গল্প- 'জয়া তোমাকে একটি কথা বলবো' by জাহিদুল হক

সোহরাওয়াদর্ী উদ্যানের টিএসসি ঘেঁষা এলাকার একটি গাছের নিচে তুকা ঘাসের ওপর বসে আছে। ওর পাশে জয়া। তুকা ইউনিভার্সিটির মহসীন হলের ছাত্র। আর জয়া রোকেয়া হলের।

নির্জন দুপুরের ভ্যাপসা গরমেও গাছের ছায়ায় কিছুটা স্বস্তি আর শান্তির স্পর্শ পাচ্ছিল তুকা আর জয়া দু'জনেই।
তুকার মনে এখন একটা অস্বস্তির কাঁটা বিঁধছে। জয়াকে আজও কথাটা বলবে ভেবেও বলতে পারছে না। কিছুতেই স্বস্তি পাচ্ছে না কথাটা মুখ ফুটে বলতে।
বেশ কিছুদিন ধরে তুকা শুধু মাঝে মাঝে জয়াকে একটি সংলাপের পুনরাবৃত্তি করে বলছে, জয়া, তোমাকে একটি কথা বলবো!
জয়া হেসে বলে, কী কথা? বলো।
তুকা বলে, বলবো।
যৌবন মাতাল বাতাসের মতো। সেই মাতাল বাতাসের মধ্যে তুকা ও জয়ার হাসি সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো ভেঙে ভেঙে পড়ে। দু'জনেই প্রাণ খুলে হাসে। দু'জনেই দু'জনার স্পর্শের মধ্যে উথাল পাথাল করতে থাকে। তারপর এক সময় কিছুতেই সেই বলবার কথাটি আর বলা হয় না তুকার। এই কথা সেই কথার ভেতর দিয়ে তারা দু'জনেই অন্য হাজার কথার ভিড়ে হারিয়ে যেতে থাকে। যৌবনের কথা অনেক। যৌবনের কথার আর শেষ হয় না।
একটা সিগারেট ধরিয়ে জোরে একটা টান মারে তুকা। ধোঁয়া ছাড়ে বাতাসের মধ্যে। 'মুহূর্তে বাতাস গিলে ফেলে ধোঁয়ার কুন্ডুলী।
: দিবি এক টান। তুকা জয়াকে বলে। হাসে।
: না, বাবা, কাশি পায়। তুই খা।
: খাচ্ছি তো। চানাচুরঅলাকে ডাকি?
: ডাক। কিন্তু সিগারেট ছেড়ে দে তুকা।
: দেবো। তোকে একটা কথা বলি, জয়া?
: দূর শালা! জয়া এবার হঠাৎ গম্ভীর হয়ে ওঠে। আচ্ছা, তুকা তুমি কিন্তু অনেকদিন ধরেই 'তোমাকে একটি কথা বলবো', 'তোমাকে একটি কথা বলবো' বলে কলের গানের ভাঙ্গা রেকর্ড বাজিয়ে যাচ্ছো। কী কথা, তুকা? আচ্ছা কোনো খারাপ কথা না তো। আজকে কিন্তু বলতেই হবে। এই তুকা বুঝতে পারছো কী বললাম? আমি কিন্তু আজ তোমাকে ছাড়ছি না। এই তুকা, কাল কিন্তু 'টুয়েন্টি ফার্স্ট ফিল্ম'-এর ফেস্টিবল শুরু। দুপুরে দু'জনে মিলে চায়নিজ খাবো। এটা আমি খাওয়াবো। আর তুমি কিনবে সোফিয়া লরেনের ফিল্ম-এর টিকিট। এই চানাচুর, এই চানাচুর ঃ
তুকা হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। কী ভাবে সে বলবে এই কথা। জয়া কষ্ট পাবে। হয়তো কাঁদবে। দেখা হলেও কোনোদিন কথা বলবে না। তুকা একটু বিষণ্ন হয়।
: তুকা তারপরও বলবো, বলি?
: কী? হাসে জয়া।
: তোমাকে যে একটা কথা বলবো বলেছিলাম!
: বলো। সোফিয়া লোরেনের ছবিটার নাম যেন কী?
: সানফ্লাওয়ার।
: না। 'টু উইমেন' না কী যেন নাম!
