ডেসটিনির ২৪শ’ কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের প্রমাণ পেয়েছে দুদক by মহিউদ্দিন আহমেদ

ডেসটিনি গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৪শ’ কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। এ অপরাধে ১৭ থেকে ১৮ জনের নামে মামলার সুপারিশ করে আজ বুধ অথবা বৃহস্পতিবার কমিশনের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে এসংক্রান্ত তদন্ত কমিটি।


যাদের আসামি করার সুপারিশ করা হবে তাদের মধ্যে আছেন, ডেসটিনি গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল আমিন, শীর্ষ কর্মকর্তা সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব) হারুন-উর-রশিদ ও মোহাম্মদ হোসন, ফারহা দিবা, সেলিনা রহমান, মোঃ সাইদ-উর-রহমান, মোঃ গোফরানুল হক, সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন, মোঃ ইরফাত আহমেদ সানী, তরিকুল হুদা সরকার, মোঃ মেসবাহউদ্দিন সরকার। এ ছাড়া আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে ডেসটিনি গ্রুপের ৩৭টি কোম্পানির আর্থিক অনিয়ম তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন। এ সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির সমন্বয়ক দুদক পরিচালক স্কোয়াড্রন লিডার মোঃ তাহিদুল ইসলাম, উপ-পরিচালক মোজাহার আলী সরদার ও সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম প্রাথমিক তদন্তে বিপুল পরিমাণ অর্থের অনিয়ম পান। ওই রিপোর্টে অনিয়ম দেখা যায়, ডেসটিনির ৩৭টি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এমএলএম, মাল্টিপারপাস এবং ট্রি প্লান্টেশনে। এমএলএম কোম্পানির ৬৬টি ব্যাংক এ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠার পর থেকে চলতি মাসের এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার ৯৬০ কোটি টাক সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৫শ’ ৮৮ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ট্রি প্লান্টেশনের বিভিন্ন প্যাকেজ বিক্রি করে গ্রাহকদের কাছ থেকে ১৩৩টি ব্যাংক এ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ৯২১ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ৯০০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। ডেসটিনি মাল্টিপারপাসের নামে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৪শ’ ৪০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। ওই টাকার ১ হাজার ৪শ’ ১৮ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়। সাউথ ইস্ট ব্যাংকের মাধ্যমে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব) শেখ তৈবুরের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে হস্তান্তর করা হয় ৪৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা। ব্র্যাক ব্যাংক গুলশান শাখার মাধ্যমে রফিকুল আমিন, মোহাম্মদ হোসেন, গোফরানুল হকের নামে মোটা অঙ্কের টাকা নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে হস্তান্তরের প্রমাণ পায় দুদক।
ডেসটিনি এবং সহযোগী এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক এ্যাকাউন্ট থেকে যে সব টাকা উত্তোলন করা হয়েছে সে সব টাকা ব্যয়ের সঠিক হিসাব ডেসটিনির কর্মকর্তারা তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে উপস্থাপন করতে পারেননি। ডেসটিনির ১৪ পরিচালক তাদের ব্যক্তিগত ব্যাংক এ্যাকাউন্ট এবং কোম্পানির যে হিসাব দুদকে জমা দিয়েছে সে হিসাবের সঙ্গে ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্যের অমিল ধরা পড়েছে।
এ ছাড়া বিদেশ থেকে নিম্নমানের পণ্য কম দামে আমদানি করে কোম্পানি ক্রয় মূল্য কাগজপত্রে বেশি টাকা দেখিয়েছে এবং স্বল্প মূল্যে জমি ক্রয় করে কোম্পানির খাতায় ওই জমি বেশি টাকা দেখায়। যে টাকা বেশি দেখানও হয়েছে ওই টাকা কোম্পানির শীর্ষ ব্যক্তিরা নিজের ব্যক্তিগত ব্যাংক ও কোম্পানির স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাবে হস্তান্তর করেছে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নেয়া কয়েক শ’ কোটি টাকা নিজস্ব তহবিলে হস্তান্তর করা হয়। এর পর দুদক প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে দ্বিতীয় দফায় তদন্তে নামে। এ সময় দুদক ডেসটিনি গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল আমীন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজর জেনালে (অব) হারুন-উর-রশিদ, গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তা, সমবায় অধিদফতরের কর্মকর্তাসহ ৩০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এর মধ্যে রফিকুল আমিনকে জিজ্ঞসাবাদ করা হয় কয়েক দফায়। দুদকের পাওয়া তথ্য, ডেসটিনি কর্মকর্তাদের বক্তব্যে, রাজস্ব বোর্ডের ব্যাংক এবং সরকারী-বেসরকারী সংস্থা থেকে পাওয়া তথ্যের অনেক গরমিল পাওয়া যায়।

No comments

Powered by Blogger.