অসহনীয় হয়ে উঠছে বিদ্যুতের যন্ত্রণা

বিদ্যুতের লোডশেডিং আবারও অসহনীয় হয়ে উঠছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়া-আসার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় বিভ্রাটের ঘটনাও ঘটছে। এ অবস্থায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের সরবরাহ পরিস্থিতি ক্রমেই বেসামাল হয়ে উঠছে। মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। আসছে শীতেও দেশের মানুষ লোডশেডিংয়ের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে না। বরং আগামী সেচ মৌসুমে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে বলে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আশঙ্কা।র্তমানে ছোট-বড় ১৬টি ইউনিট বন্ধ রয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটি অথবা সংস্কার কাজের জন্য এসব ইউনিট বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ ঘাটতি এখন এমনিতেই বেশি।


নতুন কুইক রেন্টাল ও রেন্টাল (ভাড়াভিত্তিক) কেন্দ্রগুলোর বেশির ভাগই পুরোমাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না। তার ওপর সার কারখানাকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন গ্যাস কম পাচ্ছে। এ কারণে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কম হচ্ছে। আসছে বোরো মৌসুমে সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার এখন বিদ্যুৎকেন্দ্রের চেয়ে সার কারখানাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস বেশি দিচ্ছে। বেসরকারি খাতের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানেও গ্যাস কমিয়ে তা সার কারখানায় দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে।
পিডিবি চেয়ারম্যান এএসএম আলমগীর কবির সমকালকে জানান, কিছু কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। আর কিছুতে গ্যাস কম পাওয়ায় উৎপাদন কম হচ্ছে। এসব কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে। এজন্য লোডশেডিং বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বন্ধ ইউনিটগুলো উৎপাদনে ফিরলে এবং গ্যাস বেশি পাওয়া গেলে এতটা সংকট থাকবে না।
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, এখন যেসব গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু আছে; সেগুলোয় ব্যাপক হারে গ্যাসের অপচয় হয়। এই অপচয় রোধ করা গেলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বর্তমানে যে গ্যাস পায় তা দিয়েই আরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।
পিডিবি সূত্র জানায়, গতকাল দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল পাঁচ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। সেখানে সন্ধ্যায় উৎপাদন হয় মাত্র চার হাজার ৭৭৫ মেগাওয়াট। বর্তমানে দেশে মোট ৭৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে। এগুলোর মধ্যে সাতটি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র (আইপিপি), দশটি ক্ষুদ্র বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র (এসআইপিপি), সাতটি দ্রুত ভাড়াভিত্তিক (কুইক রেন্টাল) বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ২১টি ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে। বাকিগুলো সরকারি। সবমিলিয়ে বর্তমানে মোট সাত হাজার ৬২৩ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার ৭৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেও এসব কেন্দ্র থেকে গড়ে চার হাজার আটশ' মেগাওয়াটের বেশি
বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না। গ্যাস সংকটের কারণে প্রায় চারশ' মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো জানায়, চাহিদার তুলনায় তারা অনেক কম বিদ্যুৎ পাচ্ছে। এ কারণে বাধ্য হয়ে তাদের লোডশেডিং বাড়িয়ে দিতে হয়েছে। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং লো-ভোল্টেজের কারণেও অনেক এলাকার গ্রাহককে বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ডিপিডিসির এক কর্মকর্তা জানান, কোম্পানির আওতাধীন এলাকায় সন্ধ্যায় বিদ্যুতের গড় চাহিদা এক হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি। সেখানে এখন গড়ে সাড়ে আটশ' মেগাওয়াটের কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। লোডশেডিং আবারও বৃদ্ধির জন্য পিডিবিকে দায়ী করে ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, তার কোম্পানি সন্ধ্যায় চাহিদার মাত্র ৬০ শতাংশের মতো বিদ্যুৎ পাচ্ছে। এ জন্য বিভিন্ন এলাকায় ঘুরেফিরে লোডশেডিং হচ্ছে।
রাজধানীর দুই বিতরণ সংস্থার একটি ডিপিডিসি। এর বেশিরভাগ এলাকায় দিন-রাত ২৪ ঘণ্টায় ৬-৭ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকছে না। ডিপিডিসি এলাকায় জরাজীর্ণ বিতরণ লাইন বেশি হওয়ায় সেখানে বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং লো-ভোল্টেজের ঘটনাও বেশি ঘটছে। এতে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেশি হচ্ছে। অপর বিতরণ সংস্থা ডেসকো এলাকায়ও সমস্যা কম নয়। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের চেয়ে লোডশেডিং সমস্যাই এ এলাকায় বেশি।
মিরপুরের সাড়ে ১১ নম্বরের বাসিন্দা দিলরুবা হোসেন বলেন, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত চারবার বিদ্যুৎ ছিল না। রাতে আরও দু'বার লোডশেডিং হয়েছে। এ কারণে সন্ধ্যায় দুই ছেলেমেয়ের লেখাপড়ায় ব্যাহত হচ্ছে। পশ্চিম রামপুরার গৃহিণী নীপা তরফদার গতকাল টেলিফোনে জানান, লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় এখন 'আইপিএস'ও ঠিকমতো চার্জ দেওয়া যাচ্ছে না। বাসায় পানি সমস্যাও হচ্ছে।

No comments

Powered by Blogger.