গল্পসল্প- জীবন ব্যাকরণঃ হিরালি by আমিনুর রহমান সুলতান

বাংলাদেশের ভাটি অঞ্চল সম্পর্কে জানেন কমবেশি সবাই। নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ থেকে শুরু করে সুনামগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত ভাটির অঞ্চল। ভাটি মানেই হাওর অঞ্চল। হাওর এলাকার জীবন-যাপন সমতলের বা পাহাড়ী অঞ্চলের জীবন-যাপন থেকে ভিন্ন। ভাটির অঞ্চলে ভালভাবে চোখ না রাখলে,
ওই অঞ্চলের জীবন-যাপন সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি না ঘটলে বোঝা যাবে না তাদের জীবন-যাপন, ভিন্ন ভিন্ন পেশার মানুষের সংস্কৃতি। ভাটির অঞ্চলের রূপকার হিসেবে পরিচিত নীলু দাস ভাটির অঞ্চলের মানুষদের বাংলাদেশের বিশেষ করে সাতচলিস্নশ উত্তর বাংলাদেশের কথাসাহিত্যে প্রথম আবিষ্কার করেন। নীলু দাসের গল্পের পাত্রপাত্রীরা নিম্নবিত্ত, অন্ত্যজ শ্রেণীর। তাদের কেউ দিনমজুর, কেউবা পাটের গুদামের বা রেলস্টেশনের কুলি, পকেটমার, ফুটপাতে বা সিনেমা হলে ঘুরে ঘুরে খদ্দের ধরা বেশ্যা, রিকশাওয়ালা। তার লেখার বিষয়বিন্দু খেটে খাওয়া মানুষ, মানুষের অসহায়তা ও অসঙ্গতি। তার গল্পের সকল চরিত্রই বাস্তবতাকে অধিকতর মেনে নিয়েছে। বাস্তব প্রেক্ষাপটের নিষ্ঠুর আবর্তে পড়ে ওরা দলিত হয়েছে, বিপর্যস্ত হয়েছে। এ বলয় থেকে কেউ বেরিয়ে আসতে পেরেছে, কেউ পারেনি। কিন্তু এ বাস্তব প্রেক্ষাপটটিই একজন গল্পকারের জন্য শেষ কথা নয়। তাকে আরেকটা প্রত্যয় সন্ধান করতে হয়, তার নাম শিক্ষা। 'হিরালি' একটি সম্প্রদায়ের নাম, একটি পেশাজীবীর নাম। ভাটির অঞ্চলেই তাদের বসবাস। এই 'হিরালি' শিল্প হয়ে উঠেছে নীলু দাসের হাতে। নীলু দাসের গল্পে। জানি না, এখনও ভাটির অঞ্চলে 'হিরালি'রা বেঁচেবর্তে আছেন কী-না? তবে এক সময় যে ছিল, তার প্রমাণ নীলু দাসের গল্প 'চৈতার খাল'। হিরালিরা ভাটির অঞ্চলের মানুষের সুখ-দুঃখে নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।
কালবৈশাখীর ঝড়ের সাথে বর্ষিত হওয়া শিল্পের হাত থেকে ভাটির অঞ্চলের ধান কৃষকের গোলায় উঠে আসবে কী-না -তারও মিথ রয়েছে ভাটির অঞ্চলে।
নীলু দাসই 'চৈতার খাল' গল্পের ভিতর বাংলাদেশের বৃহত্তর ভাটি অঞ্চলের মানুষের দুঃখ, যন্ত্রণা, প্রেম, বিরহ, লোকবিশ্বাস প্রভৃতি তুলে ধরেছেন। তবে শনির হাওর ও এ হাওরের ধান উৎপাদনকারী কৃষক সমাজ এবং প্রকৃতির প্রতিকূলতার হাত থেকে ফসলি জমি রক্ষাকারী হিরালি সম্প্রদায়ের মানুষই গল্পের মূলে রয়েছে। দিগন্ত জোড়া বিরাট হাওর, প্রচণ্ড জলোচ্ছ্বাস আকাশ থেকে ঝরে পড়া মৃতু্যর মতো অবিরাম শিলাবৃষ্টি এসব কিছুর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে হিরালিদের বেঁচে থাকতে হয়। কিন্তু