গল্প- কবরস্থান by এলিনোর ক্যাটোন >অনুবাদ: ফাতেমা আবেদীন

‘মগের ভেতরে কফির দাগগুলো দ্যাখো’, বলে উঠল শ্যারন। ‘এটা দেখতে অনেকটা আবহাওয়া ম্যাপের মতো। দিন-ঘণ্টা, সপ্তাহ, বছর—সব আঁকা আছে। এই জায়গা আমাকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।’
আমাকে উদ্দেশ করে শ্যারন বলল, ‘এদিকে দ্যাখো। আমার নষ্ট জীবনের সব বলিরেখা এখানে আঁকা রয়েছে।’ নিজের বক্তব্য প্রমাণ করতে কফির মগটিকে প্রবল বেগে ঘুরিয়ে আমাকে দেখানোর চেষ্টা করল সে। এরপর নিজে নিজেই বলল, ‘আমি প্রতিদিন ঝামা দিয়ে ঘষে সবকিছু পরিষ্কার করি, তবু দাগ থেকে যায়।’
শ্যারন আমার সহকর্মী। এই বিশাল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে আমরা পাশাপাশি কাউন্টারে কাজ করি। আমার সঙ্গে কথা বলতে বলতে শ্যারন কাউন্টারে তার আসনে বসে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটিকে প্রশ্ন করে ডকুমেন্ট নাম্বার নিয়ে। তার নামের প্রথম অংশও জানতে চায়। সাধারণত কাজের সময় শ্যারন একটা ছোট্ট হাসি বা চোখাচোখি করেই কাজ সেরে নেয়। তবে দুটো কখনোই একসঙ্গে ব্যবহার করে না। এ ব্যাপারে খুবই সতর্ক মেয়ে সে। তার চাহনি অনায়াসে বশ করতে পারে যে কাউকে।

লোকটি তার ডকুমেন্টের জন্য বেশ তাড়াহুড়া করছে। নাম বলল রিচার্ড। অস্ট্রেলিয়ান উচ্চারণে সেটি শোনা গেল ‘রেচ্ড।’ শ্যারনও দ্রুত টাইপ করে নিল সেটি। তারপর মাথার ওপরের বাতিগুলোর দিকে তাকিয়ে দিল তার সেই মিষ্টি হাসিটি। রিসিট সংগ্রহ করে লোকটি দরজার দিকে পা বাড়ায়। ঘুরে তার চলে যাওয়া দেখে শ্যারন। রিচার্ডের চলে যাওয়ার পর দরজা বন্ধ হলে, চেঁচিয়ে ওঠে সে, ‘ওহ্ খোদা, এই অফিস একটা নরকের গর্ত। আমার মরণ হয় না কেন!’ এমন একটা স্বগতোক্তি করে সে আমার দিকে তাকাল; তার সে দৃষ্টিতে ছিল প্রত্যাশা।

আমিও ‘মরতে চাই’—এ রকম সম্মতি দিয়ে তার প্রত্যাশা পূরণ করলাম।

এবার আমার দিকে ঘুরে বলল শ্যারন, ‘আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না, এই প্রতিষ্ঠানে আমি দু-বছর কাটিয়ে দিয়েছি!’

‘আমি নিজেও এটা বিশ্বাস করতে পারি না।’—প্রসঙ্গ ঘোরাতে আমি শোবার ঘরের কথা তুললাম। শ্যারনকে প্রশ্ন করি, ‘আমরা তো বেডরুমেই মরতে পারি, তাই না?’