: যাই হোক, দেখবো। সোফিয়া লোরেন আমারও প্রিয়।
: অদ্ভুত ফিগার। ভারি সুন্দর।
: হঁ্যা। যেন কঙ্কালের ওপরে পেলব চামড়া বসানো।
: ঠিক বলেছো। হাসে জয়া।
: তোমার মতো। হাসে তুকা।
: পাগল নাকি। কোথায় সোফিয়া আর কোথায় খোফিয়া।
: বাহ, ভালো মিল দিয়েছো তো। খোফিয়া অর্থ জানো?
: দূর, জেনে বলেছি নাকি? মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো।
: তবু এটা অর্থ বহন করা একটা শব্দ। বোধহয় উদর্ু।
: উদর্ু?
: হঁ্যা।
: খোফিয়া অর্থ কী?
: বলতে পারবো না। মনে হয় 'গুপ্ত', 'গোপন'। 'লুকানো'
: বাহ, সুন্দর তো। এই আমাকে তুমি খোফিয়া বলে ডাকবে।
:ডাকবো। খোফিয়া। এই খোফিয়া।
:হুঁ। আবার বলো। 'লুকানো' বলে ডাকো একবার।
:এই, গুপ্ত, এই, গোপন। এই লুকানো!
:সত্যিকার যা কিছু তা-ই গোপন। না?
:ভালোবাসাকে কি আমরা দেখি?
:না। সে বুকের মধ্যে লুকিয়ে থাকে।
:ফুলের গন্ধকে কি আমরা দেখতে পাই?
:না। সে ফুলের মধ্যে লুকিয়ে থাকে।
:আমরা স ষ্টাকেও দেখি না।
:তিনি তার সৃষ্টির মধ্যে লুকিয়ে থাকেন।
:তোমার জন্যে আমার যা কিছু আমি তোমার বুকে লুকিয়ে রেখেছি।
:আমিও। হাসে তুকা।
জয়াও হাসে। জয়া আরো উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। কিন্তু কেমন যেন মস্নান হয়ে ওঠে তুকা। তুকা জয়ার চোখ থেকে তার দু'টো চোখকে সরিয়ে নেয় দূর আকাশের দিকে। গাছের ডালপাতার ফাঁক দিয়ে এক মুহূর্তে আকাশটাকে শূন্য মনে হয় তুকার কাছে। অন্যদিকে তুকার দৃষ্টি অনুসরণ করে জয়াও তাকায় দূর আকাশের দিকে। জয়ার কাছে আকাশটাকে আজ আরও ঘন নীল বলে মনে হলো।
।। ২ ।।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জয়ার সঙ্গে তুকার এক নির্জন দুপুর কাটাবার পরের দিন ওরা দু'জনে 'টুয়েন্টি ফার্স্ট ফিল্ম-এর ফেস্টিবলে সোফিয়া লোবেন অভিনীত একটি মুভি দেখেছিল। জয়ার সঙ্গে তুকার এই দিনটাও চমৎকার কেটেছিল। তারা অনেক বকবক করেছে, অজস হেসেছে সারা দুপুর। তারা কোল্ড ড্রিঙ্কস খেয়েছে, চানাচুর আর চিপস খেয়েছে, তুকা সিগারেট টেনেছে, জয়া তুকাকে সিগারেট ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করেছে এবং আরও কতো কী! জয়া আর তুকা হাতে হাত রেখেছে এবং তারা প্রাণ প্রাণে রেখে উদযাপন করেছে আরো কিছু নতুন সময়। কিন্তু এই দিন মুভি দেখার জন্যে হোক কিংবা অন্য কারণেই হোক তুকা তার বিশেষ সংলাপটি উচ্চারণ করার কথা বোধ হয় ভুলেই গিয়েছিল। 'আমি তোমাকে একটি কথা বলবো' বাক্যটি তুকার মুখ থেকে একবারও বার হয়নি। আর এই কথাটি কী কথা সেটা নিয়ে জয়াও খুব একটা মাথা কখনোই ঘামায়নি। কখনো সখনো এক আধটু সিরিয়াস হলেও পর মুহূর্তেই জয়া প্রসঙ্গান্তরে চলে গেছে অনায়াসে।
।। ৩ ।।
