জায়নবাদ, আত্মপরিচয় ও ইতিহাস পাঠ by ফরহাদ মজহার

গাজার হত্যাযজ্ঞের পরিপ্রেক্ষিতে বেশকিছু বিষয়ে আলোচনা জরুরি হয়ে পড়েছে। খুবই গোড়ার প্রশ্ন যেমন জায়নবাদ (Zionism), জায়নবাদী (Zionist) ইত্যাদি ব্যাপারগুলো আসলে কী, সে ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনো ধারণা বাংলাদেশে নেই। এ বিষয়ে খুব একটা আলোচনা কিংবা তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ চোখে পড়ে না। সে কারণে রাষ্ট্র হিসেবে ইসরাইলের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি কী হবে, জায়নবাদের সঙ্গে ইহুদিদের সম্পর্ক কী, ইসরাইলের বিরোধিতা করার অর্থ আসলে ইহুদিদের বিরোধিতা কিনা- ইত্যাদি অতি গুরুত্বপূর্ণ আদর্শিক ও রাজনৈতিক প্রশ্ন অপরিচ্ছন্ন জায়গায় পড়ে রয়েছে।

জায়নবাদী বা জায়নিস্টের সঙ্গে হজরত মূসার (আ.) ধর্মানুসারী ইহুদির কোনো সম্পর্ক নাই- এটা বোঝা কঠিন কিছু নয়। অতএব জন্মসূত্রে কেউ ইহুদি হলেই তিনি জায়নবাদী হবেন এমন কোনো কথা নাই। বরং জায়নবাদী রাষ্ট্র ইসরাইলের তিনি ঘোরতর বিরোধী হতে পারেন। নরম্যান ফিঙ্কেলস্টাইন, নোয়াম চমস্কিসহ জন্মসূত্রে বিস্তর ইহুদি রয়েছেন যারা ফিলিস্তিন মুক্তি সংগ্রাম শুধু নয়, দুনিয়ার সব মজলুমের পরীক্ষিত মিত্র। এমনকি গোঁড়া ইহুদিও অনেকে আছেন যারা ঘোরতরভাবে জায়নবাদবিরোধী। ফলে জায়নবাদ বা জায়নবাদী রাষ্ট্র ইসরাইলের বিরোধিতা করতে গিয়ে আমরা ইহুদিবিরোধী হয়ে গেলাম কিনা খামাখা সেই ভদ্রলোকি দুশ্চিন্তায় পড়ার কোনো কারণ নেই। সেটা সামাল দিতে গিয়ে বিশ্বাস ও মতাদর্শের দিক থেকে যারা ইহুদি মতাবলম্বী, তারা কিভাবে তাদের মতকে একালে হাজির করছেন, তা বিচারের বাইরে রেখে দেয়া সমীচীন নয়। শুধু ইহুদি ধর্মতত্ত্বের ক্ষেত্রে নয়, যে কোনো ধর্মতত্ত্ব বা মতাদর্শ সম্পর্কেই এটি সত্য।
ইহুদি বিদ্বেষ বা ঘৃণাকে অ্যান্টি-সেমিটিজম বলে গণ্য করা হয়। কেউ যদি নিজের ইহুদি পরিচয় নির্মাণ করতে গিয়ে মনে করে, সেমিটিক ভাষা ও সংস্কৃতিতে তাদেরই একমাত্র অধিকার, আরবের অন্য কোনো জাতি বা ভাষাগোষ্ঠী নয়, তাহলে সেটা নতুন জটিলতা তৈরি করে। একইভাবে আরবি ভাষা শুধু মুসলমানদের ভাষা এই দাবিও সমস্যার। কারণ ইহুদিরাই নৃতাত্ত্বিক ভাষাগতভাবে সেমিটিক জাতি নয়।
মুশকিল হচ্ছে, ইহুদি পরিচয় শুধু ধর্মীয় পরিচয় নয়, এর সঙ্গে জাতিগত পরিচয় বা বংশলতিকার দাবি নিহিত রয়েছে। আরব দেশে বংশ, গোত্র ও জাতির তর্ক ও রক্তাক্ত বিরোধের ইতিহাস অনেক দীর্ঘ, তিক্ত ও সহিংস। গোড়ায় কে রানীর আর কে বাঁদির গর্ভ থেকে জন্ম, সেই তর্কের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী যুক্ত। কারা হজরত ইব্রাহিমের (আ.) প্রথম স্ত্রী সারার বংশলতিকা বহন করছে আর কে সারার বাঁদি হাজেরার- এই তর্ক বাদ দিলে একেশ্বরবাদী ধর্মতত্ত্বের মধ্যে বিরোধের গোড়ার জায়গা আমরা ধরতে পারব না। অভিজাতদের বিরুদ্ধে বাঁদির বংশের দীর্ঘ লড়াইকে আমরা কোনো আধুনিক মানবতাবাদী বয়ান দিয়ে মুছে ফেলতে পারব না। এটা ইতিহাস। ধর্মতত্ত্ব নয়। এর সমাধানের হদিস সেই ইতিহাস জানা ও বোঝার ওপর নির্ভরশীল। ইতিহাসের এই অমীমাংসিত বিষয়টি এখনও