ইউরোপের সব পথ বন্ধ

একে একে বন্ধ হয়ে গেল ইউরোপের সব পথ। কোনো দেশই আর শরণার্থীদের ঢুকতে দিচ্ছে না। সীমান্ত থেকে সীমান্তে ছুটে বেড়াচ্ছে দেশান্তরী মানুষ। ঠাঁই মিলছে না কোথাও। ইতালি-গ্রিস-মেসিডোনিয়া-সার্বিয়া-হাঙ্গেরি-ক্রোয়েশিয়া-জার্মানি-ফ্রান্স- কেউই আর শরণার্থী নিতে রাজি নয়। ফলে আশ্রয়ের আশায় ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টারত হাজার হাজার দেশান্তরী মানুষ এখন এক দেশের সীমান্ত থেকে অন্য দেশের সীমান্তে ছুটে বেড়াচ্ছে। ক্রোয়েশিয়া এখন হাজার হাজার শরণার্থীকে স্লোভেনিয়া আর হাঙ্গেরির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অন্যদিকে হাঙ্গেরি তাদের ঠেলে দিচ্ছে অস্ট্রিয়ার দিকে। ক্রোয়েশিয়া তাদের দেশে প্রবেশ করা শরণার্থীদের বাস ও ট্রেনে করে হাঙ্গেরির উদ্দেশে পাঠিয়ে দেয়া শুরু করেছে। কোনো ধরনের রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই এসব শরণার্থীদের পাঠাচ্ছে ক্রোয়েশিয়া। এ নিয়ে হাঙ্গেরি ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে হাঙ্গেরির পুলিশ ও সৈন্যরা শরণার্থীদের নামিয়ে অন্য বাসে উঠিয়ে দিচ্ছে বলেও জানা গেছে। ক্রোয়েশিয়া জানায়, বুধবার থেকে প্রায় ১৭ হাজারেরও বেশি শরণার্থী প্রবেশের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় তারা এমনটা করতে বাধ্য হচ্ছে। হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার সিজারতো বলেছেন, ক্রোয়েশিয়া আন্তর্জাতিক আইন লংঘন করছে। তিনি বলেছেন, ক্রোয়েশিয়া অভিবাসনপ্রত্যাশী এসব মানুষের উপকার করার বদলে তাদের দলে দলে অন্য দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে, যা কোনোভাবে মেনে নেয়া যায় না। এদের কোনো রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে না। এক দেশ থেকে অন্য দেশে চলে যাচ্ছে। তাদের তো আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে মিল রেখে সীমান্ত প্রক্রিয়া চালানো উচিত। বাসে করে শরণার্থীদের তারা আরেক জায়গায় পাঠাচ্ছে এটা তো নীতিমালার বিরোধী। একই সময় ক্রোয়েশিয়ার এক পুলিশ বলে যে হাঙ্গেরির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে একটি চুক্তি রয়েছে। যেটি সত্য নয় বলে জানাচ্ছে হাঙ্গেরি। ক্রোয়েশিয়া সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ ৪১ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতার বসিয়েছে হাঙ্গেরি।
ইউরোপের উত্তরাঞ্চলে ঢোকার চেষ্টা শরণার্থীদের : ক্রোয়েশিয়ায় আটকেপড়া শরণার্থীরা নতুন করে ইউরোপের উত্তরাঞ্চলের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছে। স্লোভেনিয়া ও হাঙ্গেরি তাদের ফিরিয়ে দেয়ার পদক্ষেপ নেয়া সত্ত্বেও তারা এ চেষ্টা চালাচ্ছে। ক্রোয়েশিয়া থেকে সীমান্ত পাড়ি দেয়ার চেষ্টাকারী একদল শরণার্থীকে ছত্রভঙ্গ করতে শুক্রবার রাতে পেপার স্প্রে ব্যবহার করে স্লোভেনিয়া পুলিশ। এদিকে নিবন্ধন ছাড়াই শরণার্থীদের সীমান্তের দিকে ঠেলে দেয়ার পর ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লংঘনের অভিযোগ করেছে হাঙ্গেরি। শরণার্থী সংকট নিয়ে বিভক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) আগামী সপ্তাহে এ নিয়ে জরুরি বৈঠক করবে। বলকান হয়ে ইউরোপের উত্তরাঞ্চলের দেশগুলোতে যাওয়ার চেষ্টাকারী হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী রেলস্টেশন ও রাস্তার পাশে ঘুমিয়ে রাত কাটিয়েছে। অন্যদিকে, কয়েকশ’ লোক তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের এদিরনের কাছে একটি বড় সড়কে রাত কাটিয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় তুরস্কের পুলিশ তাদের সীমান্ত পাড়ি দিয়ে গ্রিসে ঢুকতে বাধা দেয়। পুলিশি নিয়ন্ত্রণ কঠোর হওয়ার কারণে অনেক শরণার্থী মূল সড়ক ছেড়ে শস্য ক্ষেতের মধ্য দিয়ে হেঁটে সীমান্তে পৌঁছাচ্ছে। শরণার্থী সংকটকে কেন্দ্র করে ইইউভুক্ত ২৮টি দেশের মধ্যে ইতিমধ্যে মতভেদ ঘটেছে এবং শরণার্থীদের স্বেচ্ছা ভিত্তিতে ভাগাভাগি করে নেয়ার ইইউ’র প্রস্তাবে সাড়া দেয়ার বিষয়টি ঝুলে আছে। চলতি বছরে এ পর্যন্ত রেকর্ডসংখ্যক চার লাখ ৭৩ হাজার ৮৮৭ জন শরণার্থী ভূমধ্যসাগর পার হয়ে ইউরোপে প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা। নিরাপদ ও উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপে আসা এসব শরণার্থীদের অধিকাংশই গৃহযুদ্ধকবলিত সিরিয়ার নাগরিক। পশ্চিম ও উত্তর ইউরোপের ধনী দেশগুলো, বিশেষভাবে জার্মানিতে পৌঁছানোর জন্য এসব শরণার্থী ইউরোপের বলকান উপদ্বীপের ভেতর দিয়ে হেঁটে রওনা হয়। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে পশ্চিম ইউরোপের পথে ধেয়ে আসা শরণার্থীদের সবচেয়ে বড় এ সে াতকে কীভাবে সামলানো হবে তার কোনো একক নীতি নির্ধারণ করতে পারেনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
সীমান্ত থেকে সীমান্তে ছুটছে দেশান্তরীরা হ শরণার্থীদের পাশের দেশে ঠেলছে ক্রোয়েশিয়া
১৩০০০
সার্বিয়া-হাঙ্গেরি সীমান্তে দু’দিনে ১৩ হাজার শরণার্থী ঢুকেছে ক্রোয়েশিয়ায়
১,০৬,০০০
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ১ লাখ ৬ হাজার শরণার্থী ইতালি পৌঁছেছে
১,৬০,০০০
১ লাখ ৬০ হাজার শরণার্থীকে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে কোটা বণ্টন প্রস্তাব
২,১৩,২০০
চলতি বছরের এপ্রিল-জুন ইউরোপে ২ লাখ ১৩ হাজার জন আশ্রয় প্রার্থনা করেছে
৫,০০,০০০
অন্তত ৫ লাখ শরণার্থী চলতি বছর ইউরোপীয় সীমান্ত পাড়ি দিয়েছে
১০,০০,০০০
জার্মানিতেই চলতি বছর ১০ লাখ শরণার্থী প্রবেশ করবে।
ঢুকেছে ৮ লাখ

No comments

Powered by Blogger.