শরণার্থীদের অধিকাংশই ‘অবৈধ বাংলাদেশী শ্রমিক’ । থাইল্যান্ডের পুরো সমাজ মানব পাচারে জড়িত: বিবিসি

থাইল্যান্ডে সম্প্রতি উদ্ধার হওয়া অভিবাসন-প্রত্যাশীরা। ছবি: রয়টার্স
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় যে মারাত্মক অবৈধ অভিবাসী সঙ্কট দেখা দিয়েছে, শেষ পর্যন্ত তা নিরসনে এগিয়ে এসেছে সংশ্লিষ্ট দেশসমূহ। সমুদ্রে ভাসমান প্রায় ৭,০০০ বাংলাদেশী ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা অভিবাসীদের উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলমান। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার কর্মকর্তারা বলছেন, শরণার্থী সঙ্কটে পড়া এ মানুষদের অধিকাংশই অবৈধ বাংলাদেশী শ্রমিক। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী জুলি বিশপ বলেছেন, ইন্দোনেশিয়া ধারণা করছে, সমুদ্রে যে ৭,০০০ অভিবাসী ভাসমান অবস্থায় রয়েছেন, তাদের মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ রোহিঙ্গা। তিনি বলেন, বাকিদের অধিকাংশই বাংলাদেশী। এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য অস্ট্রেলিয়ান। গতকাল দক্ষিণ কোরিয়া সফরে দেশটির রাজধানী সিউলে বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ মন্তব্য করেন। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইন্দোনেশিয়ার ভাষায় তারা আশ্রয়প্রার্থী নন, তারা শরণার্থী নন, তারা অবৈধ শ্রমিক।
থাইল্যান্ডের পুরো সমাজ মানব পাচারে জড়িত: বিবিসি
থাইল্যান্ডের পুরো সমাজ মানব পাচারে জড়িত। বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। মানব পাচার নিয়ে অনুসন্ধান করেছেন বিবিসির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংবাদদাতা জোনাথন হেড। তাঁর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি গতকাল শুক্রবার বিবিসি অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে। হেডের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, থাইল্যান্ডের পুরো সমাজ মানব পাচারকারীদের সহায়তা করছে।
বিবিসির এই সংবাদদাতার ভাষ্য, থাইল্যান্ডের তাকুয়া পা জেলার প্রধান মনিত পিয়ানথং তাঁর কাছে দাবি করেছেন, অভিবাসন-প্রত্যাশীদের নৌকা থেকে ট্রাকে স্থানান্তরের স্থান হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর জেলাকে ব্যবহার করছে মানব পাচারকারীরা। এটা বন্ধ করতে চাইলেও দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার বা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে তেমন সহায়তা পাচ্ছেন না তিনি।
হেডের দাবি, তিনি বেশ কয়েক দিন ধরে মনিতকে সরকারি ও পুলিশের ক্ষুব্ধ কর্মকর্তাদের ফোন ধরায় ব্যস্ত থাকতে দেখেছেন। গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলায় তাঁরা মনিতকে ধমকাচ্ছিলেন।
হেড লিখেছেন, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বাংলাদেশিদের আগমন বাড়তে থাকা এটাই প্রমাণ করে, আদম ব্যবসা বিস্তৃত হচ্ছে। আর এটা অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা।
হেড তাঁর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মানব পাচার ব্যবসার মডেল তুলে ধরেছেন। তাঁর বিবরণ মতে, থাই পাচারকারীচক্র অভিবাসন-প্রত্যাশীদের নৌকাবোঝাই করে আনে। থাই পুলিশসহ বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, ৩০০ মানুষ বোঝাই একটা কার্গোর দাম ২০ হাজার ডলার বা তার বেশি। পরিবারের কাছ থেকে জনপ্রতি দুই থেকে তিন হাজার ডলার মুক্তিপণ আদায় করা পর্যন্ত ওই অভিবাসন-প্রত্যাশীদের জঙ্গলে আটকে রাখা হয়।
থাই গ্রামবাসীর সামনে পাচারকারীরা কীভাবে এই ব্যবসা চালাচ্ছে—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে হেড জানিয়েছেন, পাচারকারীরা তাদের ব্যবসার সঙ্গে স্থানীয় লোকদের যুক্ত করেছে।
থাইল্যান্ডে হেডের দেখা একটি মানব পাচার ক্যাম্পের কাছের একটি গ্রামের এক মুসলিম যুবকের ভাষ্য, অর্থের জন্য পুরো গ্রামবাসী মানব পাচারের সঙ্গে যুক্ত। পাচারকারীরা সবাইকে ভাড়া করে। ক্যাম্পের ওপর নজরদারি এবং খাবার সরবরাহের জন্য পাচারকারীরা লোক ভাড়া করে। লোক ভাড়া করতে তারা গ্রামের ঘরে ঘরে যায়।

No comments

Powered by Blogger.