অমীমাংসিতই রয়েছে। মীমাংসা হয়নি। কারণ জাত, পাত, উচ্চশ্রেণী ও অভিজাততন্ত্রের পক্ষপাতী রানীর বাচ্চাদের বিরুদ্ধে মজলুম বাঁদির বাচ্চাদের লড়াই একালেও পুরামাত্রায় বহাল আছে। শুধু ধর্মতত্ত্ব দিয়ে সেটা বোঝা যাবে না। আরব দেশে একেশ্বরবাদী ধর্মগুলোর মধ্যে সবার শেষে যার আবির্ভাব ঘটেছে, কেন সেটা সব ধরনের অভিজাততন্ত্র, গোত্রবাদ, রক্ত-বর্ণসহ সব ধরনের জাতিবাদ, গোষ্ঠীবাদ ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে জিহাদ হিসেবে উদিত হয়েছে তার মর্ম ঘূণাক্ষরেও আমরা ধরতে পারব না যদি এই ইতিহাসের মধ্যে আমরা প্রবেশ না করি। ইতিহাসের সেই মর্ম ভুলে গিয়ে মুসলমানরা যেভাবে মজলুমের লড়াইকে এখন নিছকই ইহুদি-নাসারার বিরুদ্ধে জিহাদে পর্যবসিত করেছে, সেই করুণ ও সাম্প্রদায়িক অধঃপতনের কিছুই আমরা ধরতে পারব না। এর অর্থ, জাহেলিয়া বা অন্ধকার যুগে ফিরে গিয়ে খোদ ইসলামকেই বিপন্ন করে তোলা।
ইতিহাস-বিচ্ছিন্ন তত্ত্ব ও ধর্মীয় আত্মপরিচয় নতুন জটিলতা তৈরি করে। অথচ এই ইসলামই নিঃসংকোচে ও নিঃশর্তভাবে অন্যসব ধর্মের নবী-রসুল তো বটেই, এমনকি বিভিন্ন জাতির পথপ্রদর্শকদের মেনে নিতে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠাবোধ করে না। কারণ প্রত্যেককেই আল্লাহর তরফেই মানুষকে সুপথে আনার জন্য পাঠানো হয়েছে। হজরত ঈসা (আ.) আর হজরত মুসা (আ.) উভয়েই আল্লাহর নবী। একজন কলিমুল্লাহ, অন্যজন রুহুল্লাহ। এঁদের নবী ও রসূল না মানলে মুসলমান হওয়া যায় না। ইসলাম সাক্ষী- একইভাবে নিপীড়িত, মজলুম ও বাঁদির বাচ্চা বলে ইতিহাসে যাদের সব সময় বর্জ্য হিসেবে সমাজের তলানি বা প্রান্তসীমায় নিক্ষেপ করা হয়, তাদের পক্ষে জিহাদ ছাড়া নিজেকে মোমিন দাবি করার কোনো হক কারও নাই।
এই উপমহাদেশেও আমরা দেখি, জাতপাতের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়েই ইসলাম এসেছে, নিছক ধর্ম বা ধর্মতত্ত্ব আকারে আসেনি। এসেছে অজাতের কিংবা শূদ্রের মুক্তির বাণী হিসেবে। সেই ইতিহাস আমরা ভুলে গিয়েছি বলে এ উপমহাদেশ থেকে জাতপাতের বর্বর অত্যাচার উৎখাত করা যায়নি। মুসলমানরা তাদের ধর্মের ঐতিহাসিক তাৎপর্য ভুলে গিয়ে একে নিছকই ধর্মতত্ত্বে পরিণত করেছে। ব্রাহ্মণ্যবাদ নতুন শক্তি হিসেবে উপমহাদেশে পুনর্গঠিত হতে পেরেছে। এখন পুঁজিতান্ত্রিক গোলকায়নের এই কালে তাদের নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদকে মোকাবেলা করতে হবে। ইতিহাস বেমালুম ভুলে গিয়ে এক হাতে কোরআন আর এক হাতে তলোয়ার নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লে মোকাবেলা অসম্ভব- কামিয়াব তো দূরের কথা। সেটা আগাম বলে রাখা যায়।
তাহলে জন্মসূত্রে কেউ ইহুদি, খ্রিস্টান বা মুসলমান দাবি করলেও সেটা বিস্তর জটিলতা তৈরি করে। সবাই থাকুক নিজ নিজ ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে আর আমরা ধর্মীয় সম্প্রীতির সানাই বাজাই, ব্যাপারটা এত সরল বা সহজ নয়। আত্মপরিচয় নির্মাণের ক্ষেত্রে নিজের ইতিহাস সে কিভাবে পড়েছে, জেনেছে ও আমলে নিয়েছে- তার হদিস নেয়ার প্রশ্ন থেকে যায়। এটা সেকুলারিজম বনাম রিলিজিয়নের তর্ক নয়; তর্ক নয় ধর্ম কিংবা ধর্মনিরপেক্ষতার। অনৈতিহাসিক জায়গা থেকে ধর্মকে নিছকই ধর্মতত্ত্ব হিসেবে মেনে নেয়ার অর্থ ইতিহাসের অভিমুখ অস্পষ্ট করে দেয়া। কী অর্থে নিজের পরিচয় প্রদান, ইতিহাসের কী পাঠ নিয়ে ধর্মের দাবি- তার হদিস নেয়া দরকার হয়ে পড়ে।
