মাকড়সা বৃষ্টি!

অস্ট্রেলিয়ার গুলবার্নের আকাশ থেকে ঝরছে কোটি কোটি
মাকড়সার বাচ্চা। ছবি: অস্ট্রেলিয়ার ডেইলি স্টারের সৌজন্যে
ফরসা আকাশ, অথচ মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। তবে সেই বৃষ্টিতে নেই পানির ফোঁটা। বৃষ্টির ফোঁটার পরিবর্তে আকাশ থেকে ঝরছে কোটি কোটি মাকড়সা। শুধু তাই নয়, যে এলাকায় এই মাকড়সা বৃষ্টি হচ্ছে সেই এলাকা ছেয়ে গেছে মাকড়সার জালে। সাদা হয়ে আছে চারপাশ। গল্প মনে হলেও সত্যি, দুদিন আগে অস্ট্রেলিয়ার গুলবার্ন এলাকায় এমন বৃষ্টি হয়।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাকড়সা বৃষ্টির কারণে গুলবার্নের বাসিন্দারা বিস্মিত হলেও বিজ্ঞানীরা অতটা বিস্মিত নন। কারণ, তাঁরা বলছেন, এই মাকড়সা বৃষ্টি আগেও দেখা গেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস, ব্রাজিল ও অস্ট্রেলিয়ার ওয়াগা ওয়াগা শহরেও এই মাকড়সা বৃষ্টি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
গুলবার্নের বাসিন্দা ইয়ান ওয়াটসন জানান, ‘মনে হচ্ছিল আকাশ থেকে কোটি কোটি মাকড়সার বাচ্চা পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে। শুধু তাই নয়, মাকড়সা বৃষ্টির পাশাপাশি চারপাশ ছেয়ে গেছে মাকড়সার জালে। মাকড়সার জালের কারণে সূর্যটাকেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। আর মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই আমার বাড়িটিও ছেয়ে যায় মাকড়সার বিশালাকৃতির একটি জাল দিয়ে। এ ঘটনায় অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।’
২০১২ সালের মার্চ মাসে অস্ট্রেলিয়ার ওয়াগা ওয়াগা শহরে মাকড়সা বৃষ্টি হয়। সে সময় চারদিক ছেয়ে যায় মাকড়সার জালে। ছবি: ন্যাশনাল জিওগ্রাফির সৌজন্যে
এ বিষয়ে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও পতঙ্গবিদ রিক ভেটার বলেন, মাকড়সা সব সময় আমাদের ঘিরেই থাকে। আমরা তা বুঝতে পারি না। আবহাওয়ার পরিবর্তন হওয়ার কারণেই মাকড়সারা নিচে নেমে আসে। মাকড়সার শূন্যে ঝুলে থাকতে পারে। আর নিচে নামার সময় তৎক্ষণাৎ জাল তৈরি করে।
অস্ট্রেলিয়ার জাদুঘরের প্রকৃতিবিজ্ঞানী মার্টিন রবিনসন বলেন, এটাকে বেলুনিং বলে। ডিম পাড়ার আগে মাকড়সা সূক্ষ্ম রেশমের মতো কিছু একটা তৈরি করে। আর এর ভেতরেই থাকে ডিম। এই রেশমের মতো বস্তুটি দিয়ে তারা উড়ে উড়ে বহুদূর যেতে পারে। এ জন্য তাদের আট পায়ে হাঁটার দরকার হয় না। আর উড়ে যাওয়ার সময় ডিম ফুটে কোটি কোটি বাচ্চা বের হয়। শূন্য থেকে সেই বাচ্চাগুলো নামতে থাকে বলে তা মাকড়সা বৃষ্টির মতো মনে হয়। এটা সব সময় হয় না। আর এই মাকড়সা বৃষ্টি মানুষের জন্য ক্ষতিকরও নয়।

No comments

Powered by Blogger.