উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে সহায়তা বাড়ানোর তাগিদ



সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি) অর্জনে অনুন্নত ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে পর্যাপ্ত সহায়তা দিচ্ছে না উন্নত দেশগুলো।
২০১৫ সালের মধ্যে এমডিজি অর্জনের জন্য যে আটটি লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছে জাতিসংঘ, তার শর্তও পূরণ করছে না উন্নত দেশগুলো। এতে স্বল্পোন্নত বাংলাদেশসহ অন্য অনেক অনুন্নত দেশের এমডিজি অর্জন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এমডিজিতে মোট আটটি লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর মধ্যে আট নম্বর লক্ষ্যমাত্রাটি হলো সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিশ্বব্যাপী অংশীদারি গড়ে তোলা। এতে বলা হয়েছে, উন্নত ও উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলো তাদের মোট জাতীয় উৎপাদনের (জিএনপি) দশমিক ৭০ শতাংশ অনুন্নত দেশগুলোকে সহায়তা দেবে।
কিন্তু উন্নত দেশগুলো অনুন্নত দেশগুলোকে তা মাত্র দশমিক ২২ শতাংশ দিয়ে থাকে। এর মধ্যে আবার বাংলাদেশ পায় খুবই নগণ্য সহায়তা।
আর তাই উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহায়তা পাওয়ার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) পরামর্শ দিয়েছে দারিদ্র্য নিরসন কৌশল (পিআরএস) বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নসম্পর্কিত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি।
পরিকল্পনা কমিশনে কমিটির সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সভায় এ পরামর্শ দেওয়া হয়।
পিআরএস বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নসম্পর্কিত এ কমিটি গঠন করা হয় ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শেষ দিকে। মাঝখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুই বছরে এর কোনো সভা হয়নি। বর্তমান সরকারের পৌনে দুই বছর পার হওয়ার পর হয় এ সভা।
অর্থাৎ পিআরএস বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নসম্পর্কিত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির এ সভা অনুষ্ঠিত হয় চার বছর পর। তবে সভায় কমিটির চার বছরের নীরব ভূমিকাকে ‘দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করা হয়।
এতে বলা হয়, দ্রুত দারিদ্র্য নিরসনে ২০০৩ সালে অন্তর্বর্তীকালীন দারিদ্র্য নিরসন কৌশলপত্র (পিআরএসপি) প্রণয়ন করে গত বিএনপি-জামায়াত সরকার। পরবর্তী সময়ে ২০০৫-০৮ মেয়াদে তিন বছরের জন্য প্রথম পিআরএসপি এবং ২০০৯-১১ মেয়াদে প্রণয়ন করা হয় দ্বিতীয় পিআরএসপি।
দ্বিতীয় পিআরএসপির ওপর ভিত্তি করে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান সরকার উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের (বিডিএফ) বৈঠক আয়োজন করে।
তার পরও দেশে পিআরএসের কোনো মূল্যায়ন হচ্ছে না বলে সভায় মত দেওয়া হয়। আরও বলা হয়, পিআরএসের মতো সার্ক উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) এবং সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি) অর্জনেরও কোনো মূল্যায়ন হচ্ছে না দেশে।
জানা গেছে, স্টিয়ারিং কমিটির কার্যপরিধি অনুযায়ী পিআরএস বাস্তবায়ন এবং এমডিজি পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে একটি করে ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করার কথা। কিন্তু কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগই এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। গুটিকয় মন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করলেও তা কার্যকর করেনি।
সভায় পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য শামসুল আলম জানান, দেশে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। ২০১০-১১ অর্থবছরটি হলো পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার প্রথম বছর, আর দ্বিতীয় পিআরএসপির শেষ বছর। তা সত্ত্বেও একটি অপরটির পরিপূরক। অর্থাৎ দলিল দুটিকে বিচ্ছিন্নভাবে ভাবা হবে না।
সূত্র জানায়, জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভায় আরও কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে পিআরএস বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন এবং এমডিজি অর্জনের অগ্রগতি তদারকসংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। এমডিজি অর্জনে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বছরওয়ারি নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ও অর্জনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যেসব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে না, চিহ্নিত করতে হবে সেগুলোও।
সভায় জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটিতে এমডিজি ও এসডিজি-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের আলোকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, খাদ্য বিভাগ, পরিসংখ্যান বিভাগ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি দ্বিতীয় পিআরএসপি সমাপ্তির পর স্বাধীন কোনো পেশাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এর মূল্যায়ন করার জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

No comments

Powered by Blogger.