নির্বাচন কমিশন যা বিবেচনায় নিতে পারে by এম সাখাওয়াত হোসেন

ভোট ডাকাতি, কারচুপি, জাল ভোট, ব্যালট ছিনতাই
অনেক জল্পনাকল্পনা এবং আশঙ্কার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রথম ধাপের মনোনয়নপত্র দাখিল ও প্রতীক বরাদ্দের পর্ব। এখন চলছে প্রার্থীদের প্রচারণা। বেশ কয়েকটি আশঙ্কা ছিল প্রথম পর্বের আগেই। প্রথমত, প্রশ্ন ছিল এই নির্বাচনে চলমান আন্দোলনে জড়িত ২০-দলীয় জোট–সমর্থিত প্রার্থীদের যোগদানের বিষয় নিয়ে। দ্বিতীয়ত, অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন এই নির্বাচন, বিশেষ করে ঢাকার দুই করপোরেশনের নির্বাচন আদৌ হবে কি না? এই দুই আশঙ্কা নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার পালা হয়তো শেষ হয়েছে। এ সময়ে এই নির্বাচনপ্রক্রিয়া যত দূর এগিয়েছে, তাতে অন্তত এতটুকু বলা যায় যে এই নির্বাচন ঘোষিত দিনগুলোর মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে বলে ধারণা করা যায়। তবে কেমন নির্বাচন হবে তা নিয়ে এখনো সংশয় রয়েছে, যদিও নির্বাচন কমিশন নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার কথা বহুবার বহুভাবে ব্যক্ত করেছে।
নির্বাচনপ্রক্রিয়ার সময় শুরু হয়েছে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার সময় থেকে এবং এই প্রক্রিয়া শেষ হবে ফলাফল সরকারিভাবে গেজেট প্রকাশের পর। এই প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ সময়টি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারের মধ্যে বর্তায়। সংবিধানের ধারা ১১৯ মোতাবেক সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দায়দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। আর এই দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য সংবিধান ও আইনে বিধৃত অথবা প্রাসঙ্গিক নয় এবং পরিপন্থী নয়, এমন যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করার যেকোনো ব্যবস্থা নির্বাচন কমিশনের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা রয়েছে এবং এই ক্ষমতা প্রয়োগে নির্বাচন কমিশনকে কারও মুখাপেক্ষী থাকতে হবে না বা হয় না। কাজেই যেকোনো কারণে নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে তার দায়দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হয়। নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য রয়েছে সহায়ক আইন, বিধি, নির্বাচন কমিশনের পরিপত্র এবং সহায়ক প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে বিচার বিভাগ।
জনগণ, বিশেষ করে ভোটাররা একটি সুষ্ঠু ও কারচুপিবিহীন নির্বাচনের আকাঙ্ক্ষা রাখতেই পারে এবং এই আকাঙ্ক্ষার পরিপূর্ণতা দেওয়ার একমাত্র দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। সহায়ক শক্তি হিসেবে সরকারকে নির্বাচন কমিশনের কাজ যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সে ধরনের সহযোগিতা প্রদান করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। শুধু মুখেই নয়, কার্যত নির্বাচন কমিশনকে সে সহযোগিতা প্রদান করতে হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা যায়।
দুঃখজনক হলেও সত্য যে ৫ জানুয়ারি ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর উপজেলা এবং পরবর্তী সময়ে অন্য বেশির ভাগ নির্বাচন যেভাবে হয়েছে, সেগুলো গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না। কোথাও কোথাও কিছু কিছু স্থানীয় সরকার নির্বাচন অর্ধেক দিনের মধ্যেই শেষ হয়েছে বলে খবরে প্রকাশ। অর্থাৎ নির্বাচনের দিন ভোট বাক্সে রহস্যজনকভাবে যা ভোট পড়ার, তা সম্পূর্ণ হয়ে গেছে ওই সময়েই। সাধারণত এবং দৃশ্যত ব্যাপক কারচুপি হয়েছে বলে পত্রপত্রিকায় প্রকাশ। এর কারণেই ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে একধরনের নেতিবাচক ধারণা জন্মেছে। নেতিবাচক ধারণা জন্মেছে নির্বাচন কমিশনের কার্যকারিতা ও কার্যক্ষমতার ওপরও। এমনই প্রেক্ষাপটে ২৮ এপ্রিল তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে বিবিধ সংগত-অসংগত কারণে অনেক প্রার্থী এবং সমর্থকেরা আশঙ্কা করছেন যে নির্বাচনে সমতল ক্ষেত্র তৈরিতে নির্বাচন কমিশন অন্তরায়ের সম্মুখীন হচ্ছে।