হিরালিদের সংগ্রাম কী কেবল প্রকৃতির বিরুদ্ধে ? না তাদের যাপিত জীবনে প্রেমের জন্যেও সংগ্রাম করতে হয়। প্রিয়জনকে সঙ্গী করার জন্য সংগ্রাম করতে হয়। কিন্তু সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যদি তাদের কেবল পরাজয়ই বরণ করতে হয় তাহলে তাকে মানবিক মানুষ গ্রহণ করবে কীভাবে ? স্বাভাবিকভাবে যে কেউ গ্রহণ করতে পারেনি তার প্রমাণ তো ওই হিরালি চৈতা ও তার প্রেমিকা লক্ষ্মীর জীবনের পরিণতিকে কেউ মেনে নিতে পারেনি। শনির হাওর এখনও আছে। চৈতার খাল কিংবদন্তীতুল্য কাহিনী হয়ে আছে। কিন্তু 'হিরালি'রা তো আর কিংবদন্তীতুল্য মানুষ নন। আমাদের মতই মানুষ। পার্থক্য কেবল প্রকৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে টিকে থাকা। হিরালিরা কেমন আছেন, পেশার পরিবর্তন করে যে অবস্থানে দাঁড়িয়ে বা টিকে আছেন সেখানেও কী নিত্য সংগ্রাম! সংগ্রাম করেই কী টিকে থাকতে হয়?
==========================
ন্যাটো ও রাশিয়ার সমঝোতা ইরানের ওপর কি প্রভাব ফেলবে  জার্নি বাই ট্রেন  পারিষদদলে বলেঃ  চরাঞ্চলের ভূমি ব্যবস্থাপনা  সচেতন হলে শিশু প্রতিবন্ধী হয় না  স্মৃতির জানালায় বিজয়ের মাস  বিচারপতিদের সামনে যখন ‘ঘুষ’  কয়লানীতিঃ প্রথম থেকে দশম খসড়ার পূর্বাপর  শ্বাপদসংকুল পথ  মুক্তিযুদ্ধে গ্রাম  ১২ বছর আগে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে  চট্টগ্রাম ইপিজেডে সংঘর্ষে নিহত ৪  ড. ইউনূস : প্রতিটি বাংলাদেশির গৌরব  জলাভূমিবাসীদের দুনিয়ায় আবার..  আসুন, আমরা গর্বিত নাগরিক হই  স্মৃতির শহীদ মির্জা লেন  ইয়াংওয়ান গ্রুপের পোশাক কারখানা বন্ধ  ট্রানজিটে ১১ খাতের লাভ-ক্ষতির হিসাব শুরু  চট্টগ্রামের বনাঞ্চল ছাড়ছে হাতি  ট্রেন  স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে জাতীয় শিক্ষানীতি  মানবাধিকার লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধের বিচার  মানবাধিকার লঙ্ঘন দেশে দেশে  ক্ষমতা যেভাবে মানবাধিকার আর ন্যায়বিচারের পথ রুদ্ধ করে  চাক্কু মারা 'মশা' কাহিনী  উল্কির ভেলকি  এইচআইভি/এইডস্  উইকিলিকসঃ জুলিয়ান চে গুয়েভারা!  তিন কালের সাক্ষী  বাবর আলীর ইশকুল  এ মাটির মায়ায়  মধ্যবিত্তের উত্থান, না ভোক্তাশ্রেণীর উদ্ভব  হিমালয়ের পায়ের কাছেঃ গোধূলির ছায়াপথে  পতিত স্বৈরাচারের আস্ফালন ও আওয়ামী লীগের নীরবতা  ৪০ বছর পড়ে থাকা লাশটার সৎকার করতে চাই  এই কি আমাদের মানবাধিকার?  ঐতিহ্যের মধ্যে সমকাল  কেমন দেখতে চাইঃ ঢাকা আন্তর্জাতিক বইমেলা


দৈনিক ইত্তেফাক এর সৌজন্যে
লেখকঃ আমিনুর রহমান সুলতান
কবি ও প্রাবন্ধিক


এই আলোচনা'টি পড়া হয়েছে...
free counters

No comments

Powered by Blogger.