ওর প্রিয় বিষয় শোবার ঘর আর অসুস্থতা। লোকজনের মধ্যে সে শুধু অসুস্থতা খুঁজে পায়। আর কারও মধ্যে নানা ধরনের রোগের উপসর্গ থাকলে তো কথাই নেই—সেটা হয়ে ওঠে তার সবচেয়ে প্রিয় বিষয়।

লোকেরা যেমন শব্দজব্দ পছন্দ করে, শ্যারন তেমনই পছন্দ করে রোগের উপসর্গ মেলাতে বা রোগের রহস্যজট খুলতে। মনে করে এটাই তার বিশেষ গুণ।

আজ সকালেই এক মহিলা এসেছিলেন—চেয়ার, কম্বল, ওয়েদার বোর্ডের যে অর্ডার দিয়েছিলেন সেটি বাতিল করতে। শ্যারন তাকে দেখেই বলে উঠল, ‘ক্ষুধামান্দ্যর রোগী।’ বলতে বলতে পাঁচ ডলার বাজিও ধরে ফেলল আমার সঙ্গে। আমি হেসে বললাম, ‘জানি, তুমি কী করে বললে। তার শুষ্ক ঠোঁট, কঙ্কালসার হাতের মুঠো আর চোখের নিচের কালি—এসব দেখেই তুমি এমন বলতে পেরেছ।’ আসলে শ্যারন জানে না, আমি তাকে কতটা চিনি।

প্রায় এক ঘণ্টা আগে এসেছিলেন মহিলাটি। তার পর থেকে আমরা এ নিয়েই আলোচনা করছি। এখন রীতিমতো বিরক্তবোধ করছি। সেটা কাটাতেই ১০ মিনিট ব্রেকের প্রস্তাব দিলাম আমি। এই সময়ে আমরা সিগারেট ফুঁকব।

শ্যারন আর আমি বাইরে এসে ময়লার ঝুড়ির পাশের বেঞ্চে বসলাম। আমাদের দেখেই হাত নাড়ল নির্মাণশ্রমিকদের একটি দল। পার্কিং থেকে তারা তাদের গাড়ি বের করছিল। ওদের চেহারা রোদে শুকানো তামাকের মতো—হালকা গোলাপি আর ধূসর বর্ণের মিশ্রণ। আমার মুখে এমন অদ্ভুত কথা শুনে মুখ থেকে সিগারেট সরাল শ্যারন। বলল, ‘ওটা কী?’

ওর উঁচানো আঙুলের দিকে তাকিয়ে বুঝলাম, আমার কথায় সে অবাক হয়নি; অবাক হয়েছে অন্য কিছু দেখে। সেদিকে তাকালাম আমিও। রডোডেনড্রন ফুলের ঝোপের টেলিফোনবক্সের পাশে কিছু একটা দেখেছে সে। ঝোপটা মরে যাচ্ছে। আমাদের কথার মধ্যেই ঝোপের ধার ঘেঁষে একটি ট্রাক ঢুকল পার্কিংয়ের জন্য। আর তখনই মৃতদেহটি দেখতে পেলাম আমরা।

‘এটা মস্তকছিন্ন একটা কুকুর।’—আনমনে সিগারেট ঠোঁটে চেপে বলল সে। কাউকে জানানো প্রয়োজন বলেই তাকাল এদিক-সেদিক। মাথাবিহীন কুকুরের লাশ সে মানতে পারছিল না। হাত নাড়তেই আমাদের অফিস থেকে বেরিয়ে এল কাঠমিস্ত্রিরা। এর মধ্যে গোটা অফিস ও বাইরের শ্রমিক—সবাই জড়ো হয়ে গেছে মৃতদেহটি দেখার জন্য। এমনকি অ্যাকাউন্টসের মেয়েটা এসেও এক ঝলক দেখে গেল। ফর্কলিফট-চালক হামিশ পারলে তো সেটার ওপর তার বিশাল গাড়িই উঠিয়ে দেয়। আমরা সবাই প্রায় পাঁচ-ছয় মিটার দূরে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম সবকিছু। কেউই সামনে যাইনি, হাজার হলেও লাশ বলে কথা!