ইসলামে জন্মসূত্রে মুসলমান হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। শুধু কলেমা পড়লেই চলে না, যিনি ইসলাম গ্রহণ করতে চান তাকে সাক্ষ্য দিতে হয়। অর্থাৎ তিনি কী গ্রহণ করলেন, কী বর্জন করলেন, তা তিনি ঠিক উপলব্ধি করেছেন সেই সাক্ষ্য। আখেরি নবীকে রসূল বলে মেনে নিলেই চলছে না, তাঁর মধ্য দিয়ে ইতিহাসের যে বিশেষ মুহূর্ত হাজির হয়েছিল তার অর্থ উপলব্ধি করতে পারি কি-না সেই পরীক্ষা দেয়ার প্রয়োজন হয়ে পড়ে- সাক্ষী দেয়ার অর্থ সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকা, তার ঐতিহাসিক অর্থ কবুল করা।
দুই
ইতিহাসের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক ছাড়া শুধু ধর্মীয় আত্মপরিচয়ের মুশকিল আছে। তেমনি ধর্ম বা ধর্মতত্ত্বকে ঐতিহাসিকভাবে পাঠ না করার চেয়ে আহাম্মকি আর কিছুই হতে পারে না। এই মুশকিলগুলো মেনেও বলা যায়, ইহুদি আর জায়নবাদী এক কথা নয়। ঠিক যেমন কেউ মুসলমান, হিন্দু বা বৌদ্ধ ধর্মের পরিচয়ে নিজেকে পরিচিত করলেই তিনি সাম্প্রদায়িক হন না। তার পরিচয়ের ঐতিহাসিক পাঠ তার কাছে কেমন সেটা তার সমাজ, রাজনীতি, সংস্কৃতি ও ধর্মচর্চায় ধরা পড়ে।
জায়নবাদীরা মনে করে, ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড দখল করে একটি সার্বভৌম ইহুদি রাষ্ট্র কায়েম করা একটি ভালো চিন্তা। এই রাষ্ট্র আইন করে ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় বিধিবিধানের চর্চার মাধ্যমে ইহুদিদের জন্যই একটি হোমল্যান্ড কায়েম করবে। পিতৃভূমি বা মাতৃভূমি- সেটা যাই হোক। এটাই ইউরোপে ইহুদিরা যে বিদ্বেষ, ঘৃণা ও নির্যাতন সহ্য করেছে তা মোচনের একমাত্র উপায়। একটি দেশের অধিবাসীদের বাড়িঘর থেকে উৎখাত করে তাদের ভূখণ্ড দখল করে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সহায়তায় সেখানে জায়নবাদী রাষ্ট্র কায়েম করা, এটাই ইউরোপের ও ইহুদিদের সমস্যার সমাধান। সেই দেশে ইহুদিরা স্থানীয় অন্য ধর্মবিশ্বাসী অধিবাসীদের কাছ থেকে আলাদা থাকবে। এই চিন্তার ভিত্তিতেই আরবদের দেশ ফিলিস্তিনকে ইহুদিদের ভূমি ও রাষ্ট্রে পরিণত করতে হবে- জায়নবাদের এটাই যুক্তি। এ যুক্তির পক্ষে ন্যায্যতা কী? আল্লাহর সঙ্গে ইহুদিদের চুক্তি হয়েছে, সেটা বাইবেলে ও ইহুদি ধর্মগ্রন্থে বলা হয়েছে। জেরুজালেম ও ফিলিস্তিন ভূখণ্ড ইহুদিদের, এটা এখন আমাদের সবাইকে মানতে হবে।
অথচ জায়নবাদী নেতাদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন সেকুলার, ধর্মনিরপেক্ষ ও নাস্তিক। জায়নবাদের সঙ্গে এ দিক থেকে ধর্মবিশ্বাসী ইহুদির বড়সড় পার্থক্য আছে। এই সেকুলার বা নাস্তিক ইহুদিরা দাবি করে, ইহুদিরা একটি নির্যাতিত জাতি। অতএব, তাদের এই সংগ্রাম নির্যাতিত জাতির মুক্তি সংগ্রাম। কিন্তু এ যুক্তিও ধোপে টেকে না। কারণ জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ বা জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম ঐতিহাসিকভাবে ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে একটি ভূখণ্ডের নির্যাতিত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মুক্তি সংগ্রাম। পরাধীনতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ।