জয়ার সঙ্গে তুকার মুভি দেখার পরের দিন। তুকা শামসুন নাহার হল-এর সামনে একটি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছে। ভ্যাপসা অপরাহ্ন। বাতাস নেই। তুকা সিগারেটের ধোঁয়ায় সুন্দর কুন্ডলী তৈরি করতে পারে। বাতাস না থাকার জন্যে রিংগুলো অনেকক্ষণ ধরে শূন্যে ভাসতে ভাসতে তবেই মিলিয়ে যাচ্ছিল। তুকার পরনে জিন্স-এর ট্রাউজার এবং শার্ট। উরজ এখন বেরুবে। উরজ হল থেকে বেরিয়ে এসে তুকার মুখোমুখি দাঁড়ালো। তুকা হাসলো।
:এই, ছাড়বি না তুই সিগারেট টানা? উরজ বললো।
:কী করে ছাড়বো? তুকা উরজের মুখের ওপর ধোঁয়া ছাড়লো।
:কেন? উরজ হাত নেড়ে ধোঁয়া তাড়ালো।
:তুইও তো টানিস মাঝে মধ্যে।
:তা-ও কথা। তবে আমি তো সখ করে করি।
:খাবি এখন? তুকা হেসে অর্ধপোড়া সিগারেটটা আগিয়ে দিল।
:দূর, তোর উচ্ছিষ্ট তুই খা। নতুন একটা দে।
তুকা হাসলো। একটি গভীর দৃষ্টি প্রসারিত করলো উরজের মুখের ওপর, চোখের ওপর। উরজকে খুব অদ্ভুত লাগা শুরু করেছে তুকার। কী আছে উরজের মধ্যে, যা আর কারোর মধ্যে নেই? তুকা ভাবে। অবশ্য প্রথম প্রথম পরিচয়ের পর যখন উরজ তার দিকে ঘেঁষা শুরু করেছিল তখন খুব একটা পাত্তা দেয়নি তুকা। একদিন ঘোর বৃষ্টির মধ্যে সায়েন্স ফ্যাকাল্টির প্রায় নির্জন হয়ে ওঠা বারান্দায় তুকা হঠাৎ করে খুঁজে পেল সত্যিকারের উরজকে। বিষণ্ন, মস্নান আর সুন্দর। সাধারণত সুন্দর মেয়েরা সুন্দরই। ওরা বিষণ্ন হয় না। ওরা মস্নান হয় না। উরজ একই সময় এর সবকটা। আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিল তুকা। যদিও তুকা জানে তুকা বিষণ্ন নয়, মস্নান নয়, ব্যথা কিংবা বেদনার কেউ নয় সে। তুকা বুকের মধ্যে মাঝে মধ্যে ব্যথা হয় বটে। কিন্তু সেই ব্যথার চাপ শেষ পর্যন্ত তার সিগারেটের ধোঁয়ার রিং-এর মতোই বাতাসে মিলিয়ে যায়। তুকার মস্নান মুখ মুহূর্তের মধ্যে উজ্জ্বল হয়ে উঠে।
তুকা উরজকে বললো, উচ্ছিষ্ট না, আমার ঠোঁট ছুঁয়েছে সে।
খিলখিল করে হেসে ওঠে উরজ।
তাহলে দে। কিন্তু শেষইতো হয়ে গেছে।
যা কিছু মধুর তাই দ্রুত ফুরিয়ে যায়।
তুকা আর উরজ হাঁটতে হাঁটতে অনেক দূর চলে যায়। তখন আকাশটা খুব উজ্জ্বল হতে থাকে। গোধূলি রঙিন হতে শুরু করে। ওরা একটি সুন্দর রেস্টুরেন্ট দেখতে পায়। ওরা কিছু গাছপালার দুলে ওঠা দেখতে পায়। আজকের বিকেলের এই শরহটাকে যথেষ্ট পাতলা বলে মনে হতে থাকলো । এটা হয়। মন ভালো থাকলে প্রকৃতি ও শহরও ভালো হতে শুরু করে। শহর যদি সুন্দর হয়, প্রকৃতি যদি অনুকূলে থাকে তখন মন উৎফুলস্ন হতে শুরু করে। হঠাৎ করে শহরটার ভিড়ভাট্টা কোথায় যেন হারিয়ে গেল। তুকা ও উরজ একটি ভিড়হীন শহরকে আচম্বিতে আবিষ্কার করে ফেলল। রেস্টুরেন্টের একটি নির্জন কোনায় তুকা আর উরজ বসে আছে। খাবারের অর্ডার দেয়া হয়েছে।
উরজ এবারে হঠাৎ করে সিরিয়াস হয়ে উঠলো।
উরজ বললো, তুকা
বলো
কয়েকদিন ধরে তুমি কী একটা কথা বলবে বলে বলছো। কিন্তু বলছো না।
আজকে বলতেই হবে। কী কথা তুকা? সিরিয়াস কোনো কথা?
