সড়কে মৃত্যুর মিছিল বড় হচ্ছেই by মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

মৃত্যু অনিবার্য। কেউ তা থামাতে পারবে না। তবে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু মেনে নেয়া কঠিন। একটি দুর্ঘটনা একটি পরিবারকে পথে বসিয়ে দেয়। স্বজন হারানোর বেদনা সারা জীবন বইতে হয়। প্রিয়জন হারানোর কষ্টের কোনো বর্ণনা হয় না। যে হারায় কেবল সেই বোঝে। ২০১৬ সালের চেয়ে ২০১৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনা বেশি হয়েছে। প্রায় পাঁচ ভাগের একভাগ বেশি।
২০১৭ সালে ৭ হাজার ৩৯৭ জন নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা ১৬ হাজার ১৯৩। হাত-পা হারিয়ে পঙ্গু হয়েছেন ১ হাজার ৭২২ জন। এসব দুর্ঘটনায় মোট যা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তাও জিডিপির প্রায় দুই শতাংশের মতো। জানমালের এমন ক্ষতি খুব কম ক্ষেত্রেই ঘটে। প্রশ্ন হল, এর প্রতিকার কী? সড়ক দুর্ঘটনা কমছে না কেন? সব দায় কি সরকারের? নাকি জনগণেরও কিছু দায় আছে? কিছু ব্যবস্থা তো নেয়াই হচ্ছে। সড়ক প্রশস্ত করার জন্য গাছপালা কেটে ফেলা হচ্ছে। বড় বড় ফ্লাইওভার হচ্ছে। তারপরও কেন এই অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যুর মিছিল ছোট হচ্ছে না? কী করলে ছোট হবে সেটাই প্রশ্ন। সহজ উপায় একটাই। সেটা হল সরকার ও জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। দুর্ঘটনা রোধে সরকারি নির্দেশনা মানতে হবে। আমরা কি তা সত্যিই মানি? অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে গাড়িতে তো আমরাই উঠি। উল্টোপথে গাড়ি আমরাই চালাই। নষ্ট বাস চলাচলের অযোগ্য। সেটার মালিক তো আমাদের মধ্যেই কেউ না কেউ।
এমন বাস চলাচলে বাধা দেয়া হয় না কেন? ব্যক্তি যতক্ষণ সচেতন না হবে, ব্যক্তি স্বার্থের চেয়ে দেশের স্বার্থ যতদিন না বড় হবে, ততদিন অনেক কিছুই ভালো হবে না। হতে পারে না। হয়ও না। উন্নত বিশ্বের বুলি শোনা যায়। সেখানে কি রাষ্ট্র সবকিছু করে? নাকি জনগণ বড় ভূমিকা রাখে? সেখানকার জনগণ আইন মানে। নিয়ম মেনে চলে। তাতে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল না হলেও আইন মানতে বাধ্য করা হয়। আমরা এর কোনটাতেই নেই। না আইন মানি, না দেশের স্বার্থে কাজ করি, না জনগণকে আইন মানতে বাধ্য করা হয়। ফলে যত পদক্ষেপই নেয়া হোক না কেন, কোনটাই সুফল বয়ে আনে না। সবশেষে আমরা যেটা পারি বা করি সেটা হল সরকারের ওপর দোষারোপ। সরকারি সংস্থার ওপর দোষারোপ। গাড়ি ভাংচুরে আমাদের জুড়ি নেই। এটা এখন রীতিতে পরিণত হয়েছে। মুখে নয়, কর্মের মধ্য দিয়ে দেশকে যখন আমরা ভালোবাসব, তখন শুধু সড়ক দুর্ঘটনা নয়, আরও অনেক কিছুই কমে আসবে। সেই দিনের প্রত্যাশায় থাকলাম।
মুহাম্মদ শফিকুর রহমান : প্রাবন্ধিক, বানারীপাড়া, বরিশাল
safiq69@gmail.com

No comments

Powered by Blogger.