সেই যুদ্ধ দূরে থাকুক, জায়নবাদ তার ঠিক উল্টোটা করে। তারা সাম্রাজ্যবাদের সহযোগিতায় একটি ভূখণ্ডের স্থানীয় অধিবাসীদের উৎখাত, হত্যা কিংবা বসতবাটি থেকে উচ্ছেদ করে তাদের দেশ দখল করে নেয়। সেখানে বসতি স্থাপন করে। বিতাড়িত স্থানীয় অধিবাসীদের স্থান হয় শরণার্থী শিবিরে। যে কারণে ইউরোপে ইহুদিদের নির্যাতনের বিরোধিতা আর নির্যাতনের সমাধান হিসেবে জায়নবাদ ও ইসরাইল রাষ্ট্র কায়েম এক কথা নয়। জায়নবাদ একটি সেটলার কলোনিয়াল রাষ্ট্রের মতাদর্শ। জায়নবাদীদের প্রথম সারির সংগঠন তাদের মেমোরেন্ডামে লিখছে :
জুয়িশ ন্যাশনাল ফান্ড (Jewish National Fund) গঠিত হয় ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য জমি দখল করার দরকারে। তারা তাদের প্রথম দিককার মেমোরেন্ডামে তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলছে : 'to purchase, take on lease or in exchange, or otherwise acquire any lands, forests, rights of possession and other rights...for the purpose of settling Jews on such lands. জমি হোক, বনভূমি হোক ইহুদিদের জন্য তা কেনা হবে, লিজ বা অন্য যে কোনোভাবে জমির অধিকার কায়েম করা হবে। সেটা বিনিময় হতে পারে কিংবা অন্য কোনোভাবে, অর্থাৎ বল প্রয়োগের মাধ্যমে। ইসরাইল আসলে এ কারণেই একটি সেটলার কলোনিয়াল রাষ্ট্র। স্থানীয় অধিবাসীদের বিতাড়িত করে সেখানে বাইরে থেকে লোক এনে বসতি গেড়ে বসা।
জায়নবাদ ও সেটলার কলোনিয়াল রাষ্ট্রের মতাদর্শ যখন দানা বাঁধছে, তখন ইংল্যান্ড ও আমেরিকা নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধকালীন ঐক্য গঠন করতে গিয়ে চুক্তি করেছিল, কেউ আর অন্য দেশ দখল বা উপনিবেশ স্থাপন করবে না। সে প্রতিশ্র“তি রুজভেল্ট ও চার্চিল স্বাক্ষরিত আটলান্টিক চার্টার নামে পরিচিত। উপনিবেশ স্থাপনের যুগ অস্ত গেলেও সাম্রাজ্যবাদ নতুনভাবে সেটলার কলোনিয়াল রাষ্ট্র হিসেবে ইসরাইল প্রতিষ্ঠা করে। ইসরাইলকে যে কারণে সাম্রাজ্যবাদ থেকে আলাদা করে বিচার করা যাবে না।
জায়নবাদ ও ইহুদি সমার্থক নয় এটা পরিষ্কার। জায়নবাদ বিরোধিতার অর্থ ইহুদি বিরোধিতা নয়। কিন্তু ইহুদি, মুসলমান, হিন্দু, জৈন কিংবা খ্রিস্টান- কেউই ইতিহাসের বাইরে নয়। এমনকি আল্লাহর কী কুদরত, নাস্তিক বা ধর্ম-বিরোধিরাও নয়!! প্রগতিশীল কী প্রতিক্রিয়াশীল, প্রত্যেকেই ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিতেই নিজেদের স্বরূপ প্রদর্শন করে।
গাজায় জায়নবাদী রাষ্ট্র যখন মানুষ হত্যার উৎসবে মেতে উঠেছে, সেই রক্তের শামিয়ানার নিচে আমরা মজলুমের পক্ষে দাঁড়িয়ে কে কিভাবে ইতিহাস পাঠ করি, তার দ্বারাই আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।
এটা নিশ্চিত বলা যায়। অবশ্যই।
২৫ জুলাই ২০১৪, শ্যামলী, ঢাকা

No comments

Powered by Blogger.