তুতেনখামেনের সমাধিতেই নেফারতিতি?

নেফার​তিতি
প্রাচীন মিসরের রানি নেফারতিতিকে সম্রাট তুতেনখামেনের সমাধির ভেতরেই গোপনে কবর দেওয়া হয়েছিল বলে ইঙ্গিত মিলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব গবেষক নিকোলাস রিভস এ কথা জানিয়েছেন। নেফারতিতির দেহাবশেষ কোথায় তা নিয়ে এ পর্যন্ত বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত নন। খবর বিবিসি ও সিএনএনের।
সৌন্দর্যের কিংবদন্তি নেফারতিতির জন্ম, মৃত্যু আর শাসনকাল—সবই নানা রহস্যে ঘেরা। কথিত আছে, স্বামী সম্রাট আখেনাতেনের পাশাপাশি তিনিও সাম্রাজ্য পরিচালনায় অনেক ক্ষমতা চর্চা করতেন। অবশ্য এ ব্যাপারে জোরালো প্রমাণ মেলেনি।
সম্রাট তুতেনখামেনের সমাধির খোঁজ মেলে ১৯২২ সালে। সম্ভবত তিনি নেফারতিতিরই ছেলে ছিলেন। সর্বশেষ অনুসন্ধানে দেখা যায়, তুতেনখামেনের কবরের পাশে একটি প্রকোষ্ঠের দরজা রয়েছে। রিভস মনে করেন, ওই প্রকোষ্ঠেই চিরনিদ্রায় শায়িত থেকে থাকতে পারেন নেফারতিতি।
প্রাচীন মিসর বিশেষজ্ঞরা মার্কিন প্রত্নতাত্ত্বিক রিভসের ওই ধারণার ব্যাপারে সতর্ক মতামত দিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, নেফারতিতির সমাধির খোঁজ সম্পর্কে চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া গেলে তা আসলেই এক বড় সাফল্য হবে।
স্পেনের মাদ্রিদভিত্তিক পুরোনো শিল্পকর্ম সংস্কার বিশেষজ্ঞদের একটি প্রতিষ্ঠান গত বছর তুতেনখামেনের সমাধির ভেতরের বেশ কিছু ছবি অনলাইনে প্রকাশ করে। নিকোলাস রিভস সেগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে সমাধিকক্ষের দেয়ালে একাধিক ফাটল চিহ্নিত করেন। এ থেকেই পেছনে সম্ভাব্য গোপন কুঠুরির দরজার ইঙ্গিত মেলে।
তুতেনখামেনের সমাধির গঠন নিয়েও গবেষকেরা ধাঁধায় পড়েন। কেন এটি অন্য ফারাওদের (মিসরীয় সম্রাটের উপাধি ছিল ফারাও) কবরের চেয়ে ছোট? রিভস মনে করেন, তুতেনখামেনের কবরের নকশাই বলে দিচ্ছে, সেখানে একজন রানিকে সমাহিত করার কথা ছিল। তিনি স্বীকার করেছেন, এ ধারণা ভুলও হতে পারে। তবে সত্যি হলে মিসরীয় পুরাতত্ত্ব গবেষকদের সামনে খুলে যাবে নতুন দিগন্ত।

No comments

Powered by Blogger.