বিসিবির বিপক্ষে অসিদের ব্যাটিং অনুশীলন, হেস্টিংসের হ্যাটট্রিক



বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করার আগে ব্যাটিং অনুশীলনটা ভালোই হলো পন্টিং, হাডিন, ক্লার্কদের। আজ ফতুল্লায় প্রস্তুতি ম্যাচে তাঁরা বিসিবি একাদশকে হারিয়েছে ৯০ রানে। এই ম্যাচের উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল অসি বোলার হেস্টিংসের হ্যাটট্রিক । তিনি পরপর তিন বলে বিসিবির রকিবুল, কাপালি ও শুভাগত হোমকে ফেরান।
সকালে টসে জিতে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন। বল হাতে মাঠে নেমে শুরুটা একেবারে মন্দ করেনি বিসিবি একাদশ। অস্ট্রেলিয়ার দলীয় ৩১ রানেই প্যাভিলিয়নমুখী হন শেন ওয়াটসন। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে বিসিবির বোলারদের উল্লাস বলতে এতটুকুই। এরপর পরই ব্যাট হাতে ডলার মাহমুদ, মাহবুবুল আলম, শুভাশীষ রায়দের ওপর চড়াও হন পন্টিং-হাডিনরা। রিকি পন্টিং তাঁর অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার ‘ক্ষোভ’টা ভালোই মিটিয়ে নেন বিসিবির অপেক্ষাকৃত অনভিজ্ঞ বোলারদের তুলোধুনো করে। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ব্র্যাড হাডিনও পন্টিংকে ভালোই সহায়তা করেন। পন্টিং ব্যক্তিগত ৬৯ রানে মাহবুবুল আলমের বলে অলক কাপালির হাতে ধরা পড়েন। হাডিন অন্য ব্যাটসম্যানদের সুযোগ দিতে স্বেচ্ছায় অবসর নেন। এরপর অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক ৫৫ ও মাইক হাসি ৬৯ রানের দুটো ইনিংস খেলেন। ক্লার্কও স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে ক্যামেরন হোয়াইটকে ব্যাটিংয়ের সুযোগ করে দেন। তবে হোয়াইট ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে শুভাগত হোম চৌধুরীর বলে এলবিডব্লিউ হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। এরপর আউট হন স্মিথ, মিচেল জনসন ও হেস্টিংস। বিসিবি একাদশের পক্ষে ডলার, শুভাশীষ রায়, মাহবুবুল আলম, ফরহাদ রেজা, শুভাগত হোম প্রত্যেকেই একটি করে উইকেট নেন। সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়া ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে দাঁড় করায় ৩০৮ রানের ভালো একটি ইনিংস।
শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিসিবি একাদশের উদীয়মান ক্রিকেটাররা ৩০৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতে যাবে—এমন আশা হয়তো কেউই করেননি। তবে দিন শেষে জনসন, হেস্টিংস, ব্রেট লি, ডেহার্টি, ওয়াটসনদের বিপক্ষে বিসিবির ইনিংসটি কিন্তু আশাজাগানিয়াই। তবে অধিনায়ক রকিবুল হাসান ও মাইশুকুর রহমানের ১৪৯ রানের দুর্দান্ত এক জুটির পর মিডল অর্ডারের হুড়মুড় করে ভেঙে পড়াটাই যা একটু পীড়া দিচ্ছে। তবে পুরো ৫০ ওভার খেলে বিসিবি একাদশের ২১৮ রানের সংগ্রহটি কিন্তু একেবারেই ফেলে দেওয়ার মতো নয়।
বিসিবির ইনিংস শুরু হয় একটা বিপর্যয় দিয়েই দলীয় ১১ রানে মিথুন আলী মিচেল জনসনের বলে ধরা পড়েন উইকেটরক্ষক হাডিনের হাতে। এরপর ১২ রানেই জনসন নিজের বলে নিজেই ক্যাচ নিয়ে ফেরান রনি তালুকদারকে। এরপর জাতীয় দলের রকিবুল হাসান ও নবীন মাইশুকুর ধীরে-সুস্থে খেলে দারুণ দক্ষতায় মোকাবিলা করতে থাকেন ব্রেট লি, জনসন, প্যাটিসনদের। ৩৫ ওভার পর্যন্ত তাঁরা নিরবচ্ছিন্ন থেকে দলের একটি ভিত্তি গড়ে দেন। দলীয় ১৬১ রানের মাথায় হেস্টিংসের বলে বোল্ড হন রকিবুল। এরপর একই স্কোরে শূন্য রানে হেস্টিংস ফিরিয়ে দেন সদ্যই জাতীয় দলে ডাক পাওয়া অলক কাপালিকে। শুভাগত হোমও কাপালির পথ অনুসরণ করে হেস্টিংসকে উপহার দেন সন্তুষ্টির এক হ্যাটট্রিক। লোয়ার অর্ডারে মমিনুল, মাহমুদুল হাসান ও ফরহাদ রেজার ছোট ছোট তিনটি ইনিংসে বিসিবি একাদশের ইনিংস ২০০ রানের কোটা পেরিয়ে যায় বেশ ভালোভাবেই। শুভাগত পর ডেহার্টির বলে কেবল আউট হন মমিনুল হক।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
অস্ট্রেলিয়া ৩০৮/৬ (৫০ ওভার)
পন্টিং ৬৯, ক্লার্ক ৫৫*, হাডিন ৬৬*, হাসি ৬৯
ডলার ১/৬৩, শুভাশীষ ১/৫৯, মাহবুবুল ১/৫৯
ফরহাদ রেজা ১/৫৯, শুভাগত হোম ১/১৮
বিসিবি একাদশ ২১৮/৭ (৫০ ওভার)
মাইশুকুর ৬৮, রকিবুল ৬৫, মাহমুদুল ১৮, মমিনুল ১৫, ফরহাদ রেজা ১৯
হেস্টিংম ৪/১৫
(অস্ট্রেলিয়া ৯০ রানে জয়ী)

No comments

Powered by Blogger.