নির্বাহী কর্মকর্তাদের দায়মুক্তি দিয়ে আদালত অবমাননা বিল পাস

পাকিস্তানের পার্লামেন্টে গত সোমবার আদালত অবমাননা বিল পাস হয়েছে। নতুন বিল অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীসহ সরকারের অন্য নির্বাহী কর্মকর্তারা তাঁদের পদে থাকার সময় আদালত অবমাননার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন। বিরোধী দল এই বিলকে 'কালো আইন' হিসেবে অভিহিত করে কঠোর সমালোচনা করেছে।


তাদের ভাষ্যমতে, নতুন প্রধানমন্ত্রীকে আদালত অবমাননার হাত থেকে বাঁচাতেই তড়িঘড়ি করে সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে।
আদালত অবমাননা বিল (সংশোধিত)-২০১২ শীর্ষক বিলটি সোমবার রাতে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদে কণ্ঠভোটে পাস হয়। আইন হিসেবে কার্যকর হতে বিলটিকে এখন উচ্চকক্ষ সিনেটের বৈতরণী পার হতে হবে এবং প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের প্রয়োজন হবে।
ধারণা করা হচ্ছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী রাজা পারভেজ আশরাফকে আদালত অবমাননার অভিযোগ থেকে বাঁচাতেই নতুন আইন পাসের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা চালু করতে সুইজারল্যান্ডে চিঠি পাঠানোর ব্যাপারে অবস্থান জানানোর জন্য আগামীকাল ১২ জুলাই পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে সময় বেঁধে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। জারদারির বিরুদ্ধে চিঠি না পাঠানোর কারণেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানিকে গত ২৬ এপ্রিল দোষী সাব্যস্ত করা হয়। গত ১৯ জুলাই তাঁকে প্রধানমন্ত্রী ও পার্লামেন্ট সদস্যের পদে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী আশরাফ আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো আদালতের কাছে কোনো জবাব পাঠাননি। তবে প্রেসিডেন্ট সাংবিধানিকভাবেই দায়মুক্তি ভোগ করছেন উল্লেখ করে জারদারির বিরুদ্ধে চিঠি না পাঠানোর অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
নতুন বিলে ১৩টি ধারা রয়েছে। এই বিল অনুযায়ী, ক্ষমতায় থাকাকালে প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীসহ নির্বাহী কর্মকর্তারা আদালত অবমাননা-সংক্রান্ত অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাবেন। সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত বা মন্তব্যের জন্য তাঁদের আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না। আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে আদালত অবমাননা-সংক্রান্ত আইন ১৯৭৬ এবং ২০০৩ ও ২০০৪ সালের আদালত অবমাননা-সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে যাবে।
আইনমন্ত্রী ফারুক এইচ নায়ক বিলটি পার্লামেন্টে উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, 'নতুন আইনের ফলে আদালত অবমাননা-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনগুলোর অস্পষ্টতা দূর হবে। বিলটি তড়িঘড়ি করেও পাস করা হয়নি।' এদিকে নওয়াজ শরীফ নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান মুসলিম লীগ (পিএমএল-এন)সহ বেশ কয়েকটি বিরোধী দল এই বিলের বিরোধিতা করছে। এ বিলকে 'কালো আইন' হিসেবে সমালোচনা করছে তারা। ভোটের সময় নওয়াজ শরীফের দল পার্লামেন্ট থেকে ওয়াকআউট করে। দলের মুখপাত্র সিদ্দিকুল ফারুক বলেন, 'শুধু আসিফ আলী জারদারিকে জবাবদিহির হাত থেকে রক্ষার জন্য এ আইনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ ছাড়া এই আইনের কোনো সাংবিধানিক, আইনি বা নৈতিক প্রভাব নেই।' এদিকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ সিদ্দিক খান বালুচ এ বিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন। এই বিল পাসের মাধ্যমে সরকার অসাংবিধানিক ও বেআইনি পদক্ষেপ নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। আবেদনে বিলটি বাতিলের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। সূত্র : এএফপি, ডন।

No comments

Powered by Blogger.