অনুতপ্ত সাকিবের শাস্তি পুনর্বিবেচনার আপিল

অনুমিতই ছিল অনুতপ্ত সাকিব আল হাসান শাস্তি মওকুফের জন্য আবেদন করবেন। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের সঙ্গে আগেই সাক্ষাৎ করে আবেদন করার অনুমতি নিয়েছিলেন তিনি। রোববার বিসিবি সভাপতি বরাবর ইংরেজিতে লেখা আবেদন করেন এই অলরাউন্ডার। বল এখন বিসিবির কোর্টে। তারা সিদ্ধান্ত নেবে তার শাস্তির মেয়াদ কমানো হবে কিনা। ছয় মাসের জন্য সব ধরনের ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হয়েছেন সাকিব।

শাস্তি পুনর্বিবেচনা আবেদনে সাকিব লিখেছেন, ‘আমার আচারণের জন্য আমি অনুতপ্ত। ভবিষ্যতে বোর্ডের নিয়মকানন সঠিকভাবে মেনে চলব। আমার শাস্তি পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ করছি।’ বিসিবি ৭ জুলাই শাস্তি দেয়ার পর ফেসবুকে ভক্তদের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন সাকিব। কিন্তু এতদিন সাংবাদিকদের সামনে মুখ খোলেননি তিনি। কাল দুপুরে বিসিবিতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করার মাধ্যমে নিজের আচরণগত সমস্যার কথা স্বীকার করেন তিনি। সাকিব বলেন, ‘আমি স্বীকার করছি যে, একজন পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে এবং বোর্ডের চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার হিসেবে অনেক ক্ষেত্রেই যথাযথ শৃংখলা ও সংযত আচরণ প্রদর্শন করতে পারিনি। ভবিষ্যতে আমি আরও পরিণত আচরণ করার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’ এদিন ফেসবুকেও সাকিব অনেকদিন পর মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে যাওয়ার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেছেন, ‘অনেকদিন পর আজ (রোববার) মিরপুরে গেলাম। খুব মিস করেছি এই কয়েকদিন। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি দ্রুত আবার ক্রিকেটে ফিরতে চাই।’
এদিন দুপুরে বিসিবি কার্যালয়ে এসেই ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান এবং শ্রীলংকান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের সঙ্গে কথা বলেন সাকিব। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিসিবি মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমাম, ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির ম্যানেজার সাব্বির রহমান ও ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারায়ন। তবে আপিল করলেও বোর্ডের সিদ্ধান্তর জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে সাকিবকে। শাস্তি কমানোর প্রক্রিয়া কি হবে এমন প্রশ্নের জবাবে বিসিবির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আপনারা জানেন, এটা বোর্ডের সিদ্ধান্ত। অবশ্যই যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানাব। বোর্ড এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।’ প্রক্রিয়া শেষ হতে কত সময় লাগবে এটা জানতে চাইলে নিজামউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘সময় কত লাগবে তা এখনোই বলা যাচ্ছে না। আমার তরফ থেকে আমি পাঠিয়ে দেব। তারপর বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে।’
শাস্তি ঘোষণার পর সাকিব একবার আকরাম খানের সঙ্গে দেখা করে ফিরে আসার কথা জানিয়েছেন। কয়েকদিন বাইরে থেকে ক্রিকেটে ফিরে আসার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছেন এই অলরাউন্ডার। অনুশীলনে ফিরতে চান তিনি। সঙ্গে সব ধরনের ক্রিকেটেও খেলতে মুখিয়ে আছেন। কিন্তু এখন সাকিব অনুশীলনের সুযোগ পাবেন কিনা সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সাকিবের অনুশীলন নিয়ে আকরাম খান বলেন, ‘সাকিব চায় সে অনুশীলন করুক এবং ক্রিকেটে ফিরুক। কিন্তু বোর্ড কোচের সঙ্গে আলোচনা করে পারিকল্পনা তৈরি করবে। এরপর সিদ্ধান্ত হবে সে কিভাবে অনুশীলন করবে।’ তিনি বলেন, ‘বিসিবির পরবর্তী সভায় সম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হবে তার শাস্তি মওকুফ হবে কিনা।’
আচারণগত সমস্যার কথা তুলে ধরে সাত জুলাই সাকিবকে ছয় মাসের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে বহিষ্কার করে বিসিবি। একই সঙ্গে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাকে বিদেশে কোনো লীগ খেলার জন্য অনাপত্তিপত্র দেয়া হবে না বলেও জানায় বিসিবি। বিভিন্ন সময়ে সাকিবের অসদাচরণের কথা মাথায় রেখে বোর্ডের সর্বসম্মিতিক্রমে শাস্তি ঘোষণা করেন বিসিবি সভাপতি। সাকিবের সর্বশেষ অপরাধ, তিনি কোচের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছিলেন। এছাড়া টেস্ট থেকে অবসর নেয়ারও ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে শাস্তি ঘোষণার দিন বিসিবি সভাপতি এটাও জানিয়ে দেন, আপিল করার সুযোগ থাকছে সাকিবের। তবে শাস্তি চলাকালীন সাকিব অনুশীলন চালিয়ে যেতে পারবেন।
গত সপ্তাহে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের কাছে শাস্তি কমানোর অনুরোধ জানান সাকিব। নাজমুল হাসান সাকিবকে শাস্তি কমানোর ইঙ্গিত দিয়ে বোর্ডের কাছে আবেদন করতে বলেন। বোর্ড সভাপতির ইঙ্গিত পেয়েই সাকিব আপিল করেছেন। বিসিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, সাকিবের শাস্তি কমবে।


No comments

Powered by Blogger.