দ্বিতীয় মেয়াদে প্রথম নারী উপাচার্য by এ কে এম শাহনাওয়াজ

আমার এক সুহৃদ সহকর্মী কয়েক মাস আগে বললেন, নানা সংকটের সময় আপনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে অনেক লিখেছেন। লিখে অনেকের অপ্রিয়ভাজনও হয়েছেন। সত্য উন্মোচনে তবু দৃঢ় ছিলেন। কিন্তু এখন আপনি নিশ্চুপ হয়ে গেলেন কেন? এখন কি সংকটের দুঃখ বা সম্ভাবনার আনন্দ কোনো কিছুই নেই ক্যাম্পাসে? সত্যিই অন্তঃক্ষরণ থাকলেও অনেক বছর ধরে দৃশ্যমান তেমন সংকট দেখছি না। কোনো দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়নি গেল চার বছরে। ক্যাম্পাসে কিছু কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, তবে বড় রকমের সন্ত্রাসী ঘটনা সংঘটিত হয়নি। এসব কারণে অনেকদিন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ভালোই ছিল। যে কারণে নিজের খেয়ে বুনো মোষ তাড়ানোর প্রয়োজন পড়েনি। এ চার বছরে কয়েকটি অঘটন ঘটলে তা সামনে রেখে পত্রিকায় লিখেছি। আবার এসবের অনেকটা সমাধানও হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে জনরব রয়েছে এখানে আন্দোলনের মাত্রাটা বেশি। কথাটি তেমন উড়িয়েও দেয়া যায় না। ‘আন্দোলন’ কোনো নেতিবাচক শব্দ নয়। স্বাজাত্যবোধে যখন আঘাত এসেছে, তখনই বাঙালি প্রতিবাদ করেছে। প্রতিবাদের সংঘটিত রূপই আন্দোলন। এমন আন্দোলন হাজার বছর ধরেই বাঙালি করেছে। এর ধারাবাহিকতায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কপালে আন্দোলনের গৌরব তিলক রয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নেতৃত্বে একসময় শিবিরমুক্ত হয়েছিল ক্যাম্পাস।
নিপীড়নবিরোধী আন্দোলনে বরাবরই এ ক্যাম্পাস সোচ্চার। তবে সাধারণ মানুষের কাছে কিছুটা বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা হচ্ছে ঘনঘন উপাচার্যবিরোধী আন্দোলন। কারণ এ ধারার আন্দোলন অনেকটা দীর্ঘস্থায়ী হয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় ক্লাস-পরীক্ষা। সেশনজটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। স্বাভাবিকভাবে এর তপ্ত ছোঁয়া অভিভাবকদের গায়েও লাগে। ২০০৯ সালের আগেও উপাচার্যবিরোধী আন্দোলন হয়েছে। তবে তা দীর্ঘস্থায়ী ছিল না। আর এসবের পেছনে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বেশি কাজ করেছে। ওসব আন্দোলনে সবার অংশগ্রহণ ছিল বলা যাবে না। এর পরের দুটি আন্দোলন ছিল দীর্ঘস্থায়ী। ২০০৯-এর ফেব্রুয়ারিতে শরীফ এনামুল কবীর উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। এ বিশ্ববিদ্যালয়েরই কৃতী ছাত্র ও শিক্ষক ছিলেন তিনি। দুয়েকটি বিরোধী রাজনৈতিক গ্রুপ ছাড়া সবাই স্বাগত জানিয়েছিল নতুন উপাচার্যকে। কিন্তু দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের ক্যাম্পাসবাসীর যে প্রত্যাশা তার ওপর ছিল, তা তিনি রক্ষা করতে পারেননি। কট্টর দলীয়করণে সংকীর্ণ করে ফেলেন ক্যাম্পাসকে। উপাচার্যের বিরুদ্ধে ক্রমে দলীয় বিবেচনায় ও নিয়োগ বাণিজ্যে শিক্ষক-অফিসার-কর্মচারী নিয়োগের অভিযোগ উঠতে থাকে। দুর্নীতির কথা চাউর হতে থাকে। ক্রমে ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারীদের বড় অংশ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এভাবেই তার কালপরিসরের তৃতীয় বর্ষে পদত্যাগের দাবিতে প্রবল আন্দোলন গড়ে ওঠে। উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগ কতটা সঠিক ছিল তা নিরূপিত হয়নি। দুদক দায়িত্ব নিয়ে তদন্ত করলে হয়তো সত্য উন্মোচিত হতে পারে। এতে দায়মুক্ত হওয়ার সুযোগও রয়েছে তার। এ পর্যায়ের রাজনৈতিক ইন্ধন থাকলেও একেবারেই তার অনুগত গ্রুপ ছাড়া অধিকাংশ ক্যাম্পাসবাসী পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে শরিক হয়েছিল। আন্দোলনের মুখে অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবীর ২০১২ সালের মে মাসে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর তিনি ক্যাম্পাসে অনুগত শিক্ষকদের নিয়ে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক গ্রুপ তৈরি করেন। এর নাম হয় ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ।’ পাশাপাশি আওয়ামী লীগেরই বিক্ষুব্ধ আরেকটি শিক্ষক দল ভিন্ন গ্রুপ তৈরি করেন।
এ গ্রুপের নাম হয় ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শের শিক্ষক পরিষদ’। সংখ্যা বিচারে এ গ্রুপটি আগেরটির তুলনায় অপেক্ষাকৃত ছোট। অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবীর পদত্যাগ করলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে উপাচার্য নিয়োগ করে সরকার। পরে প্যানেল নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি নিয়মতান্ত্রিক উপাচার্য হন। আমাদের দুর্ভাগ্য এ দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারক ও রাজনীতিতে বিভক্ত ক্ষমতাশালী শিক্ষকরা বিশ্বমানের চিন্তায় অনেক সময় নিজেদের যুক্ত করেন না। মুক্তচিন্তার বদলে এক ধরনের কূপমণ্ডূকতায় নিজেদের বন্দি করে ফেলেন। তাই শিক্ষক নিয়োগে অনেক সময় লক্ষ করি মেধা বিচার প্রাধান্য না পেয়ে নিজ বিশ্ববিদ্যালয় বা অঞ্চলের প্রার্থী যাতে নিয়োগ পান তেমন বিবেচনা করা হয়। বড় এবং পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেলে মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যায়। আর রাজনৈতিক ভাবনার সংকট তো আছেই। শিক্ষকদের রাজনীতি করার বড় লক্ষ্য দলীয় রাজনীতির বড় নেতারা উপাচার্যসহ বড় পদগুলোর আধিকারিক হবেন। অন্যেরা কিছু কিছু প্রসাদ পাবেন। সরকার কর্তৃক নিয়োগ লাভ এবং প্যানেল নির্বাচনে জয়ী হয়েও অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ায় প্রবল বিরোধিতার মুখোমুখি হন। যদিও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার উন্নয়ন এবং ক্যাম্পাস উন্নয়নে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করায় সাধারণ শিক্ষক, কর্মচারী, কর্মকর্তাদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে পড়েছিলেন। তবে তিনি কিছুটা স্রোতের বাইরে চলা মানুষ ছিলেন। যেসব দলীয় শিক্ষক নেতা বেশি গুরুত্ব পাবেন বলে ভেবেছিলেন তারা তেমনটা পাননি। কিছুটা নিরপেক্ষতা বজায় রাখাও তার জন্য কাল হয়েছিল। পদত্যাগী উপাচার্যের নেতৃত্বে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলন গড়ে ওঠে। এর সঙ্গে হাত মেলান বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা। আওয়ামী লীগের অপর গ্রুপের শিক্ষক এবং বামপন্থী শিক্ষকের অনেকে সমর্থন জানিয়েছিলেন অধ্যাপক আনোয়ারকে। প্রবল বিরোধী পক্ষের আন্দোলনে এ পর্বেও ক্লাস-পরীক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের মুখে বিদায় নিতে হয় অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে। এবার প্রবল দলীয় ক্ষমতা নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিতে আবার সামনে চলে আসেন অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবীর। কিং মেকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন তিনি। উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনে এবার দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও ক্লিন ইমেজের অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে উপাচার্য প্যানেলভুক্ত করেন।
