গাদ্দাফি সমর্থকদের ওপর হামলা, সংঘর্ষে নিহত ১১

লিবিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বনি ওয়ালিদ নগরীতে সংঘর্ষে ১১ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৭৫ জন। গত বুধবার সেনাবাহিনী সমর্থিত সাবেক বিদ্রোহীদের সংগঠন লিবিয়া শিল্ড ব্রিগেড মিসরাতা জেলার বনি ওয়ালিদে সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির সমর্থকদের ওপর হামলা চালালে উভয়পক্ষে সংঘর্ষ বেধে যায়।


এ সময় ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে। বনি ওয়ালিদ গাদ্দাফির সমর্থকদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
বনি ওয়ালিদের কর্মকর্তা মাসুদ আল ওয়ায়ের বলেন, তিন দিক থেকে ঘিরে নগরীতে হামলা চালানো হয়। লিবিয়া শিল্ড ব্রিগেড দাবি করেছে, সরকারের নির্দেশেই তারা হামলা চালিয়েছে। যদিও সেনাবাহিনী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
তবে গত বুধবার সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ এক বিবৃতিতে জানান, তাঁরা বনি ওয়ালিদে অভিযান চালাতে প্রস্তুত। লিবিয়ার রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা এলএএনএ বিবৃতিটি প্রকাশ করে। এ প্রসঙ্গে সেনাবাহিনী কোনো মন্তব্য করেনি।
গত জুলাইয়ে ওমরান বিন শাবান নামের (২২) এক যুবককে বনি ওয়ালিদে ৫০ দিন আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। গাদ্দাফিকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্যই তাঁকে অপহরণ ও নির্যাতন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তাঁর অপহরণের জন্য গাদ্দাফি সমর্থকদের দায়ী করা হয়। পরবর্তী সময়ে লিবিয়ার অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার এবং ক্ষমতাসীন জেনারেল ন্যাশনাল কংগ্রেসের (জিএনসি) প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মাগারিফের মধ্যস্থতায় মুক্তি পান শাবান। পরে গুরুতর আহত শাবান প্যারিসে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
শাবানের মৃত্যুর পর থেকেই মিসরাতার লোকজন বনি ওয়ালিদে অভিযান চালানোর দাবি জানিয়ে আসছিল। বনি ওয়ালিদের বাসিন্দাদের শাবানের হত্যাকারীকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। কয়েক সপ্তাহ ধরেই নগরীটিকে ঘিরে রেখেছিল লিবিয়া শিল্ড। সূত্র : বিবিসি, এএফপি, টেলিগ্রাফ।

No comments

Powered by Blogger.