সবাই কথা বলছিল কাটা মাথা নিয়ে। ‘এ রকম বিকৃত মস্তিষ্কের কে আছে যে একটা কুকুরের মাথা কেটে ফেলতে পারে’, ড্রাইশপের গ্লিনই পশু অধিকার সুরক্ষা ও নিয়ন্ত্রকদের কথা তুলল প্রথম। আর উপস্থিত সবার কথাটা বেশ মনে ধরেছে বলে মনে হলো। গ্লিন জানাল, ‘তারা এসে মৃতদেহটি নিয়ে যাবে। এ নিয়ে আমাদের ভাবনা-চিন্তার দরকার নাই।’

শ্যারন তখনো সিগারেট ঠোঁটে ধরে চিন্তিত মুখে তাকিয়ে আছে। বিড়বিড় করে বলল, ‘কতক্ষণ এটা এখানে পড়ে রয়েছে কে জানে।’

শ্যারনের কথা কানে না তুলে গ্লিন শুরু করেছ তার কুকুরপ্রীতির গল্প। এই মৃত্যুতে সে-ই সবচেয়ে বেশি দুঃখ পেয়েছে বলে মনে হয়। নিজেকে ডগম্যান দাবি করল গ্লিন।

পশু অধিকার সুরক্ষা ও নিয়ন্ত্রকদের অফিস থেকে জানাল, আসতে আরও ঘণ্টা খানেক লাগবে তাদের। ধূমপান শেষে যার যার কাউন্টারে ফিরে গেলাম আমরা। বিশাল দোকান ও অফিসঘরে ঢোকার মুখেই আমাদের নীল রঙের কাউন্টার দুটো। সেখানে ঢুকে আবার হাসি বিনিময় করলাম। এভাবে ক্রেতাদের দিকে চেয়ে আমরা দুজনই হাসি। আমি নিজে বেশি হাসিখুশি, কিন্তু সবাই কেন যেন শুষ্ক মুখের শ্যারনকেই বেশি পছন্দ করে।

শ্যারনকে বললাম, ‘সম্ভবত কুকুরটা মারা যাওয়ার পর তার মাথা কাটা হয়েছে। সেটা অনেক সহজ বিষয়। জীবিত কুকুর জবাই করা সম্ভব নয়।’

‘কুকুর নিয়ে আমি চরম বিরক্ত।’—প্রসঙ্গটি বাদ দিতে চাইল শ্যারন। এক মহিলা এসে সে সময় জানতে চাইলেন, ওয়াশিং মেশিন কোথায় পাওয়া যাবে? ‘চার নম্বর করিডরে যেতে হবে।’—চিরাচরিত হাসি দিয়ে জানাল সে। একই সঙ্গে বুঝিয়ে দিল কোথায় কী পাওয়া যাবে।

মহিলা চলে যেতেই দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। জানাল, ‘আমাদের আরেক সহকর্মী চার্লিকে ছয়টি অভিযোগের কারণে ট্রেড অফিসে ডেকে পাঠানো হয়েছে।’ কথা বলতে বলতে সামনে থাকা রাবার ব্যান্ডগুলো দিয়ে একটা টাওয়ারের মতো বানানোর চেষ্টা করছে শ্যারন।

‘চার্লির কথা কে বলেছে তোমাকে?’

‘উইলি।’

শ্যারনের রাবারের টাওয়ার ধসে পড়ল। প্রচণ্ড বিরক্তি তার মুখে, ‘কাউন্টারে কাজ করতে বসলেই মনে হয় কবরস্থানে ঢুকেছি। আগামী গ্রীষ্মকাল কীভাবে যে এখানে কাটাব, জানি না। আমি মনে হয় পাগল হয়ে যাচ্ছি।’

‘কুকুরের মাথাটা কে কাটতে পারে? আমি আসলে জানতে চাইছি, এই জঘন্য কাজ কাকে দিয়ে সম্ভব?’—প্রসঙ্গ বদলাতে বললাম আমি। শ্যারন কোনো উত্তর দিল না। বিষয়টি সে আর মনেই করতে চাইছে না। পশু অধিকার সুরক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ অফিসে যখন ফোন করেছিলাম, এক মহিলা ধরেছিলেন, তিনি নিজেই বললেন, ‘এটা সম্ভবত কোনো নোংরা গ্যাংয়ের কাজ। ওরা ভয়ানক সব কাজ করে সবার মধ্যে ভয় ঢোকানোর চেষ্টা করে।’ ফোনে তৎক্ষণাৎ ভ্যান পাঠিয়ে দেওয়ার কথা জানালেন তিনি। ফোন রাখতে রাখতে মার্লিন নামের কাউকে ডাকছিলেন।