আমাদের সাধারণ জনগণের মধ্যে প্রচলিত ধারণা যে নির্বাচনে কারচুপি শুধু ভোটের দিনেই হয়ে থাকে। কারণ, সেদিন শুধু ভোট গ্রহণই নয়, ভোট গণনাও শেষ হয়ে যায়। ভোট প্রদানে কারচুপি, কেন্দ্র দখল, জাল ভোট প্রদান ইত্যাদি কমবেশি ঠেকানো গেলেও গণনার সময়েও অসাধু প্রক্রিয়া গ্রহণ করা সম্ভব এবং অতীতে এমনটাও প্রতীয়মান হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম নির্বাচন যেহেতু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়া তথা লাখো চোখের দৃষ্টিগোচরের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে এমন ব্যাপক ভোট চুরির এবং কেন্দ্র দখলের মতো ঘটনা ব্যাপক আকারে নাও সম্ভব হতে পারে। এমনটি হলেও নির্বাচন কমিশন স্ব–উদ্যোগে আইনানুগ ব্যবস্থায় কেন্দ্রভিত্তিক আংশিক এমনকি সামগ্রিকভাবে নির্বাচন বাতিল বা স্থগিত করার আইনানুগ ক্ষমতা রাখে এবং প্রয়োগ করতে পারে। বর্তমান আইন ও প্রক্রিয়ায় সন্দেহজনক কেন্দ্রে তাৎক্ষণিকভাবে অনুসন্ধান করলে কারচুপি সহজেই নির্ণয় করা সম্ভব।
৩য় পর্যায়ের উপজেলা নির্বাচনের চিত্র
নির্বাচন কমিশন চাইলে এ ধরনের কারচুপি ঠেকাতে নানা উপায় গ্রহণ করা সম্ভব। সর্বাগ্রে পর্যবেক্ষক হিসেবে ঢাকা ও চট্টগ্রামের প্রতিটি ওয়ার্ডে নিজস্ব লোকবল নিয়োগ দেওয়া সম্ভব এবং শুধু নিয়োগই নয়, গোলযোগপূর্ণ কেন্দ্রে উপস্থিতির জন্য বাহন হিসেবে মোটরসাইকেলের এবং কিছু কিছু জায়গায় ভিডিও ক্যামেরা ব্যবহার করা সম্ভব। অতীতে কমিশনের এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার উদাহরণ রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বেশির ভাগ কর্মকর্তা এ বিষয়ে যথেষ্ট অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। শুধু পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগই নয়, কিছু কিছু গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে নিজস্ব প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগও অসম্ভব নয়। এসব ব্যবস্থা করা হলেও নির্বাচন কমিশনকে সর্বতোভাবে দৃশ্যমান, নিবিড় পর্যবেক্ষণের মধ্যে থাকতে এবং ত্বরিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো মনমানসিকতায় থাকতে হবে। অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে চাই যে অতীতে এই কয়টি নির্বাচন বেশ জটিল বলে প্রমাণিত হয়েছিল। বিগত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট গ্রহণ নির্বিঘ্নে হলেও পরবর্তী সময়ে বেশ জটিল পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছিল। তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সম্পূর্ণ কমিশনকে সকল শক্তি প্রয়োগ করতে হয়েছিল পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক করতে এবং সময়মতো ফলাফল ঘোষণা করতে। তবে প্রতিটি নির্বাচন এক ছকে অনুষ্ঠিত হবে তেমনও নয়, কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে ভবিষ্যৎ নির্ণয় করা যায়।
ভোট গ্রহণের দিন সম্ভাব্য স্বচ্ছ ব্যবস্থার বিষয়ে অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু বক্তব্য ও একটি সুপারিশ দিয়ে তুলে ধরতে চাই, যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ও নির্বাচন কমিশন খতিয়ে দেখতে পারে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও তৎপরবর্তী নির্বাচনগুলোতে যে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে, তা আর রাখঢাকের মধ্যে নেই। এরই আলোকে ভোটের সংখ্যা ও গড় নিয়ে অবিশ্বাস্য তেলেসমাতি কাণ্ড হতে দেখেছি। এমনকি নির্বাচন কমিশনও অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছে। আমাদের উপমহাদেশের, বিশেষ করে বাংলাদেশের নির্বাচনগুলোতে গড়পড়তা যা পরিলক্ষিত হয়, তা হলো সকাল থেকে প্রায় দুপুর ১২টা পর্যন্ত সাধারণত নারী ভোটারদের উপস্থিতি থাকে, অপর দিকে দুপুরে সাধারণ ভোটার সমাগম কম হয় এবং বিকেলে পুরুষ ভোটারদের আধিক্য বেশি হয়ে থাকে। সাধারণত ভোটকেন্দ্রে জালিয়াতি হয় প্রথম প্রহরে ও দ্বিপ্রহরে। শেষ সময় জালিয়াতির ঘটনা ঘটে, যদি প্রথম থেকে ভোটার উপস্থিতি কম হয়।
পুকুরে ভাসছে ব্যালট, ভাঙা বাক্স পড়ে আছে মাঠে
