ঈদে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট ১২ জুন থেকে



ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও অগ্রিম টিকিট বিক্রির সব প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সেই সঙ্গে টিকিট কালোবাজারি রোধ ও যাত্রী নিরাপত্তায়ও নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। ১২ থেকে ১৬ জুন ঢাকার কমলাপুর ও চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হবে। ১৯ থেকে ২৩ জুন বিক্রি করা হবে ঈদ ফেরত টিকিট। ঈদের আগে ৩ দিন (২৩-২৫ জুন) এবং ঈদের পরের দিন থেকে ৭ দিন (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২৮ বা ২৯ জুন থেকে থেকে ৪ বা ৫ জুলাই) ৫ জোড়া ঈদ স্পেশাল ট্রেন চালানো হবে। পবিত্র ঈদের দিন চলবে শোলাকিয়া স্পেশাল। অতিরিক্ত যাত্রী বহনে পাহাড়তলী ও সৈয়দপুর ওয়ার্কশপ থেকে ১৭১টি (১২২টি মিটারগেজ ও ৪৯টি ব্রডগেজ) যাত্রীবাহী কোচ বিভিন্ন ট্রেনে সংযুক্ত করা হবে। ১ জুন রেলভবনে অনুষ্ঠিত বিশেষ বৈঠকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ সিদ্ধান্ত নেন। কাল রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন। এ বিষয়ে রেলপথমন্ত্রী জানান, এবার ঈদে যাত্রীসেবা বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত যাত্রী বহনে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর রেলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় গত বছর ২৭০টি অত্যাধুনিক যাত্রীবাহী কোচ ভারত ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আনা হয়েছে। এবার ঈদে যাত্রীরা নতুন ট্রেনে ভ্রমণ করতে পারবেন। গত বছর ঈদে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী চলাচল করেছেন। এবার প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার যাত্রী চলাচল করতে পারবেন। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী যুগান্তরকে জানান, টিকিট বিক্রির সুবিধার্থে এবার কমলাপুর ও চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে কাউন্টার ও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। কমলাপুরে ২৩টি কাউন্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ১২ জুন থেকে এগুলোতে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত টিকিট বিক্রি করা হবে। তিনি আরও বলেন, নারীদের জন্য এবারও আলাদা কাউন্টার রাখা হয়েছে, আলাদা কাউন্টার থাকছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্যও।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, চট্টগ্রাম স্টেশনে একটি কাউন্টার বাড়িয়ে ৯টি করা হয়েছে। ১২ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত একযোগে টিকিট বিক্রি হবে। টিকিট কালোবাজারি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যাত্রীদের টিকিট কাটা সহজ ও সেবা বাড়াতে নেয়া হয়েছে ব্যবস্থা। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ১২ জুন ২১ জুনের, ১৩ জুন ২২ জুনের, ১৪ জুন ২৩ জুনের, ১৫ জুন ২৪ জুনের ও ১৬ জুন ২৫ জুনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হবে। একজন যাত্রী সর্বোচ্চ ৪টি টিকিট কিনতে পারবেন। ১৯ জুন ২৮ জুনের, ২০ জুন ২৯ জুনের, ২১ জুন ৩০ জুনের, ২২ জুন ১ জুলাইয়ের, ২৩ জুন ২ জুলাইয়ের ফিরতি টিকিট বিক্রি হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতেও এ সূচিতে টিকিট-ফিরতি টিকিট বিক্রি করা হবে। সূত্র জানায়, প্রতিবারের মতো এবারও ভিআইপিদের জন্য অতিরিক্ত কোচ হতে এসি ও প্রথম শ্রেণীর ৫ শতাংশ এবং রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ৫ শতাংশ মোট ১০ শতাংশ টিকিট সংরক্ষণ করা হবে। এছাড়া ই-টিকিটে আরও ২৫ শতাংশ টিকিট সংরক্ষণ করা হবে। সব মিলিয়ে ৩৫ শতাংশ টিকিট সংরক্ষিত থাকবে। ঈদ উপলক্ষে দেওয়ানগঞ্জ স্পেশাল ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা, চাঁদপুর স্পেশাল-১ চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম, চাঁদপুর-২ চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম, পার্বতীপুর স্পেশাল পার্বতীপুর-ঢাকা-পার্বতীপুর, রাজশাহী স্পেশাল রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী, শোলাকিয়া স্পেশাল-১ ভৈরব-কিশোরগঞ্জ-ভৈরব, শোলাকিয়া স্পেশাল-২ ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ চলাচল করবে। ট্রেন চালানোর সুবিধার্থে অতিরিক্ত ২৪টি ইঞ্জিন প্রস্তুত রাখা হবে।

No comments

Powered by Blogger.