ভ্যানটি যখন এল, ঘর পরিষ্কারের জন্য ওপর তলায় গেছে শ্যারন। আমি তাদের স্বাগত জানাতে কার পার্কিংয়ের দিকে দৌড়ে গেলাম। গাড়ি থেকে কম বয়সী একটি মেয়ে নামল—ছোট চুল, হাতে চামড়ার ব্যান্ড লাগানো। আমার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘চলুন, মাথা ছাড়া কুকুরটা দেখে আসি।’ গাড়ি থেকে অন্য সহকর্মীদের নামার তাড়া দিতে দুই হাতে তালি বাজাল সে।

চারপাশের আলো ফিকে হয়ে আসছে। রডোডেনড্রন ঝোপের ওপর দিয়ে হেঁটে গেল মেয়েটি। কার পার্কিংয়ে তেমন কোনো গাড়ি নেই, কয়েকটা ট্রাক ছাড়া। কুকুর-মানব গ্লিন তখন ড্রাইশপ ঝাঁট দিতে ব্যস্ত।

মেয়েটা আসার পর সাহসী হয়ে মস্তকছিন্ন কুকুরকে দেখার আশায় ঝোপের দিকে এগিয়ে গেলাম আমরাও। একেবারে ঝুঁকে মৃতদেহ পরীক্ষা করছিল মেয়েটি। আমি তাকিয়ে ছিলাম তার মুখে। আরও কাছ থেকে দেখার জন্য আমাকে ডাকল সে-ই।

খুব বিনয়ের সঙ্গে মেয়ের দিকে এগোলাম আমি—ধুলোময়লায় একাকার হয়ে আছে মৃতদেহ। আশপাশে অনেক রুপালি রঙের ছেঁড়া প্যাকেট, উচ্ছিষ্ট, পানীয়ের দুমড়ানো-মুচড়ানো ক্যান।

ওই মেয়েই আমাকে জানাল, এটি আসলে কুকুর নয়—এটি হলো মগি প্রজাতির বিশালাকার বিড়াল। দেহের নিচে ছোট্ট মাথাটা চাপা পড়ায় এটিকে মস্তকছিন্ন কুকুর বলে ভুল হয়েছিল সবার। এখনো চোখগুলো খোলা কিন্তু মৃত।

এবার শুধু ‘ওহ্’ বললাম আমি।

নিজ থেকেই মেয়েটি বলল, ‘আমার ধারণা, আপনারা কেউ এটাকে কাছ থেকে দেখেননি। তাই বুঝতে পারেননি।’

‘আমরা আসলে দেখতে চাইনি।’

আমার সঙ্গে কথা বলে মেয়েটি আবার ফিরে গেল ঝোপের কাছে, যেখানে ঝোপের মধ্যে পড়ে আছে মৃত বিড়াল।

‘আমরা যেভাবে দেখেছি সেভাবে দেখলে এটাকে আপনার মাথাবিহীন কুকুরই মনে হবে।’—আত্মপক্ষ সমর্থন করে বোঝানোর চেষ্টা করলাম তাকে। আমার মতো সেও পিছিয়ে এসে দেখার চেষ্টা করল এবং সায় দিল কথায়।

‘আসলে বিড়ালের মাথা খুব ছোট হওয়ায় সেটা আপনারা দেখতে পাননি। আর কুকুরের মতো লম্বা মুখও নেই বিড়ালের। তাই এমনটা মনে হয়েছে।’