ভোটার উপস্থিতি বেশি হলে জাল ভোট, কেন্দ্র দখল, এজেন্ট বের করার ঘটনা তুলনামূলক কম হয়। আমাদের নির্বাচনগুলো তখনই সুষ্ঠু বলে বিবেচিত হয়, যদি বাস্তবিক পক্ষে গড়পড়তা ৬০ শতাংশ অথবা তদূর্ধ্ব ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। অন্যথায় ব্যালট পেপারের মুড়ি গুনে ভোট প্রয়োগ সঠিক হয়েছে বলে বিবেচনা করার মধ্যেও বিড়ম্বনা হতে পারে। কেন্দ্র দখল করে ব্যালট প্রবেশ করালে মুড়ি গুনে ন্যায্যতা নির্ণয় সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে বিধিতে উল্লেখ না থাকলেও নির্বাচন কমিশন প্রত্যেক প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে প্রতি ঘণ্টায় ভোট গ্রহণের হার লিপিবদ্ধ করে রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ দিতে পারে। এ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনয়নের জন্য নিজস্ব পর্যবেক্ষক এবং অনুমোদিত পর্যবেক্ষণে এই নথি অবলোকন করার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। এ ব্যবস্থায় সঠিক প্রয়োগ হলে হয়তো ব্যালট ভর্তি করা এবং কারচুপি ঠেকানো সহজতর হতে পারে। অবশ্য এ ক্ষেত্রে ইভিএমের ব্যবহার যথেষ্ট উপযোগী প্রমাণিত হতে পারত। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একজন ভোটারকে তিনটি ব্যালটে নির্বাচন করতে হবে। কাজেই সঠিক ভোট আর জালিয়াতি বিষয়টি প্রতি ঘণ্টার হিসাবেও নির্ণয় করা সম্ভব হবে।
ভোট গ্রহণের দিন ছাড়াও সম্পূর্ণ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সময়েও কারচুপি সম্ভব, তবে সেগুলো বেশ কৌশলগত হয়ে থাকে। মনোনয়নপত্র গ্রহণ, প্রার্থীদের স্বাধীনভাবে মনোনয়ন দাখিল, মনোনয়ন প্রদানে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ বাধা, বৈধ প্রার্থীদের নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে আতঙ্কের সৃষ্টি করা এবং সরকারি দলের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের হুংকার—এসবই একধরনের নির্বাচনী দুর্নীতির মধ্যে পড়ে। শুধু দুর্নীতিই নয়, নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টার বেশ কিছু উদাহরণ আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের এ পর্যায়ে সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রায়ই বিভিন্ন উপায় অবলম্বনের ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের ক্ষেত্রে। দেখা গেছে একটি নির্দলীয় নির্বাচন দলীয় প্রভাবে স্ব–উদ্যোগে অনেক প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে দেখা যায়নি। এমনকি ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে আগাম প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে প্রকাশ, যা সম্পূর্ণভাবে নির্বাচনী আইনের পরিপন্থী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তা ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে করা হচ্ছে বলে মনে হয় না। বহু মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীর বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা না থাকা সত্ত্বেও গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপের শামিল বলে বিবেচিত।
ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনকে অবজ্ঞা করার প্রবণতার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। কয়েক দিন আগে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঢাকা উত্তরে মতবিনিময় সভায় যা ঘটেছে, তা কোনো শালীনতার সংজ্ঞায় পড়ে না। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য দেওয়ার আগেই কয়েকজন মেয়র প্রার্থী ও তাঁদের অনুসারী কাউন্সিলর প্রার্থীরা স্থান ত্যাগ করেন। এমন কর্মকাণ্ড যেমন অভূতপূর্ব, তেমনি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশের শামিল। এই কতিপয় প্রার্থীর এহেন কর্মকাণ্ড অত্যন্ত নিন্দনীয়। প্রকারান্তরে নির্বাচন কমিশনের তোয়াক্কা না করার শামিল। এ ধরনের আচরণ উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীদের কাছ থেকে আশা করা যায় না। এঁদেরকেই এই কমিশনের অধীনে নির্বাচন করতে হবে। এ বিষয়ে কমিশনের উচিত এসব প্রার্থীকে সতর্ক করা। এ ধরনের অবজ্ঞা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। মনে রাখতে হবে, স্বচ্ছ নির্বাচন করার দায়িত্ব শুধু কমিশনেরই নয়, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদেরও বটে। সেই সঙ্গে সহযোগী প্রতিষ্ঠানেরও দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করা।
এম সাখাওয়াত হোসেন: অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও কলাম লেখক৷
hhintlbd@yahoo.com

No comments

Powered by Blogger.