সারের কোনো সংকট হবে না: শিল্পমন্ত্রী

দেশে প্রচুর পরিমাণে সারের মজুদ রয়েছে। আমদানি ও উৎপাদনের মাধ্যমে তা আরও বাড়বে। আর তাই আসন্ন ইরি-বোরো মৌসুমে সারের কোনো সংকট হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া।
তা ছাড়া সারা দেশের কৃষকের কাছে নির্দিষ্ট সময়ে সুষ্ঠুভাবে সার সরবরাহ ও বিতরণের বিষয়টিও নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী।
আর সার আমদানির জন্য চলতি অর্থবছর সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হবে। গত অর্থবছরে সার আমদানিতে তিন হাজার ২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়।
গতকাল বুধবার দেশের বর্তমান সার উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিল্পমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান্রেশিল্পসচিব কে এইচ মাসুদ সিদ্দিকী, বিসিআইসির চেয়ারম্যান মো. গোলাম রাব্বানীসহ শিল্প মন্ত্রণালয় ও বিসিআইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, সাধারণত জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস সময়কে ভরা মৌসুম হিসেবে গণ্য করা হয়। দেশে এ সময় সারের চাহিদা সর্বোচ্চ পরিমাণ থাকে। এবার চাহিদার পরিমাণ ১২ লাখ আট হাজার ৩৮২ টন। কিন্তু এ সময় দেশের সার কারখানাগুলোর উৎপাদন, আগের মজুদ ও সম্ভাব্য আমদানি মিলিয়ে প্রাপ্তি হবে ১৮ লাখ দুই হাজার ২০৩ টন।
দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ‘সার দেশের কৃষি উৎপাদনের একটি স্পর্শকাতর উপাদান। এর সঙ্গে দেশের খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়টি গভীরভাবে জড়িত। এ জন্য সারসংক্রান্ত বিষয়ে যেকোনো তথ্য সঠিকভাবে দেশের জনগণের কাছে পৌঁছা অত্যন্ত জরুরি বলে আমি মনে করি।’
সামনে ইরি-বোরো মৌসুমকে সামনে রেখে চাষিরা যেন সারের জন্য কোনো দুশ্চিন্তায় না থাকেন, সে লক্ষ্যে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণে মোট আটটি সার কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি কারখানায় ইউরিয়া, একটি কারখানায় টিএসপি ও এসএসপি এবং একটিতে ডিএপি সার উৎপাদিত হয়।
শিল্পমন্ত্রী বলেন জানান, চাহিদাকৃত ইউরিয়া সারের পুরোটাই বিসিআইসি জোগান দেবে। এর মধ্য্রেকারখানার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা্র সাড়ে ১১ লাখ টন ও আমদানি লক্ষ্যমাত্রা্র্র১৬ লাখ ৮১ হাজার টন।
এ ছাড়া টিএসপি ও ডিএপি সারের মোট চাহিদার মধ্যে বিসিআইসি এক লাখ টন টিএসপি এবং দেড় লাখ টন ডিএপি সার উৎপাদন করবে। টিএসপি ও ডিএপি সারের অবশিষ্ট চাহিদা বিএডিসি ও বেসরকারি পর্যায়ে আমদানির মাধ্যমে জোগান দেওয়া হবে।
চলতি অর্থবছরের আমদানির মোট লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে কাফকো (বাংলাদেশ) থেকে ছয় লাখ টন, মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ্রছয় লাখ টন এবং আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যম্রেচার লাখ ৮১্রলাখ টন আমদানি করা হবে।্র
তিনি বলেন, বিসিআইসির ছয়টি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে বর্তমানে তিনটি কারখানায় এএফসিসিএল (আশুগঞ্জ), পিইউএফএফএল (পলাশ) ও এনজিএফএফএল (ফেঞ্চুগঞ্জ) এ উৎপাদন চালু রয়েছে। স্বাভাবিক গ্যাস প্রেসার না থাকায় যমুনা ও সিইউএফএল এ উৎপাদন চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। গ্যাস প্রেসার স্বাভাবিক হওয়া মাত্রই উল্লিখিত দুটি কারখানায় ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হবে।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, আমদানি করা ইউরিয়া সার বাফার গুদামে পরিবহন ও সংরক্ষণের সুবিধার্থে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে রেলওয়ে সাইডিংসহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ইউরিয়া সারবাহী জাহাজ বার্থিংয়ের ব্যবস্থা করাসহ লাইটারেজ ভ্যাসেল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রদানের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণ করা হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে পাটুরিয়া-বাঘাবাড়ী নৌপথে সারবাহী জাহাজ স্বাভাবিক ড্রাফট নিয়ে যাতে চলাচল করতে পারে, সে জন্য নদীর নাব্যতা বৃদ্ধির জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে পত্র প্রেরণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম এবং মংলা সমুদ্রবন্দরে ২০ হাজার টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ট্রানজিট গুদাম নির্মাণের ব্যবস্থা হাতে নেওয়া হয়েছে।
সারের চালচিত্র
চাহিদা
ইউরিয়া ২৮.৩১ লাখ টন
টিএসপি ৫.৬০ লাখ টন
ডিএপি ৩.৪০ লাখ টন
আমদানি লক্ষ্যমাত্রা (ইউরিয়া) ১৬.৮১ লাখ টন
উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১৪.৫০ লাখ টন
প্রারম্ভিক মজুদ (ইউরিয়া) ৫.৯৪ লাখ টন

No comments

Powered by Blogger.