হ্যাঁ-হুঁ স্বরে তার কথায় জোর সমর্থন জানালাম আমি।

বেশ ক্লান্ত মনে হচ্ছিল মেয়েটিকে। হাত দিয়ে মুখ মুছল। এরপর আবার আমাদের বোঝানোর চেষ্টা করল, ‘আপনারা আসলে আমাদের বিষয়টা বুঝবেন না। মস্তকছিন্ন কুকুরের বিষয়টা আমাদের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এটা সহিংস ঘটনার পর্যায়ে পড়ে। আমরা তো পুলিশ ডাকতে যাচ্ছিলাম। এ ধরনের হত্যাকাণ্ড পুলিশের জন্যও বেশ গুরুতর। তবে বিড়ালের মৃত্যু এমন আহামরি কিছু নয়। মৃত বিড়াল হচ্ছে মৃত বিড়াল। হয়তো কেউ রডোডেনড্রন ঝোপের ওপাশ থেকে ছুড়ে ফেলেছে মৃতদেহটা। কিংবা নিজে নিজেই এখানে এসে মারা গেছে—খুব স্বাভাবিক একটি ঘটনা।’

মাথা ঝুঁকিয়ে তার কথায় সম্মতি দেওয়া ছাড়া আর কোনো কাজ ছিল না আমার। সেটাই করে যাচ্ছিলাম।

‘আমাকে কিনা একটা বিড়ালের মৃতদেহ নিয়ে অফিস যেতে হচ্ছে।’—চরম বিরক্তি নিয়ে মেয়েটি বলল। খুব অশ্লীল একটি শব্দও উচ্চারণ করল। বিড়ালটি নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের কাছে চাইল প্লাস্টিক ব্যাগ। সে সময় আবার আগের মতো দুই হাতে তালি বাজাচ্ছিল সে।

এক দৌড়ে তাকে এক গাদা পলিথিন ব্যাগ এনে দিলাম আমি। ব্যাগগুলোর এক পাশে রয়েছে আমাদের হার্ডওয়্যারের লোগো। কিছুটা নিচু হয়ে বিড়ালের পা ধরে চ্যাংদোলা করে এক ঝটকায় তাকে ব্যাগে ভরল মেয়েটি। তখনই বুঝতে পারলাম, দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করেছে। বিড়ালটি সে দুই দফা প্যাকেট করল। আর আমি খুব মনোযোগ দিয়ে তাকে খেয়াল করতে করতে দেখলাম, বিড়ালের মাথাটা আগে ব্যাগের ভেতরে ঢুকিয়েছে সে। এটি আমার কাছে অস্বাভাবিক লাগল। ভ্যান ও লোকজন নিয়ে চলে গেল মেয়েটি।

আমার কাউন্টারে ফেরার সময় ড্রাইশপে গ্লিনকে আমি জানালাম, এটা ছিল একটি বিড়াল এবং মস্তকহীন নয়, এর একটা মাথাও ছিল। ওটা কুকুর ছিল না শুনেই চরম খুশি গ্লিন। পারলে তখনই নাচানাচি শুরু করে দেয়। একসময় নাচতে নাচতেই ড্রাইশপ পরিষ্কারের কাজে ঝুঁকে পড়ল সে।

আর যখন কাউন্টারে ফিরলাম আমি, সব বন্ধ করে দেওয়ার সময় হয়ে এসেছে। শ্যারন হিসাব করছে। আমার দিকে এক ঝলক তাকাল, ‘পশু অধিকার সুরক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ অফিসের ওই মেয়েটি লেসবিয়ান।’—তার কণ্ঠে চরম আত্মবিশ্বাস। এমনকি পাঁচ ডলার বাজিও ধরে ফেলল আমার সঙ্গে। শ্যারনের এই আচরণ আমি চিনি।

আমি শুধু উত্তর দিলাম, ‘জানি, তুমি কীভাবে সেটি নির্ণয় করেছ।’

এলিনোর ক্যাটোনের এই গল্পের মূল নাম ‘নেক্রোপলিস’। ২০০৭ সালে নিউজিল্যান্ডের জনপ্রিয় দৈনিক সানডে-স্টার টাইম আয়োজিত প্রতিযোগিতায় সেরা গল্পের পুরস্কার পেয়েছে গল্পটি। পরে এটি নিউজিল্যান্ডের সেরা ছোটগল্পের সংকলনের পঞ্চম খণ্ডে-ও স্থান পায়।

No comments

Powered by Blogger.