এমপিওবঞ্চিত ১৪৪১ শিক্ষক ঈদ করবেন শহীদ মিনারে by অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য

দেড় বছর ধরে এমপিওভুক্ত হতে না পারায় এক হাজার ৪৪১ জন শিক্ষক শহীদ মিনারে ঈদ করার ঘোষণা দিয়েছেন। বহুবার আন্দোলন এবং অনশন করলেও প্রশাসনের আশ্বাস ছাড়া কিছুই পাননি তাঁরা। এ অবস্থায় তাঁরা আগামী সোমবার পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ শহীদ মিনারে আদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।এমপিওবঞ্চিত শিক্ষক ফোরামের আহ্বায়ক মনজিল-এ-মিল্লাত গতকাল শনিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, 'ঈদ মানে খুশি, আনন্দ। যাদের ঘরে বাজার আছে, নতুন জামা-কাপড় আছে এবং যারা কোরবানি দিতে পারবে_তারাই এ আনন্দ উপভোগ করবে। আর এমপিও না পাওয়ায় আমাদের ঈদ হচ্ছে বেদনার।


এই বেদনা কতখানি তা সরকার, দেশ ও জাতিকে বোঝানোর জন্যই আমরা শহীদ মিনারে ঈদ করার প্রস্তুতি নিয়েছি।' তিনি আরো বলেন, ১৮ মাস ধরে আমরা এমপিও পাওয়ার আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। বিভিন্ন জনের আশ্বাসও পেয়েছি। কিন্তু এখনো সে আশ্বাস বাস্তবায়ন হয়নি।'
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৯-১০ অর্থবছরে এক হাজার ৬২২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হলেও নিয়োগের সময় প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকায় নীতিমালা অনুযায়ী এসব শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করা যাচ্ছে না।
শিক্ষকদের এই ঘোষণা সম্পর্কে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নোমান উর রশিদ বলেন, 'শহীদ মিনারে গেলেই দাবি আদায় হবে না। দাবি ন্যায্য না হলে কিভাবে তাঁদের এমপিওভুক্ত করব। তবু বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে সরকার। শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় সব তথ্য যাচাই-বাছাই করছে মন্ত্রণালয়ের এ-সংক্রান্ত একটি কমিটি।'
এমপিওবঞ্চিত শিক্ষকরা বলেন, 'দীর্ঘদিন চাকরি করছি। অন্তত মানবিক দৃষ্টিতে হলেও আমাদের আবেদন গ্রহণ করুন। আর যদি নিয়োগের সময় যোগ্যতা না থাকে, তবে অনিয়মের দায়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিল করুন।'
মাউশি সূত্রে জানা যায়, সরকার গত বছর এক হাজার ৬২২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করেছে। কিন্তু বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকায় ৮৫০ জন বিপিএড শিক্ষকসহ কৃষি বিদ্যা, কম্পিউটার শিক্ষক, ব্যবসায় উদ্যোগের এক হাজার ৪৪১ জন শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এমপিওবঞ্চিত আরেক শিক্ষক খালেদ বলেন, 'নিয়োগের সময় প্রশিক্ষণ ছিল না বলে আমাকে এমপিও দিচ্ছে না। কিন্তু আমি পরে প্রশিক্ষণ নিয়েছি।'
মাউশির কর্মকর্তারা জানান, গত বছর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. আলাউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় বিশেষজ্ঞ কমিটি এমপিও নীতিমালা প্রণয়ন করে। নীতিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, 'নিয়োগকালে কাম্য যোগ্যতা না থাকলে এমপিও পাবে না।'
জানা যায়, এমপিওভুক্ত হতে হলে শিক্ষকের স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অবশ্যই থাকতে হবে_এমন বিধান থাকলেও অনেকেরই নিয়োগের সময় তা ছিল না। কম্পিউটার বিষয়ের শিক্ষকের ছিল না কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, শরীর চর্চার শিক্ষকের ছিল না বিপিএড ডিগ্রি। নিয়োগের পরে এসব যোগ্যতা পূরণ করলেও বিধান অনুয়ায়ী তাঁরা এমপিওভুক্ত হবেন না।

No comments

Powered by Blogger.