সংসদের একাদশ অধিবেশন শুরু, বিরোধী দল যায়নি

প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের বর্জনের মধ্য দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নবম জাতীয় সংসদের একাদশ অধিবেশন শুরু হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ। অধিবেশন আগামী ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এরপর ঈদের জন্য ১৭ দিনের বিরতি দিয়ে ১৪ নভেম্বর থেকে আবার বসবে। অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার বিরোধী দলকে সংসদে যোগ দিয়ে গণতন্ত্র রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।


অধিবেশন শুরুর আগে বিকেল সোয়া ৩টায় স্পিকার অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে সংসদের কার্য-উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আগামী ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত অধিবেশন চালানোর পর ১৪ নভেম্বর বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রতিদিন বিকেল সোয়া ৪টায় অধিবেশন শুরু হবে। অধিবেশনের মেয়াদ নির্ধারণের বিষয়টি স্পিকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে কমিটির সদস্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, তোফায়েল আহমেদ, ফজলে রাব্বী মিয়া, অ্যাডভোকেট মো. রহমত আলী, রাশেদ খান মেনন ও আবদুল মতিন খসরু উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ আমন্ত্রণে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও বৈঠকে যোগ দেন।
কার্য-উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে ৪টা ২২ মিনিটে অধিবেশন শুরু হয়। স্বাগত বক্তব্যে স্পিকার বলেন, সংসদকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলের ভূমিকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিরোধী দলই সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিতে পারে। সংসদে গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে তারা সরকারকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
গণমাধ্যমের সমালোচনা করে স্পিকার বলেন, গণতন্ত্রের স্বার্থে এবং গণমাধ্যমের প্রতি জনগণের আস্থা জিইয়ে রাখতে সাংবাদিকদের আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এটা দুঃখজনক হলেও সত্য, ইদানীং কিছু কিছু পত্রপত্রিকা অতিরঞ্জিত, খণ্ডিত ও মনগড়া সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
স্পিকার আরো বলেন, 'তাই আমি আশা করব, সাংবাদিক বন্ধুরা পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে আরো বেশি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন এবং গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন।'
প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচন
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদ অধিবেশন পরিচালনার জন্য অধিবেশনের প্রথম দিনে পাঁচ সদস্যের চেয়ারম্যান প্যানেল নির্বাচন করা হয়। প্যানেলের সদস্যরা হলেন আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু ও এ বি এম আবুল কাশেম, জাতীয় পার্টির হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বিএনপির জাফরউল্লাহ চৌধুরী ও সংরক্ষিত নারী আসনের রুবি রহমান।
শোক প্রস্তাব গ্রহণ
অধিবেশনের শুরুতেই শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল করিম ব্যাপারী, ডা. মইন উদ্দিন আহমেদ, এ এইচ এম আবদুল হালিম ও এনামুল হক চৌধুরী, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী অজিত রায়, সংসদ সচিবালয়ের কর্মচারী মনোয়ারা বেগমসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে এই শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
বিরোধী দলের বর্জন অব্যাহত
বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা সংসদ অধিবেশন বর্জন অব্যাহত রেখেছেন। একাদশ অধিবেশনের প্রথম দিনে তাঁরা যোগ দেননি। চলতি অধিবেশনে তাঁদের যোগদানের সম্ভাবনা নেই বলে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এর আগের ১০টি অধিবেশনের মোট কার্যদিবস ছিল ২৪১। বিরোধী দলের সদস্যরা গড়ে ১৮৭ দিন অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতি ছিল মাত্র ৫৪ দিন। দ্বিতীয়, তৃতীয়, ষষ্ঠ, সপ্তম, নবম ও দশম অধিবেশনে পুরোপুরিই অনুপস্থিত ছিলেন তাঁরা; পঞ্চম অধিবেশনে যোগ দেন মাত্র এক দিনের জন্য। কার্যত সাতটি অধিবেশনই ছিল বিরোধী দলহীন।

No comments

Powered by Blogger.