আশুগঞ্জের স্মৃতিসৌধ-দক্ষতা ও দূরদর্শিতা কাম্য

মুক্তিযুদ্ধকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের বহুল আলোচিত সম্মুখ সমরে বীর শহীদদের স্মরণে বিলম্বে হলেও স্মৃতিসৌধ নির্মাণের উদ্যোগকে আমরা নিশ্চয়ই সাধুবাদ জানাই। দেশমাতৃকাকে শত্রুমুক্ত করতে এ দেশের দামাল ছেলেরা কীভাবে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে লড়াই করেছে_ সেই ইতিহাস ও তার চেতনা প্রজন্মান্তরে পেঁৗছে দিতে এ ধরনের স্থাপনার বিকল্প নেই।


তবে এটি সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে নির্মাণ কাজে সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা ও দূরদর্শিতার প্রয়োজনীয়তাও আমরা একই সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। শুক্রবার সমকালের লোকালয় পাতায় প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যাচ্ছে, ৪৩ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ কাজ চলাকালেই ভাঙনের মুখে পড়েছে। কিন্তু স্থানটি অপেক্ষাকৃত নিচু হওয়ায় এবং এর পাশ দিয়ে সংলগ্ন বিস্তৃত এলাকার পানি নিষ্কাশন নালা বয়ে যাওয়ায় এমন বিপত্তি। নালাটি সরিয়ে নেওয়া এবং একটি মাটি আটকানো দেয়াল তৈরি করা হলে অবশ্য ভাঙনের আশঙ্কা আর থাকবে না। এ জন্য বাড়তি বরাদ্দও নেই। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, প্রকল্প প্রণয়নের সময় ঝুঁকি কি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি? এখনও বরাদ্দ হতে পারে। সামান্য অর্থের জন্য পুরো স্থাপনা ঝুঁকির মুখে রাখা উচিত হবে না। এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণে কত কাঠখড় পোড়াতে হয়_ তাও আমাদের অজানা নয়। আমরা আশা করি, কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অগ্রাধিকার হিসেবে দেখবে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয়রাও এগিয়ে আসতে পারে। মূল স্মৃতিস্তম্ভটি ঝুঁকিমুক্ত করার পাশাপাশি এর সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও স্থানীয়দের অবদান রাখা কঠিন নয়। এ ধরনের অন্যান্য স্থান কিংবা বধ্যভূমিসহ মুক্তিযুদ্ধের স্মারক চিহ্নিত ও সেখানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণেও এগিয়ে আসতে পারে স্থানীয়রা। যে জাতি স্বতঃস্ফূর্তভাবে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে এনেছে, তারা আত্মত্যাগের স্মারক ধরে রাখতে পারবে না কেন? বস্তুত এটা সবার দায়িত্ব। আমরা যে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা এনেছি_ নিছক উদ্যোগহীনতায় তা মুছে যেতে পারে না।
 

No comments

Powered by Blogger.