নির্বাচনে জয়ী হয়ে দেশের প্রথম নারী উপাচার্য হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। তার প্রতি আস্থা ছিল ক্যাম্পাসবাসীর। কিন্তু ধীরে ধীরে রটনা বাড়তে থাকে। উপাচার্য নিজের মতো করে প্রশাসন চালাতে পারছেন না। অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবীর ও তার গ্রুপের অঙ্গুলি নির্দেশ উপেক্ষা করাও সম্ভব ছিল না। ফলে দলীয় বিবেচনায় শিক্ষক নিয়োগের অপবাদ স্বাভাবিকভাবে তাকেও ছুঁয়ে যায়। এমন কথাও ক্যাম্পাসে প্রচলিত আছে- যখন তিনি নিজস্ব বিবেচনায় একটি সুস্থ ধারায় পথ চলতে গিয়েছেন তখনই প্রচণ্ড চাপে পড়তে হয়েছে। এ অবস্থায় অন্তঃক্ষরণ চললেও বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো আন্দোলন গড়ে ওঠেনি। এর প্রধান কারণগুলো হচ্ছে এর মধ্যে যত শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগ পেয়েছেন, এর সিংহভাগই এ শক্তিশালী গ্রুপের ইচ্ছায়ই হয়েছেন। তাই ক্রমেই শক্তিশালী হয়েছে অধ্যাপক কবীরের গ্রুপ। জাতীয় রাজনীতির একই ধারায় ক্যাম্পাসে বিএনপিপন্থী শিক্ষকরাও আন্দোলনের সক্ষমতা হারিয়েছিলেন। এ অবস্থায় তাদের বড় অংশ হাত মেলান অধ্যাপক কবীরের গ্রুপের সঙ্গে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের শিক্ষক পরিষদ আর বামপন্থী শিক্ষকদের সক্ষমতা নেই কোনো বড় আন্দোলন গড়ে তোলার। উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের দায়িত্ব লাভের চার বছর এসব কারণে বহিরাঙ্গে অনেকটা নির্ঝঞ্ঝাট সময় কেটেছে। শিক্ষার পরিবেশ অনেকটা ঝামেলামুক্ত ছিল। নতুন সংকটের আভাস দেখা দিল উপাচার্যের মেয়াদের সমাপ্তিকাল চলে আসায়। উপাচার্য মহোদয় দীর্ঘকাল আটকে থাকা সিনেট নির্বাচন ঘোষণা করলেন। ততক্ষণে অধ্যাপক কবীরের দল জনবল ও ক্ষমতায় অনেকটা ভারী। প্রত্যাশিত ছিল এ সিনেট থেকেই নতুন উপাচার্য প্যানেল নির্বাচিত হবে। এবার অধ্যাপক কবীর ও তার দল নতুন সম্ভাবনা নিয়ে অগ্রসর হল। অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলয়বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে মুক্তভাবে অগ্রসর হতে চাইলেন। আওয়ামী লীগের অপর গ্রুপ, বামপন্থী শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষকদের অনেকের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থন পেলেন তিনি। একটি অবাক করা সিনেট নির্বাচন হয়ে গেল ক্যাম্পাসে।
খুব শক্তভাবে মাঠে নামল অধ্যাপক কবীরের গ্রুপ। বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সঙ্গে আঁতাত হল। জনশ্রুতি মতে, এই শক্তিশালী গ্রুপ জাতীয় নির্বাচনের মেজাজে বিপুল অর্থ নিয়ে নির্বাচনের মাঠে নেমেছিল। প্রয়োগ করেছিল নানা কৌশল। নির্বাচনের ফলাফলও এই গ্রুপের অনুকূলে আসে। নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে অধ্যাপক কবিরের গ্রুপ। স্বাভাবিকভাবে ধারণা ছিল প্যানেল নির্বাচনে অধ্যাপক কবীরের গ্রুপই বিজয়ী হবে। ফলে তিনি বা তার পছন্দের কেউ উপাচার্য হবেন এমনই একটি ছক তৈরি হয়েছিল বলে ক্যাম্পাসে জনশ্র“তি ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু শোনা যায় ইতিমধ্যে নানা কারণে অধ্যাপক শরীফের প্রতি সরকারি আস্থা কমে গেছে। আস্থা বেড়েছে অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের প্রতি। এ অবস্থায় ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে শোনা যাচ্ছিল সরকার প্যানেল নির্বাচনের পথে হাঁটতে চাচ্ছে না। দ্বিতীয় মেয়াদে উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকেই রাখতে চাচ্ছে। বিষয়টি অনেকটা স্পষ্ট হয়ে যায় ২১ ফেব্রুয়ারির আগেই। ফলে বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি হয় অধ্যাপক কবীরের গ্রুপে। অধ্যাপক কবীরের গ্রুপভুক্ত দুই উপ-উপাচার্য, প্রক্টর, অধিকাংশ হলের প্রভোস্ট প্রটোকল ভেঙে দলীয় সিদ্ধান্তে ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে উপাচার্যের সঙ্গে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন না করে যেন বর্জন করলেন উপাচার্য মহোদয়কে। অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে প্রায় একাকী পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে হল। একটি বড় প্রত্যাশা ভেঙে যাওয়ায় যেন কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন অধ্যাপক কবীর। অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের দ্বিতীয় মেয়াদে নিয়োগের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করেন তিনি। বোদ্ধা অনেকের মন্তব্য, এ যেন সরকারি দলের শিক্ষক নেতা হয়েও মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে করা রিট। এই পরিস্থিতিতে ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত শিক্ষক সমিতির নির্বাচন ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগেরই দুটি প্যানেল হয়। একটি উপাচার্য সমর্থক, অন্যটি অধ্যাপক কবীর সমর্থক। যথারীতি বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা দু’ভাগ হয়ে দুই পক্ষকে নীরব সমর্থন জানায়। অধ্যাপক কবীরের প্রভাবে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নিয়োগ হওয়ায় তার একটি বড় ভোটব্যাংক ছিল। ফলাফলে এবার তা কাজ করেনি। একটি যুগ্ম সম্পাদক ও কয়েকটি সদস্যপদ ছাড়া এ গ্রুপ আর কোনো সাফল্য পায়নি। এর পরপরই দ্বিতীয় মেয়াদে উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ফারজানার নিয়োগপত্র এসে যায় ক্যাম্পাসে। মহাসমারোহে ২ মার্চ শুক্রবার অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
ইতিমধ্যে ক্যাম্পাসে একটি কথা প্রচার পেয়েছিল। চাওয়া-পাওয়ার রাজনীতিতে অধ্যাপক কবীর এ পরিস্থিতিতে অনেককে ধরে রাখতে পারবেন না। অধিকাংশ দলছুট হয়ে অধ্যাপক ফারজানার দিকেই ফিরে আসবেন। প্রচারণার বাস্তব প্রতিফলন পেতে দেরি হল না। যেসব দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক-অফিসারকে একুশের শ্রদ্ধাঞ্জলি দেয়ার সময় উপাচার্য মহোদয়ের পাশে পাওয়া যায়নি, তারা প্রায় সবাই পুষ্পস্তবক হাতে দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে এসে উপস্থিত হয়েছিলেন। স্মরণকালের সবচেয়ে বড় উপস্থিতি ছিল সেদিন। অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের প্রতি ক্যাম্পাসবাসী সবার প্রত্যাশা অনেক। প্রথম প্রত্যাশা এই পর্বে তিনি সবরকম অশুভ ছায়া থেকে নিজেকে মুক্ত রাখবেন। সংকীর্ণ দলীয় বলয়ে না থেকে ক্যাম্পাসে জ্ঞানভিত্তিক পরিবেশ বজায় রাখতে সহযোগিতা করবেন। একাডেমিক শৃঙ্খলা বজায় রাখায় তার নেতৃত্ব হবে প্রত্যাশিত। শিক্ষক নিয়োগে তিনি মেধা ও যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেবেন। কট্টর দলীয়করণের যে অপবাদ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন বহন করছে, তা থেকে মুক্ত হয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে অনেকটা উচ্চতায় পৌঁছে দিতে তিনি ভূমিকা রাখবেন। অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম সরকারি ইতিবাচক সহযোগিতা যদি পান, তবে আমাদের বিশ্বাস কল্যাণধর্মী যাত্রাপথে অধিকাংশ ক্যাম্পাসবাসীর সমর্থন থাকবে তার প্রতি।
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
shahnaway7b@gmail.com

No comments

Powered by Blogger.