ইরানের ভবিষ্যৎ কী হবে কেউ বলতে পারে না, নিবিড় নজর রাখছে ইসরাইল: নেতানিয়াহু

বিক্ষোভ ও রক্তক্ষয়ী দমন অভিযানের পর ইরানে অস্থির পরিস্থিতি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছে তেল আবিব। তেহরান যদি ইসরাইলে হামলা চালায়, তবে ইরানকে ‘এর আগে দেখা যায়নি এমন শক্তির আঘাত’ মোকাবিলা করতে হবে। আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে ইসরাইলি সংসদ নেসেটে দেয়া ভাষণে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এসব কথা বলেছেন। চীনের বার্তা সংস্থা সিনহুয়া এ খবর দিয়েছে। নেতানিয়াহু আরও বলেন, তিনি ইরানের পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছেন। হুঁশিয়ারি দেন, ইরানের ভবিষ্যৎ কী হবে তা কেউ বলতে পারে না। তবে দেশটি আর আগের অবস্থায় ফিরবে না। এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, কোনো সংঘাত হলে তেহরানের জন্য অপরিবর্তনীয় পরিণতি অপেক্ষা করছে।

খবর পাওয়া যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক শক্তিচালিত যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে সরিয়ে নিচ্ছে। ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর কঠোর দমন অভিযানকে কেন্দ্র করে তেহরানের সরকারের সঙ্গে ওয়াশিংটনের টানাপড়েনের মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার মানবাধিকারকর্মীরা জানিয়েছেন, দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভে অংশ নেয়া কমপক্ষে ৪০২৯ জন দমন অভিযানে নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানায়, এ সময়ে ২৬ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী নিহতদের মধ্যে ৩,৭৮৬ জন বিক্ষোভকারী, ১৮০ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, ২৮ জন শিশু এবং ৩৫ জন এমন ব্যক্তি রয়েছেন যারা বিক্ষোভে অংশ নেননি।

তাদের আশঙ্কা, প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি। সংস্থাটি মাঠপর্যায়ের কর্মীদের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রতিটি মৃত্যুর তথ্য যাচাই করে থাকে এবং আগের অস্থিরতার সময়ও তাদের পরিসংখ্যান যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। তবে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় স্বাধীনভাবে এই সংখ্যা যাচাই করা যায়নি। ইরানের দমন অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জন্য দুটি ‘লাল রেখা’ নির্ধারণ করেছেন। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা এবং গণহারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা। কয়েক দিন আগেও দক্ষিণ চীন সাগরে থাকা একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী সিঙ্গাপুর অতিক্রম করে মালাক্কা প্রণালীতে প্রবেশ করেছে, যা এটিকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে নিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করেছে।

বার্তা সংস্থা এপির বিশ্লেষণ করা জাহাজ চলাচল তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দেখা গেছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ আরও কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মালাক্কা প্রণালীতে রয়েছে এবং সেগুলো মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগোতে পারে। লিংকনের সঙ্গে রয়েছে আর্লেই বার্ক শ্রেণির গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার- ইউএসএস ফ্র্যাঙ্ক ই. পিটারসেন জুনিয়র, ইউএসএস মাইকেল মারফি ও ইউএসএস স্প্রুয়েন্স।
মার্কিন গণমাধ্যমগুলো কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, সান ডিয়েগোতে ঘাঁটি করা লিংকন আসলেই মধ্যপ্রাচ্যের পথে রয়েছে। তবে অঞ্চলটিতে এর বিমানগুলো কার্যকর পরিসরে পৌঁছাতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। 

https://mzamin.com/uploads/news/main/199549_Abul-2.webp

No comments

Powered by Blogger.