হঁ্যা, সিরিয়াসই বটে। কিন্তু সিরিয়াসটা কী? খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বলো তাহলে।
বলবো, আজ না।
কী আশ্চর্য, তুকা। আমি খুব চাপ বোধ করছি।
না, চাপ তৈরি হবার মতো কিছু না।
তারপরেও চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে ঘুমুতে যাওয়ার আগে।
যাহ? আচ্ছা উরজ, তুমি কি এখনো তোমার হলের পেছনের ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়াও। অনেক রাত্রিতে, পৃথিবী ঘুমিয়ে গেলে? পৃথিবী কি ঘুমিয়ে যায়? তখন!
হঁ্যা। তখন তোমার এই না বলা কথাটি আমার মধ্যে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। তুমি আজ আমাকে বলো, কী সেই কথা? তুকা। রাত্রির নির্জন ব্যালকনিতে আমি একজন উজ্জ্বল নারী হয়ে উঠতে চাই। তোমার জন্য। তুমি তখন আমাকে একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দাও অকারণে।
আর দেবো না, বলবো।
কবে বলবে?
তুমি যখন রাতের ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়াও, উরজ তখন আমি কোথায় থাকি?
ঠিক নিচে।
ঠিক নিচে। শামসুননাহার হলের পাচিল ডিঙিয়ে ঢুকে যাই। গোপনে। দারোয়ান আমাকে দেখতে পায় না, প্রভোস্ট আমাকে দেখতে পায় না। শুধু চাঁদ আমাকে দেখতে পায়। সেই এনভিয়াস মুন।
মাঝে মাঝে তুমি খুব গভীর হয়ে উঠতে পারো। তুমি সারাক্ষণই এতো চঞ্চল আর ছলকে পড়া মানুষ। মেলাতে পারি না। এমন কেন তুমি?
আচ্ছা উরজ, তখন কি তুমি আমার বিস্ময় ভরা ফিসফিস করে ওঠা কথাগুলো শুনতে পাও? ইট ইজ দ্য ইস্ট, এন্ড জুলিয়েট ইজ দ্য সান? এরাইজ ফেয়ার সান, এন্ড কিল দ্য এনভিয়াস মুন। শুনতে পাও। তুমি তো ইংরেজি পড়ো। সাহিত্য পড়ো।
উরজ তুকার কথায় আর ভঙ্গিতে খিলখিল করে হেসে উঠে। তারপর হাসি থামিয়ে হাসি ও বিস্ময় ভরা দুটো চোখ মেলে তাকিয়ে থাকে তুকার চোখের দিকে। কোনো কথা বলে না।
তুকাও কোনো কথা বলে না। দুজনের মধ্যেই একটা নিশ্চুপতা। এখন দুজনেই অনুভব করছে এবং শুনতে পারছে কিছু নিঃশব্দ কথার শব্দকে। এই শব্দগুলো কী, সেটা তুকা ভাবে।
উরজ আবার গম্ভীর হয়ে যায়। তার গম্ভীর হয়ে ওঠা মুখের দিকে তাকিয়ে তুকাও খানিকটা উসখুস করে ওঠে।
:কী বলবে না?
:কী বলবো?
:আশ্চর্য, তুমিইতো কয়েকদিন ধরে কী কথা বলবে বলে ছটফট করছো। এই তুকা, কোনো খারাপ কথা না তো? কোনো দুঃসংবাদ নয় তো?
না। তবে এ জীবনে কি মানুষের জন্যে কোনো সুসংবাদ আছে?
তুকা।
কী?
