তাদের দাবি, নদীর তীরে যদি ডাস্টবিন থাকত তাহলে এত আবর্জনা নদীতে পড়ত না।
এদিকে তৃতীয় দিনেও আবর্জনা অপসারণের কাজ অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যনত্ম শ্রমিকদের কাজ করতে দেখা গেছে। ৪টি বলগেডে প্রায় দেড় শ' শ্রমিক আবর্জনা লোড আনলোড করছে। এমভি সামিউল বলগেডের অপারেটর খায়রম্নল হোসেন জানান, ৪টি বলগেডে করে শুক্রবার প্রায় ৩২শ' টন বর্জ্য লোড আনলোড করা হচ্ছে। দুপুরের ১ ঘণ্টা বিরতি ছাড়া সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যনত্ম কাজ চলছে। তিনি জানান, বর্ষার আগ পর্যনত্ম পানি কম থাকায় দ্রম্নতগতিতে বর্জ্য অপসারণ করা সম্ভব হ্ব।ে নদীর পানি বেড়ে গেলে কাজের গতি অনেকটা কমে আসবে। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যনত্ম দ্রম্নত কাজ হবে। এপ্রিলে পানি বাড়তে থাকলে কাজ কম হবে।
বর্জ্য অপসারণকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুড়িগঙ্গার দৰিণ তীরে বিআইডবিস্নউটিএ'র একাধিক ডক ইয়ার্ড থাকার কারণে বর্জ্য অপসারণ কাজে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব ডকইয়ার্ড না সরানো গেলে এর নিচ থেকে আবর্জনা পরিষ্কার করা সম্ভব হবে না। এছাড়া বালু ড্রেজারে পাইপও রয়েছে অনেক জায়গায়। এসব পাইপ সরিয়ে না নিলে কাজে বাধা হয়ে দেখা দিতে পারে। বর্জ্য অপসারণে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানায়, নদীর পানি নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে গোসল, রান্না ও খাওয়ার পানি সহজে পাওয়া যাচ্ছে না। যেহেতু তাদের সর্বৰণিক জাহাজের মধ্যে থাকতে হয় তাই বিশুদ্ধ পানি বাইরে থেকে আনতে সময়ের অপচয় হচ্ছে। বিআইডবিস্নউটিএ'র এক প্রকৌশলী নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, বুড়িগঙ্গা নদীর প্রথম পর্বের কাজ হবে দ্বিতীয় বুড়িগঙ্গা সেতুর পূর্বদিকে ৫শ' মিটার এবং পশ্চিম দিকে ৫শ' মিটার। আর এর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৩২ লাখ। কাজ সম্পন্ন করার জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ মাস। তবে কাজ শেষ হতে তিন মাসের পরিবর্তে ৪ মাস সময় লাগতে পারে। তিনি জানান, শুধু নদী খনন ও বর্জ্য পরিষ্কার করলেই বুড়িগঙ্গার পানি দূষণমুক্ত হবে না। যতদিন নদী তীর থেকে ট্যানারি বর্জ্য, ডাইয়িং কারখানার বর্জ্য, পয়ঃবর্জ্য ও নদীর তীরের ব্যবসায়ীদের বর্জ্য নদীতে ফেলা বন্ধ না হবে ততদিন বুড়িগঙ্গার পানি ও পরিবেশ দূষণমুক্ত করা সম্ভব হবে না।

No comments

Powered by Blogger.