কেনিয়ায় স্কুলের বোর্ডিংয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৭ শিক্ষার্থী
স্কুলটিতে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮০০। এদের বেশির ভাগই ৫ থেকে ১২ বছর বয়সী। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তবে ঠিক কি কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে তা এখনও শনাক্ত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় পুলিশের মুখপাত্র রেসিলা ওনিয়াঙ্গো বলেছেন তারা প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। মৃতদেহগুলো আগুনে এতটাই ঝলসে গেছে যে তাদের দেখে শনাক্ত করা যাচ্ছে না। কেনিয়ার এফএম-৯৬ রেডিওতে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়েছেন এবং তারা কাজ করছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। এক্সের এক বার্তায় তিনি বলেছেন, আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সঠিক তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছি। দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। রুটোর ডেপুটি, রিগাথি গাচাগুয়া জানিয়েছেন, বোর্ডিং স্কুলের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর সুপারিশকৃত সুরক্ষা নির্দেশিকাগুলি অনুসরণ করা হচ্ছে এবং তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্কুল প্রশাসকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। কেনিয়া রেড ক্রস এই অগ্নিকাণ্ডকে ‘দুঃখজনক ঘটনা’ হিসাবে বর্ণনা করেছে, তারা বলেছে যে, কমপক্ষে ১১ জন আহত শিশুকে নয়েরি প্রাদেশিক জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সংস্থাটির এক্স-এর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলটি পুলিশ ঘিরে রেখেছে। কেনিয়া রেড ক্রস ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে মানসিক সহায়তা সেবা প্রদান করছে এবং স্কুলে একটি ট্রেসিং ডেস্ক স্থাপন করেছে। দুর্ঘটনাকবলিত স্কুলটির আশপাশে একাধিক বোর্ডিং স্কুল রয়েছে। এর আগেও এসব অঞ্চলের স্কুলে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। অভিভাবকরা মনে করেন তাদের বাচ্চারা স্কুলের বোর্ডিংয়ে থাকলে অধিক পড়া-লেখার সময় এবং সুযোগ পাবে। এর আগে ২০১৬ সালে নাইরোবির পার্শ্ববর্তী এলাকা কিবেরায় একটি ছাত্রী বোর্ডিংয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেসময় একাধিক শিক্ষার্থী প্রাণ হারায়। তার এক বছর পর নাইরোবিতে একটি স্কুলে অগ্নিদুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০০১ সালে কিয়াঙ্গুলি এলাকায় অগ্নিদুর্ঘটনায় কমপক্ষে ৫৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়।
No comments