দার্শনিকতা রাখো। তুই খুব শয়তান। তুই দুষ্টু তুকা।
তাই? হাসে তুকা। আবার মুখখানা ওর মস্নানও হয়ে ওঠে।
তাহলে বল। এই তুকা বল।
তারপর রেস্টুরেন্টে জয়া আর উরজের টেবিলে একটি নিস্তব্ধতা নামে। সেই নিস্তব্ধতার মধ্যে কাটা চামচের টুং টাং শব্দ ওঠে। সূর্য ওঠে। এনভিয়াস মুন ওঠে। আরো কতো কী যে উঠে আসে। বৃষ্টি ওঠে। সমুদ্র ওঠে। আশ্চর্য নদীসমূহের ধসগুলো ওঠে।
।। ৪ ।।
তার পরের দিন। অপরাহ্ন। গোধূলি তখন নির্মিত হচ্ছে। তৈরি হচ্ছে পশ্চিম আকাশে গাঢ় গোলাপী রঙগুলোর অপরূপ মৌনতা। তুকা এখন টিচার্স স্টুডেন্ট সেন্টারের লাগোয়া সোহরাওয়াদর্ী উদ্যানের একটি গাছের নিচে একা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছে। অনেক একাকী মানুষ আর অনেক যুগলকে বসে থাকতে আর পায়চারী করতে দেখে তুকা। তুকা এক সময় হাঁটতে হাঁটতে টিএসসি ছাড়িয়ে শামসুন নাহার হলের সামনে এসে দাঁড়ায়। কিছুক্ষণ ওখানে দাঁড়িয়ে থেকে তুকা রোকেয়া হলের দিকে হাঁটতে থাকে।
এখন দুটো প্রকৃতি ছড়িয়ে আছে চারিদিকে। একটি প্রকৃতিতে এখন গোধূলি গাঢ় হচ্ছে ধীরে ধীরে। গোধূলি সাধারণত একটু বিধুর। কিন্তু আজকের এই গোধূলিটি খুব উজ্জ্বল গোধুলিটা যেন নেচে উঠতে চাইছে। গোধূলি কি নাচে? গোধূলি তো কেমন মলিন হতে থাকে আর রঙিন ছড়ানো অাঁচলটাকে গোটাতে গোটাতে। কিন্তু এখন তুকার মনের ভেতরে যে প্রকৃতির মধ্যে একটি গোধূলি দৃশ্যমান হয়ে আছে সেটা খুবই বিষণ্ন, খুবই মলিন। তুকা কী করবে এখন, সেটা সে নিজেই ভাবতে পারছে না। এতো কিসিমের গোধূলি আছে পৃথিবীতে, আকাশে আর মনে, সেটা দূর ছাই, তুকা কি এর আগে আর কখনো জেনেছিল। তুকা ভাবলো বরং এখন আর একবার ভোর হলেই ভালো হতো। কলবর করে উঠতো পাখিরা।
=============================
গল্প- 'নতুন বন্ধু' by আশরাফুল আলম পিনটু  গল্প- 'টপকে গেল টাপ্পু' by ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থ  গল্প- 'নাচে বানু নাচায়রে' by আতা সরকার  গল্প- 'রূপকথার মতো' by নাসির আহমেদ  গল্প- 'বিয়ে' by আর্নল্ড বেনেট  গল্প- 'মাদকাসক্ত' by আলী ইদ্রিস  গল্প- 'বেঁটে খাটো ভালোবাসা' by রেজানুর রহমান  কবর by জসীম উদ্দীন (পল্লীকবি)  গল্প- 'নদীর নাম চিলমারী' by নীলু দাস  গল্প- 'লাউয়ের ডগা' by নূর কামরুন নাহার  গল্প- 'অপূর্ব সৃষ্টি' by পারভীন সুলতানা গল্প- 'ঊনচলিস্নশ বছর আগে' by জামাল উদ্দীন  গল্প- 'সুচ' by জাফর তালুকদার   গল্প- 'বাসস্ট্যান্ডে যে দাঁড়িয়েছিল' by ঝর্না রহমান  গল্প- 'গন্না' by তিলোত্তমা মজুমদার  গল্প- 'ঘুড়িয়াল' by শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়  গল্প- 'প্রক্ষেপণ' by মোহিত কামাল  গল্প- 'গন্তব্য বদল' by রফিকুর রশীদ  গল্প- 'ঝড়ের রাতে' by প্রচেত গুপ্ত  গল্প- 'শুধু একটি রাত' by সাইপ্রিয়েন এক্ওয়েন্সি। অনুবাদ বিপ্রদাশ বড়ুয়া  গল্প- 'পিতা ও কুকুর ছানা' by হরিপদ দত্ত  স্মরণ- 'শওকত ভাই : কিছু স্মৃতি' by কবীর চৌধুরী  সাহিত্যালোচনা- 'রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে পালাকারের নাটক  স্মরণ- 'আবদুল মান্নান সৈয়দ : কবি ও প্রাবন্ধিক' by রাজু আলাউদ্দিন  স্মরণ- 'সিদ্ধার্থ শংকর রায়: মহৎ মানুষের মহাপ্রস্থানে by ফারুক চৌধুরী  গল্প- 'ফাইভ স্টার' by সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম  গল্প- 'নূরে হাফসা কোথায় যাচ্ছে?' by আন্দালিব রাশদী 


দৈনিক ইত্তেফাক এর সৌজন্য
লেখকঃ জাহিদুল হক


এই গল্প'টি পড়া হয়েছে...
free counters

No comments

Powered by Blogger.