পিপিপিতে বেসরকারি খাত সাড়া দিচ্ছে by শেখ আবদুল্লাহ

দেশি-বিদেশি অনেক উদ্যোক্তাই সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) প্রকল্পের মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিনিয়োগ করতে চাইছেন। ইতিমধ্যে পিপিপির অধীনে বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন মহল থেকে সরকারের কাছে ৬০টি প্রস্তাব এসেছে। এসব প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পিপিপি অফিসের ভারপ্রাপ্ত সিইও এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক মোঃ আবদুল আজিজ সমকালকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। সরকারের পাশাপাশি অবকাঠামো খাতে


বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার ২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেটে প্রথম পিপিপি খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়। পিপিপি উদ্যোগকে সফল করতে এ সংক্রান্ত একটি নীতি ও কৌশল এবং প্রকল্প বাছাই ও অনুমোদন প্রক্রিয়াকরণ সংক্রান্ত নীতিমালা ২০১০ সালের আগস্টে জারি করে সরকার। এ নীতিমালা অনুযায়ী রাজধানীর গুলশানের পিংক সিটির পাঁচ তলায় পিপিপি অফিস স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু গত দুই বছরেও এ অফিসের সিইও নিয়োগ সম্পন্ন করতে পারেনি সরকার। বাজেটে পিপিপি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ থাকলেও সরকার তা খরচ করতে পারেনি। তবে দেরিতে হলেও পিপিপির অধীনে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শুরু হতে চলেছে। এ বিষয়ে পিপিপি অফিসের ভারপ্রাপ্ত সিইও এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক মোঃ আবদুল আজিজ সমকালের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ভারত, চীন, জার্মানির উদ্যোক্তারা পিপিপির অধীনে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে। দেশের কয়েকটি বাণিজ্যিক গোষ্ঠীও আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে। সরকারের কয়েকটি মন্ত্রণালয়ও বেশ কিছু প্রকল্প নির্ধারণ করে পিপিপির অধীনে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাব করেছে।
মোঃ আবদুল আজিজ বলেন, সবাই চাচ্ছে পিপিপির মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হোক। উন্নয়নশীল অনেক দেশ পিপিপির মাধ্যমে কাজ করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে। বড় বড় অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিনিয়োগ করার সামর্থ্য সরকারের নেই। কিন্তু দেশের স্বার্থে এসব প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি। এ চিন্তা থেকেই সরকার ২০১০ সালে পিপিপি নীতিমালা করে। ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় এই তিন ক্যাটাগরিতে এ খাতে প্রকল্প নির্বাচন করা হবে। ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয়সম্পন্ন প্রকল্পকে ছোট, ৫০ থেকে ২৫০ কোটি টাকার ব্যয়ের প্রকল্পকে মাঝারি এবং ২৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের প্রকল্পকে বড় প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এ নীতি বাস্তবায়নে মূল ভূমিকা রাখবে পিপিপি অফিস। পিপিপি অফিসের সিইও নিয়োগের বিষয়টি সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ইতিমধ্যে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত এ সংক্রান্ত সার্চ কমিটি সিইও নিয়োগের বিষয়টি শেষ করে ফেলেছে। যাকে নিয়োগের জন্য মনোনীত করা হয়েছে তিনি ইংল্যান্ড প্রবাসী একজন বাংলাদেশি। তার বেতন ধরা হয়েছে ৫ লাখ টাকা। পিপিপির একটি অর্গানোগ্রামও করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পিপিপির অধীনে বিনিয়োগ করতে বেসরকারি খাত অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক সাড়া দিচ্ছে। ইতিমধ্যে ভারতের নারায়ণ রুদ্রলয় গ্রুপ চট্টগ্রামে ১০০০ শয্যার মাল্টি স্পেশালাইজড হাসপাতাল নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করে প্রস্তাব করেছে। গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের জন্য চীনের সিএমএইচআই ও সিএএমসি নামক দুটি প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগের প্রস্তাব করেছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে ৬০টি প্রকল্প পিপিপির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে বলে প্রস্তাব করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সুনির্দিষ্ট দুটি প্রকল্প পিপিপির অধীনে বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেছে। এ দুুটো প্রকল্পের ব্যয় ৫০ কোটি টাকা করে। এ ছাড়া যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ১০টি প্রকল্প পিপিপির অধীনে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাব করেছে। পদ্মা সেতুও সরকার পিপিপির অধীনে করতে চায়। যদিও এ পর্যন্ত বেসরকারি কোনো উদ্যোক্তা গোষ্ঠী এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়নি। আগামীতে সরকার পরিবর্তন হলে পিপিপি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে কি-না তা নিয়ে উদ্যোক্তাদের মধ্যে সংশয় রয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য পিপিপি কার্যক্রম যাতে অব্যাহতভাবে চলতে পারে সে জন্য সরকার আইন করেছে। ফলে এ ধরনের আশঙ্কার কোনো কারণ নেই।
পিপিপি কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সিইও বলেন, গত মে মাসে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়গুলো তাদের অধীনে পিপিপির নীতিমালায় কার্যক্রম করতে পারবে। জনসম্পৃক্ত খাতে ছোট বড় প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। পিপিপির অধীন কোনো প্রকল্পে সরকার ও বেসরকারি খাত কতটা বিনিয়োগ করবে, কার কতটা মুনাফা থাকবে তা প্রকল্পের ধরন ও আকারের ওপর নির্ভর করবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ খাতের প্রকল্পে সরকার বেশি বিনিয়োগ করে কম মুনাফা নেবে। এ জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে ভিজিবিলিটি গ্যাপ ফাইন্যান্সিং (ভিজিএফ) নামক একটি ইউনিট খোলা হয়েছে। এ ছাড়া দেশের বিভাগীয় পর্যায়ে যে অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন করা হবে সেখানেও পিপিপির অধীনে শিল্প স্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি।

No comments

Powered by Blogger.