মাওলানা সুবহান গ্রেফতারের প্রতিবাদে পাবনায় কাল হরতাল

গ্রেফতারকৃত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর সাবেক এমপি মাওলানা আব্দুস সুবহানকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা নস্যাৎ হয়েছে। পুলিশ জামায়াত নেতা আব্দুস সুবহানকে বৃহস্পতিবার রাতে পাবনা জেল হাজতে পাঠিয়েছে।


গ্রেফতারের প্রতিবাদে জামায়াত শনিবার উপজেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ কর্মসূচী এবং রবিবার পাবনা শহরে অর্ধদিবস হরতাল আহ্বান করেছে। পুলিশের ওপর হামলা এবং মহাসড়ক অবরোধের অভিযোগে পাবনা সদর থানায় জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের বিরুদ্ধে ৬টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৮ শতাধিক জামায়াত-শিবির কর্মীকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে। বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইলে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাওলানা সুবহানকে গ্রেফতার করে বিকেলে পাবনা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। তাঁকে পাবনা নেয়ার পথে শহরের প্রবেশ পথে জাফরাবাদ ও জালালপুর নামক স্থানে জামায়াত শিবিরের কয়েক শ’ নেতা-কর্মী গাছের গুড়ি ফেলে মাওলানা সুবহানকে ছিনিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে মহাসড়ক অবরোধ করে। এ সময় জামায়াত-শিবির কর্মীদের হাতে ছিল লাঠি-ফালাসহ দেশীয় অস্ত্র এবং কাঁধে ছিল ভারি ব্যাগ। রাতের অন্ধকারে তারা সরকারবিরোধী বিভিন্ন সেøাগান দেয়। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত এই অবরোধ চলে। অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থল থেকে জামায়াত-শিবির কর্মীদের ব্যারিকেড ভেঙ্গে দেয়। রাতে জামায়াত কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ১০ জামায়াত-শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। ভিন্ন পথে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পুলিশভ্যানে করে রাত ৮টায় মাওলানা সুবহানকে পাবনা জেল হাজতে নেয়া হয়। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সড়ক অবরোধকারীদের চিহ্নিত করতে পুলিশ ফটো ও ভিডিওতে ওঠানো ছবি পরীক্ষা করে আসামিদের শনাক্ত করছে। শুক্রবার সারাদিনব্যাপী জালালপুর, জাফরাবাদ এলাকাসহ পাবনা শহরের কমপক্ষে ১৫টি স্থানে পুলিশ জামায়াত-শিবির কর্মীদের গ্রেফতারের জন্য হানা দেয়।
২০০২ সালে পাবনা সদর থানার চরতারাপুর ইউনিয়নের দুটি গ্রামের আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ৫৮টি বাড়িতে অগ্নি সংযোগ করে জামায়াত-বিএনপির ক্যাডাররা। ওই সময় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। চারদলীয় জোটের সময় পুলিশ চূড়ান্ত রিপোর্ট দেয়ায় মামলাটির অপমৃত্যু হয়। গত এপ্রিল মাসে ইউপি মেম্বর আব্দুল কদ্দুস পুনরায় মাওলানা আব্দুস সুবহান, ২ ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। উক্ত মামলায় আদালত গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করে। মাওলানা আব্দুস সুবহানের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধে মানবতাবিরোধী কর্মকা-ের তদন্ত চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে এই মামলাতেও তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হতে পারে। এদিকে শুক্রবার পাবনা শহরে মুক্তিযোদ্ধারা মাওলানা সুবহানকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে ফাঁসির দাবিতে মিছিল করেছে।

No comments

Powered by Blogger.